Naya Diganta

ডেঙ্গুজ্বরে নতুন আক্রান্ত ১৭০৬ জন

ডেঙ্গুজ্বরে নতুন আক্রান্ত ১৭০৬ জন

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত শনিবারের চেয়ে বেড়েছে। গতকাল সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৭০৬ জন। গত শনিবার ছিল এক হাজার ৪৬০ জন। ঈদের আগের চেয়ে এ সংখ্যা অনেক কম। ঈদের আগে আড়াই হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতো। গত কয়েক দিন দুই হাজারের ঘর অতিক্রম করছে না। গতকাল রোববার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল সাত হাজার ১৬৮ জন। সরকারি তথ্য অনুসারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল কোনো মৃত্যু ছিল না। ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে শক সিনড্রোমের রোগীগুলো। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাত্র দুইজন ডেঙ্গু আক্রান্ত শক সিনড্রোমে ভুগছিলেন। হেমোরেজিকের কোনো রোগী ছিল না। 
গতকাল রাজধানীর চেয়ে রাজধানীর বাইরের অন্যান্য এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ছিল। রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭২ জন। রাজধানীতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭৩২ জন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৫৭ এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ছিল ২৭৭। 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার দুপুর ১২টায় পূর্বের ২৪ ঘণ্টায়) ৯৭ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালে ৯৩ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৯, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫২, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬, পুলিশ হাসপাতালে ২১, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬১, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ২১ জন, বিজিবি হাসপাতালে তিনজন। ঢাকার বাইরের ঢাকা বিভাগে ২৫২, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮৮, খুলনা বিভাগে ১৩৩, রাজশাহী বিভাগে ১২০, রংপুর বিভাগে ৬৩, বরিশাল বিভাগে ১৪০, সিলেট বিভাগে ১৯ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

মৃত্যুর সংখ্যা সরকারিভাবে ৪০ জনের হিসাব দেয়া হয়েছে। রোগ তত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট সম্ভাব্য ৭০টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৪০টি মৃত্যু ঠিক ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে। 
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মেহেদী হাসান তালুকদার নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মেহেদী কামারখন্দ উপজেলার হালুয়াকান্দি গ্রামের আমিনুল ইসলাম মন্নু তালুকদারের ছেলে ও সরকারি হাজী কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজের একাদশ প্রথম বর্ষের ছাত্র। শনিবার রাত ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফরিদুল ইসলাম জানান, মেহেদী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর ১৪ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ছাড়া শনিবার রাত পর্যন্ত জেনারেল হাসপাতালে ৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ১৯ জন রোগী ভর্তি ছিল।

বগুড়া অফিস জানায়, জেলার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে বর্তমানে ১৩৩জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ৯৯ জন। জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগী বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৩৩ জন। এর মধ্যে মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ১৩ জন, টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, সোনাতলা উপজেলা হাসপাতাল, সিটি ক্লিনিক, ডক্টরস ক্লিনিক ও ইনডিপেনডেন্ট হাসপাতালে একজন করে, শেরপুর হাসপাতালে তিনজন, শামছুন্নাহার ক্লিনিকে চারজন। সূত্র জানায়, গত ২০ জুলাই থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়েছে ৫৫০ জন।
রাজবাড়ী সংবাদদাতা জানান, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ৩২ জন, পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১০ জন, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুইজনসহ মোট ৪৪ ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত ২২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১০ রোগী চিকিৎসা নিতে সদরসহ উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা: মো: মাহফুজার রহমান বলেন, প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে, এ পর্যন্ত রাজবাড়ীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৪০ জন। তিনি বলেন, বিভিন্ন হাসাপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় কোনো ক্রটি হচ্ছে না।
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। জেলায় এ পর্যন্ত ৬৩৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজু নামে এক ব্যক্তি। গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১৩১ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫৩ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে প্রতিদিন জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে ভিড় জমাচ্ছে শতাধিক ব্যক্তি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন। জেলা হাসপাতাল ও মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। সিভিল সার্জন ডা: আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৫০২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছে ১২৮ জন। ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ৪৬ জনকে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরো ১ জনের মৃত্যু
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রাসেল মিয়া (৩৫)। তিনি গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৩টায় কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সন্ধ্যা ৬টায় মারা যান। রাসেল কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মঞ্জু মিয়ার ছেলে। গত শনিবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর ইটনা ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফরহাদ হোসেনের মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: এ বি মো: শামসুজ্জামান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ঈদের পর থেকে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও ১০ জন মহিলা রয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬২ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৯ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন দুইজন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার জানান, গত ২১ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৪ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪৪ জন।