Naya Diganta

প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুন্দরবনের রাসমেলা পণ্ড হওয়ার আশঙ্কা

প্রতিবারের মতো এবারো রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে আগামীকাল ১০ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী সুন্দরবনের দুবলারচরে ‘রাস পূর্ণিমা পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ও উৎসবকে কেন্দ্র করে সেখানে বসবে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলন মেলা। নিরাপদে পুণ্যস্নানে যাতায়াতের জন্য দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ এবারো আটটি পথ নির্ধারণ করেছে।
সকল পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। অনুমোদিত আটটি পথ হলো: বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলা নদী- বলনদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী হয়ে দুবলারচর। কদমতলা থেকে ইছামতি নদী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া-কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর। কৈখালী স্টেশন হয়ে মাদার গাং, খোপড়াখালী ভারানী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া-কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর। কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা-শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর। নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর। ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর। বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর এবং শরণখোলা স্টেশন-সুপতি স্টেশন-কচিখালী- শেলার চর হয়ে দুবলার চর। টিকিট নিজের সাথে রাখতে হবে। প্রতিটি লঞ্চ, নৌকা ও ট্রলারকে মেলা প্রাঙ্গণে কন্ট্রোলরুমে আবশ্যিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ সব তথ্য জানিয়েছেন।
কিন্তু সর্বশেষ শুক্রবার রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার যা ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। যার ফলে মেলা রীতিমতো বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীরা।
দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীরা বলে, কোস্ট গার্ড ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলে টোকেন ও টিকিট ছাড়া হবে না আর তাই আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলে রাসমেলা পণ্ড হওয়ার আশঙ্কাই মূলত জেঁকে বসেছে।