Naya Diganta

ছাত্রলীগের দুর্নীতি : ভিসি সহযোগী!

ছাত্রলীগের দুর্নীতি : ভিসি সহযোগী!

দেশের প্রধান দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, ভিসিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, একজন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের একটা বড় অংশ ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন নিজে উদ্যোগী হয়ে। অন্যজন ছাত্রলীগ নেতাদের ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিতে গিয়ে নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়মবহির্ভূতভাবে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছেন।
প্রথম ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্র-শিক্ষকেরা। দ্বিতীয় ঘটনায় দুর্নীতির ব্যাপারটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সংবাদমাধ্যমের ওপর বেজায় চটেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।

ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে এখন ক্ষমতাসীন দল ও তাদের মুরব্বি সংগঠন আওয়ামী লীগের মধ্যে সমালোচনা হচ্ছে। দলীয় সভানেত্রী ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু যারা ছাত্রদের ন্যায়নীতি শেখাবেন, সত্যের পক্ষে অবিচল থাকবেন বলে শপথ নিয়েছেন, সেই ভিসিদের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কী সিদ্ধান্ত, সেটা জানা যাচ্ছে না।

ভিসির আলোচ্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকেরা আন্দোলনে নেমেছেন। উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছেন তারা। এ জন্য তারা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করছেন। ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিক্ষোভকারীদের সাথে বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা তার তত্ত্বাবধানে কোনো সমঝোতার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তাদের যুক্তি হচ্ছে, ভিসি নিজেই অভিযুক্ত। সুতরাং তার সাথে বসার কোনো অর্থ হতে পারে না। ফারজানা বাংলাদেশের ইতিহাসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী ভিসি। সরকার অনেক আগ্রহ নিয়ে তাকে দেশের একমাত্র ‘সম্পূর্ণ আবাসিক’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ করেছে। প্রথমবারের কার্যক্রমে সর্বোচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা খুশি হওয়ায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপে পাঁচটি নতুন আবাসিক হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাড়ে চার শ’ কোটি টাকা। পত্রিকার রিপোর্ট মাফিক, এই টাকা থেকে ছাত্রলীগকে গত ঈদুল আজহার আগে দুই কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘মধ্যস্থতা’ করেছেন স্বয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। টাকা দেয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্প ‘বাধাহীনভাবে’ যাতে সম্পন্ন হতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিবদমান তিনটি গ্রুপকে দেয়া হয়েছে এক কোটি টাকা। এর অর্ধেক পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ২৫ লাখ পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদক, বাকি অংশ পেয়েছে তৃতীয় একটি পক্ষ। আর এক কোটি টাকা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে। এ টাকা সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে। কর্মী ও নেতারা এক থেকে পাঁচ হাজার টাকার ভাগ পেয়েছেন।

পদাধিকারীরা পেয়েছেন ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতারা এ ধরনের ভাগাভাগির ব্যাপার অস্বীকার করলেও স্বয়ং ভিসির বাসভবনে দীর্ঘ এক বৈঠকে টাকা ভাগাভাগি করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো সংবাদমাধ্যমের কাছে জানায়। খবরে প্রকাশ, ছাত্রলীগের তিন গ্রুপের চার নেতা ভিসির সাথে বৈঠক করেছেন। এতে ভিসির পরিবারের দুই সদস্যও অংশ নেন।

ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে চাঁদাবাজি করার অবাধ সুযোগ পেত। এ জন্য সরকারের বদলের পরপর ক্যাম্পাসের দখলও বদলে যেত। এরপর চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে শুরু হতো আধিপত্য ও দখলের লড়াই। বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে চাঁদার বণ্টন আপসের সাথে চললে সমস্যা হবে না বলে মনে করা হয়েছে। এক পক্ষ নিজেকে বঞ্চিত মনে করলে কিংবা তাদের ভাগ আরো বেশি হতে হবে, এমন মনে করা হলে অমনিই অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হতো। ফলে ক্যাম্পাসে অনেক লাশ পড়েছে। ক্যাম্পাস দখলে রাখা এবং ক্যাডার পোষা সাধারণ একটি ব্যাপার। এখন চাঁদা নিয়ে মারামারি ও খুব একটা হইচই দৃশ্যত নেই। হয়তো বা চাঁদাবাজি থেকে যে অর্থ আসে, সেটা নেতাদের কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় নয়। স্থানীয় ছিঁচকে চাঁদার পরিমাণ এখনো সম্ভবত হাজার ও লাখের অঙ্কে রয়ে গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে যে অর্থ ছাত্রলীগের জন্য ভিসি মধ্যস্থতা করে দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটা কোটির অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে। মানে, এখন বড় বড় সব ভাগবাটোয়ারা। বরং ভিসি নিজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তবে ব্যাপারটা কি মোটেও ভালো হলো?

ভিসি যে ‘ডিল’ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সেটা ছিঁচকে চাঁদাবাজির চেয়ে পরিমাণে অনেক বেশি। আলোচ্য প্রকল্পের শুরুতে দুই কোটি দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগকে। মূল প্রকল্পের তিন ভাগের এক ভাগ বা তারও কম অর্থের বিপরীতে তারা দুই কোটি পেয়েছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আরো দুই গুণ তারা পাবেন। তাহলে তারা সম্ভবত ছয় কোটি বা তারও বেশি অর্থ পেতে যাচ্ছেন।

‘তিনি’ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী ভিসি। একইভাবে ‘স্মরণীয়’ হয়ে যেতে পারেন ছাত্রলীগের সাথে উন্নয়ন প্রকল্প ঠিকাদারদের ‘ডিল’ করে দেয়ার জন্য। ভিসিরা এমন ডিল করেছেন বলে আগে কখনো জানা যায়নি। একটি তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে নিশ্চিত খবর দিতে পারলে ব্যাপারটি পাকা হয়ে যাবে। মুশকিল হলো, এ ব্যাপারে ‘পাকা খবর’ বের করতে কর্তৃপক্ষ উৎসাহিত নয়। এত বড় অভিযোগের ব্যাপারে চুপচাপ থাকাই তাদের কৌশল। কেঁচো তারা খুঁড়তে চান না। ফলে ভিসি আপাতত নিরাপদ। একই সাথে ছাত্রলীগেরও এ নিয়ে টেনশনের আলামত নেই। ওই মহিলা শিক্ষক যদি তৃতীয়বারের মতো জাহাঙ্গীরনগরের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান তাহলে অর্থ ভাগাভাগিটা ভবিষ্যতের জন্যও নিরাপদ হয়ে যেতে পরে।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে ছাত্রলীগের আরেকটি ডিলের খবর প্রকাশ পেল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এই ভিসি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন না; বরং সরকার ঘনিষ্ঠ ছাত্রলীগকে অবৈধ সুবিধা দেয়ার জন্য নিয়মকানুন ভাঙতে মধ্যস্থতা’ করেছেন। প্রকাশিত খবরের বিস্তারিত বিবরণে জানা যাচ্ছে, ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের ৩৪ জন নেতা সঙ্কটে পড়ছিলেন। কারণ, তারা ঢাবির ছাত্র না হওয়ায় ডাকসুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছিলেন না। ছাত্রত্ব ‘নিয়মিত’ করতে সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। পত্রিকা লিখেছে, সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমে ভর্তির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যাবে। তারপর আবেদনকারীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এসব পরীক্ষার ফল, আগের একাডেমিক ফল এবং কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে সমন্বিত ফল তৈরি করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে যৌথভাবে দুই বছর মেয়াদি এই প্রোগ্রাম চালু হয় ২০১৭ সালের মাঝামাঝি। ডাকসু নির্বাচনের আগে এই প্রোগ্রামের সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। ৩০ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ হলো জানুয়ারিতে। অথচ ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেন ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর।

ছাত্রলীগের ৩৪ নেতা অবৈধভাবে ভর্তি হয়েছেন- সংশ্লিষ্ট পত্রিকাটি এমন মন্তব্য করেনি। তবে তারা অনুসন্ধান করে ব্যাপারটি এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাতে এ ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ওই ছাত্রদের ভর্তি বৈধপ্রক্রিয়ায় হওয়া সম্ভব ছিল না। প্রোগ্রামের পরিচালকের কাছে প্রতিবেদক এই ৩৪ ছাত্রের ভর্তির বিষয়ে জানতে চান। তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে তাকে জানান। নিয়ম অনুযায়ী, ভর্তি হয়ে থাকলে সেটা তার জানার কথা। এখন পরিচালক পরিবর্তন করা হয়েছেন। এবার প্রতিবেদক এ ব্যাপারে তার কাছে জানতে চান। তিনি জানান, ওই সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। এ ব্যাপারে কেউ সরাসরি কিছু বলতে চান না। কী কারণে সম্ভাব্য একটা মহাদুর্নীতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন লুকোচুরি, সেটা বিশেষ অনুসন্ধানের বিষয়। পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি হওয়া এই ‘ছাত্রদের’ তালিকাও দিতে চান না পরিচালক ও অফিস সহকারীরা। অর্থাৎ একটি বড় অন্যায়কে সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে ঢাকতে চাচ্ছেন।

