Naya Diganta

দুই দলের লক্ষ্যই ‘জয়’

সব ফরম্যাটের ক্রিকেটে পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বাংলাদেশ। ক্রিকেট পাগল জাতিকে হতাশা মুক্ত করতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

ট্রফি জয়ের মাধ্যমেই ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পরাজয়ে দু:খ দূর করার লক্ষ্য নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজের বাকী দল দুটি হচ্ছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। আগামীকাল শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি মিশন শুরু করবে টাইগাররা। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি।

ডাবল লীগের এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলই দুইবার করে একটি দলের সঙ্গে প্রাথমিক পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দেশের দু’টি ভেন্যু ঢাকাস্থ মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের ম্যাচগুলো।

তবে স্বাগতিক হলেও সিরিজ জয় করা কঠিন হবে টাইগারদের জন্য। কেননা তারা এখনো টি-২০ ক্রিকেটের সংস্কৃতি শেখে উঠতে পারেনি। এছাড়া আফগানিস্তানের কাছে টেস্টে হারের লজ্জা স্বাগতিক দলের আত্মবিশ্বাসে চির ধরিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ভার্সনে নিজেদেরকে বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে আফগানিস্তান।

একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানদের ২২৪ রানের জয়টি ছিল অপ্রত্যাশিত। কারণ সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেটেরই ফেভারিট হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এসেছে আফগানিস্তান। এই ফর্মেটের ক্রিকেটেই তারা বেশি সফলতা পেয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল আফগানিস্তান। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে চারটি টি-২০ ম্যাচ খেলেছে আফগানিস্তান। তন্মধ্যে তিনটিতেই জয়লাভ করেছে। অপরদিকে জিম্ববুয়ের বিপক্ষে ৭ ম্যাচে অংশ নিয়ে সবক’টিতেই জয়লাভ করেছে গৃহযুদ্ধে জর্জারিত দেশটি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানরা কতটা শক্তিশালী হবে। যে কারণে আসন্ন টুর্নামেন্টে তারাই শিরোপার ফেভারিট। নিমিষেই চুর্ণবিচুর্ণ করে দিতে পারে স্বাগতিকদের প্রত্যাশাকে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বাংলাদেশ খুব বেশি সফল হতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের ওই দেশটির সঙ্গে এ পর্যন্ত ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। সেখানে ৫টিতে জয় পেলেও হেরেছে চার ম্যাচে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বাংলাদেশে দল দু’টি এই ফর্মেটের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছ। ড্র হয় দুই ম্যাচের ওই সিরিজটি। এই মুহূর্তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগামীকালের ম্যাচের দিকেই বেশি মনোযোগী স্বাগতিকরা। কারণ দুই দলের ম্যাচ দিয়ে কাল শুরু হচ্ছে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টটি।

সিরিজে টাইগারদের মুল লক্ষ্য থাকবে জয়ের ধারায় ফিরে আসা। কারণ পরাজয়ের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ তিন টেস্টে টানা পরাজয় বরণ করেছে দলটি। হেরেছে সর্বশেষ ৫টি ওয়ানডে ম্যাচে। এমনকি টি-টোয়েন্টি সিরিজেও পরাজিত হয়েছে টাইগাররা। সুতরাং একটি জয় পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের করবে বাংলাদেশকে। সেটি যে ফর্মেটেই হোক না কেন। দলের আত্মবিশ্বাস ফেরাতেও টাইগারদের জন্য একটি জয় জরুরী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সহজ জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নিলেও হেরে গেছে বড় ব্যবধানে। যা দলের মনোবলকে আরো দূর্বল করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অবশ্য এই হারকে দেখছে একটি দূর্ঘটনা হিসেবে। বোর্ডের মতে, ক্রিকেটররা যদি নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে পারে তাহলে ত্রিদেশীয় টি-২০ টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ওই ব্যর্থতাকে চাপা দিতে পারবে।

এমনকি অনিচ্ছা সত্ত্বেও সাকিব আল হাসানকে টেস্ট ক্রিকেটে খেলানো কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিল, কিংবা আফগানিস্তানের কাছে টেস্টে হারের পর তিনি দলীয় নেতৃত্ব নিতে কতটা ইচ্ছুক এসব কিছু নিয়েও চলছে আলোচনা। যদিও এসব পেছনে ফেলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধকতার দেয়াল ভেঙ্গে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। আসন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও সাকিব নেতৃত্ব দিবেন এবং সবকিছু সামলে নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দলের এই তারকা অল রাউন্ডার বলেন, ‘প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আমাদের জয় প্রয়োজন। আমরা যদি সফল হতে পারি তাহলে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। টেস্টের জন্য নির্বাচিত খেলোয়াড়দের অধিকাংশই আছেন টি-টোয়েন্টি দলে। তাই সবাইকেই এখন টেস্ট ফর্মেট থেকে বেরিয়ে টি-২০ ম্যাচের মেজাজে ফিরতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের পারফর্মও করতে হবে। এটি অবশ্য আমাদের জন্য কঠিন হবে। তবে টুর্নামেন্টে ভাল একটি সূচনা পাবার জন্য প্রথম এই ম্যাচে জয় পাওয়াটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’