Naya Diganta

মইনুলের জামিন বাতিলকারী বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় সুপ্রিম কোর্ট বার

সুপ্রিম কোর্ট বারের সংবাদ সম্মেলন

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন বাতিলকারী বিচারক তফাজ্জল হোসেনের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এ দাবি করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, গণফোরাম নেতা ও সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, এ বি এম ওয়ালিউর রহমান খান, গোলাম রহমান ভূইয়া, বারের সহ-সম্পাদক শরীফ ইউ আহমেদ, সাবেক সহ-সম্পাদক এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, কার্যকারী সদস্য কাজী আখতার হোসাইন ও মো: ওসমান চৌধুরীসহ অনেকেই।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সম্পূর্ণ বে-আইনীভাবে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সব আইনজীবীর জন্য এটা লজ্জার ব্যাপার। আমরা অবিলম্বে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন বাতিলকারী বিচারক তফাজ্জল হোসেনের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের অন্যতম হচ্ছে বিচার বিভাগ। ফরমায়েশী আদেশের জন্য একদিন বিচার বিভাগকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে ফরায়েশী আদেশ থেকে দেশের জনগণকে মুক্তি দিতে আহবান জানান।

খোকন বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। অথচ জামিনযোগ্য মামলায় তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তা খুবই দুঃখজনক। আমরা মনে করি ফরমায়েশী আদেশের কারণে এটি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক ও বর্তমান নেতারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ব্যারিস্টার খোকন জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং প্রধান বিচারপতি দেশে আসার পর বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বারের সংবাদ সম্মেলন শেষে আইনজীবীরা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতির কক্ষের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অবিলম্বে মইনুল হোসেনেকে মুক্তি দেয়ার দাবি এবং জামিন বাতিলকারী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।