এই নেতাদের নামের সন্ধান মিলেছে ডাকসুর হলভিত্তিক ভোটার তালিকায়। তাদের নামের পাশে ওই বিভাগের নাম লেখা রয়েছে। কোনো ধরনের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা ছাড়া কিভাবে ওই নেতারা এই বিভাগে ভর্তি হয়েছেন, সে ব্যাপারে এক অফিস সহকারীর উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগ নেতারা উপাচার্য বা ডিনের সই করা চিরকুট তাদের কাছে নিয়ে আসেন। এর ভিত্তিতেই তাদের ভর্তি ফরম এবং টাকা দেয়ার রশিদ সরবরাহ করা হয়। শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এরা কেউ ক্লাস পরীক্ষায় অংশ নেননি। হাজিরা খাতায়ও তাদের নাম পাওয়া যায়নি। ভর্তি হওয়া ছাত্রদের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেন আটজন, জয় লাভ করেন সাতজন। হল ভিপি পদে অংশ নিয়ে দুইজনের একজন জয় পেয়েছেন।

সান্ধ্যকালীন হওয়ায় ভর্তির প্রক্রিয়াটি তার ‘জানা নেই’ বলে প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান ঢাবি ভিসি। তার সই করা চিরকুটের ব্যাপারে সরাসরি কোনো প্রশ্ন করা হয়েছে কি না বোঝা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রতিবেদক জানতে পারলেন, ডিনও স্বয়ং ভিসির চিরকুটের ভিত্তিতে ওই বিভাগের দায়িত্বশীলরা এই নেতাদের ভর্তি করতে বাধ্য হন। এদিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ভিসির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে ওই সংবাদমাধ্যমে। পত্রিকাটির প্রথম পাতায় সেটি ছাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ‘অবাস্তব, অসত্য ও দায়িত্বহীন’ তথ্য প্রচার না করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন ভিসি। কোন তথ্যটি অবাস্তব ও অসত্য, সেটা তিনি উল্লেখ করেনি। ৩৪ জন ছাত্র কিভাবে এ সাথে একই বিভাগে ভর্তি হলেন, এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য নেই। ওরা নিয়ম ভঙ্গ করে ভর্তি হয়ে থাকলে তাতে ভিসি কি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন?

ডিনের অবস্থানটি আরো গুরুতর। নিয়ম ভঙ্গ করে ভর্তি করানোর কাজটি বৈধ করেছেন কি না, পত্রিকার প্রতিবেদকের কাছে সেই উত্তর তিনি দেননি; কিংবা তিনি তুলে ধরেননি কতটা প্রয়োজনে এমন নিয়ম ভঙ্গের কারণ ঘটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় প্রতিবেদকের ওপর তিনি চটে গেছেন। তাকে লক্ষ্য করে ডিন বলেছেন, ‘আপনি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে খোঁজখবর করছেন। আপনি ডাকসুর যেসব নেতার সাথে কথা বলেছেন, তারাও আমার কাছে এসেছিল। আপনি তাদের কাছে উল্টাপাল্টা জিজ্ঞেস করেছেন। আপনি আমাদের ‘ম্যালাইন’ করার জন্য কিছু একটা লিখতে চাচ্ছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আপনার সাথে এ বিষয়ে কথা বলব না।’

বাংলাদেশে দুর্নীতিকারীদের মনোভাব অনেকটা অভিন্ন। এ দেশে যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত, তারা এ অপকর্মকে নিজেদের জন্য বৈধ মনে করেন। একটির পর একটি বড় বড় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, কিন্তু সেগুলোর বিচার হচ্ছে না কিংবা বিচার হলেও অনেক ফাঁক থেকে যাচ্ছে। যারা ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত, তারা পার পেয়ে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। ফলে দুর্নীতি করেও ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্তরা বুক ফুলিয়ে চলছে। এ ব্যাপারে কোনো খবর নিতে যারা যাচ্ছেন, তাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন দুর্নীতিবাজরা।

ক্ষমতাসীনদের পক্ষ নিয়ে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ যখন নিয়মবিধি ভাঙছেন, সেটা দুর্নীতির মধ্যে পড়ছে না কেন? সে ব্যাপারে কোনো তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্ষমতার অংশীদাররা যা কিছু করছেন, সেটা যেন ‘অন্যায়’ নয়। দুদককে এমন দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত হতে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এখন প্রধানত, ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থের রক্ষক। সেটা অন্যায় বা ন্যায্য যাই হোক।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। যারা এ ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সুনাম রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর ১১ মার্চ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে ডাকসু নির্বাচন। প্রশাসন একচেটিয়াভাবে ছাত্রলীগের পক্ষপাতিত্ব করেছে বলে সব ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও কোনো পাত্তা দেয়া হয়নি। এখন নির্বাচিত ছাত্র নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা তদন্ত করা অপরিহার্য। ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেও এটা জরুরি। এ অভিযোগের পর ডাকসুর অভিয্ক্তু কর্মকর্তাদের নৈতিক অবস্থান শূন্য হয়ে গেল।
[email protected]