Naya Diganta

দুই গোয়েন্দার অভিযান

আঠার.

‘ওই ঘরটা কিসের?’ সন্দিহান চোখে বন্ধ দরজার দিকে তাকাল সওদাগর।
‘কিসের ঘর আর হবে? নিশ্চয়ই স্টোর রুম। বাতিল জিনিসে ভর্তি।’
লোকটাকে প্রায় টেনে নিয়ে বেরিয়ে গেল হারিস মোল্লা। গেদু চাচাও চলে গেলেন।
আবার দরজাটার দিকে মনোযোগ দিলো দুই গোয়েন্দা। দরজার হ্যাচবোল্টটা চোখে পড়ল। তালা দেয়া।
‘ঢুকতে পারলে ভালো হতো,’ টর্চের আলোয় দেখতে দেখতে বলল সুজা। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল সে। ‘কিন্তু ঢোকার জন্য চাবি লাগবে।’
‘চাবি পাবে কোথায়?’
‘হারিস মোল্লার কাছে।’
‘ও দেবে না। থাকলেও দেবে না। আর আমার কি মনে হয় জানো? চাবি নেই ওর কাছে। এখানে যে এ রকম একটা ঘর আছে, তাই জানে না। আমাদের আগে এ ঘরে কেউ ঢোকেনি। তাহলে বদ্ধঘরের রহস্য জানাজানি হয়ে যেত।’
‘তাহলে ওরা এলো কেন এ দিকে?’
‘নিশ্চয়ই আমাদের আসতে দেখেছে আলাল সওদাগর। এদিকে কী আছে দেখতে এসেছে। বাড়ি কিনতে এসেছে, দেখেশুনে কিনবে না?’
‘হুঁ।’ চিন্তিত ভঙ্গিতে দরজাটার দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবতে লাগল সুজা। আচমকা ঘুরে দাঁড়াল। ‘চল, যাই। আজ আর সময় নেই। কালকে ঢোকার চেষ্টা করব।’

সেই রাতেও ঘুম আসতে চাইল না রেজার। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছে। গত ক’দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কান খাড়া। বারান্দায় পায়ের শব্দের আশায় কিনা বুঝতে পারছে না। ঝিঁঝিঁর ডাক ছাড়া আর কিছুই কানে আসছে না।
(চলবে)