Naya Diganta

দুর্নীতি প্রতিরোধে উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান টিআইবির

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় টিআইবি মানববন্ধন করে :নয়া দিগন্ত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সয স্তরের মানুষ যেন সোচ্চার প্রতিবাদ ও ভূমিকা পালন করতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে, অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অভীষ্টের কার্যকর বাস্তবায়নে অভীষ্ট-১৬ এর ওপর সর্বাধিক প্রাধান্য নিশ্চিতসহ চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বাস্তব সুফল নিশ্চিতে কোনোপ্রকার ভয় বা করুণার ঊর্ধ্বে থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’ এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে এ দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ টিআইবি সদস্য ও কর্মীবৃন্দ, টিআইবির অনুপ্রেরণায় ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইয়েস গ্রুপের সদস্য ও সমমনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন সনাক সদসস্যবৃন্দ, সচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস), ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের সদস্যবৃন্দসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চলমান অভিযান দেশবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছে। এ অভিযান দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ের গুরুদায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর একার নয়, এ জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানসমূহকে কোনো প্রকার ভয় বা করুণার ঊর্ধ্বে থেকে সকল প্রকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতপূর্বক দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে।
মানববন্ধনে দুর্নীতিবিরোধী ১০টি সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি। দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের টিআইবি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বিবেচনার জন্য সুপারিশগুলো দেয়।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বাস্তব সুফল নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’ এ অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংগঠনসমূহ যাতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারে তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, সব নাগরিকের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অব ফরেন ডোনেশন (ভলান্টারি এক্টিভিটিস) রেগুলেশন অ্যাক্ট’র বিবর্তনমূলক ধারাসমূহ বাতিল, সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ এর বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল, ঋণখেলাপিতে জর্জরিত রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন ব্যাংক খাতে দুর্নীতি ও জালিয়াতি এবং বেসরকারি ব্যাংকের নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়নের জন্য নিরপেক্ষ যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে।
এ ছাড়া বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগগকারী সংস্থার পেশাদারিত্বের পাশাপাশি উৎকর্ষ কার্যকারিতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগ যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর কার্যকর প্রয়োগে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত, বিশেষ করে তথ্য আবেদনকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন ২০১১ বাস্তবায়নে একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আইন সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি নিতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর সব প্রকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তদারকি মুক্ত রাখতে হবে। অন্য দিকে দুদকের নেতৃত্বপর্যায়ে ব্যক্তিদের অকুতোভয় সৎসাহস যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন হতে হবে। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে।