Naya Diganta

দৃষ্টিপাত : অবিচার ও ‘লাভবান’

উনি দর্শন বিভাগের শিক্ষক। যদিও তিনি ‘প্রভাষক’, গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ‘প্রফেসর’ হিসেবেই খ্যাত। দারুণ প্রতাপশালী। ‘নয়-ছয়’ হিসাব দিতে পারঙ্গম। বড় ধরনের উৎকোচও গ্রহণ করেন। তাই সামান্য বেতন পেয়েও অল্প ক’দিনে জমি কিনে দালান তৈরি করেছেন বহু টাকা ব্যয় করে। অবাঞ্ছিত টাকা আসে গ্রামে দরবার-কারবার করে এবং নয়-ছয় বুঝ দিয়ে। মানুষের পাকা ধানে মই দিয়ে যেভাবে টাকা আত্মসাৎ করছেন, তা সত্যিই বিরাট অন্যায়। দুই দলে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে ‘বানরের পিঠা ভাগ’ করে লাখ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে তিনি আজ ধনাঢ্য।
তিনি বিচার বা সালিস করতে গিয়ে মানুষের খাস দলিল বাদ দিয়ে জমির হিসাব-নিকাশ করেন। পূর্ববর্তী জরিপের তোয়াক্কা করেন না। মনগড়া হিসাব-নিকাশ করে তিনি দ্বন্দ্ব লাগিয়েছেন। তার ভুল হিসাব হয়েছে জেনেও মানতে নারাজ। আর উসকানিমূলক কথা তো আছেই।
যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন মানুষ বাঁচার পথ খোঁজে। আল্লাহ একটা পথ দেখিয়ে দেন। এর আগে যে ক্ষতি হয়ে গেল, দুই দলের দৌড়াদৌড়িতে অর্থ, সময় ও শ্রম নষ্ট হয়ে গেল, তার ক্ষতিপূরণ দেবে কে?
বিজ্ঞ বিচারকের মুখে শুনেছি, কোনো সম্পত্তির এক দাগের বিক্রি করা সম্পত্তি ওই দাগে না থাকলেও (ভোগ করা) অপর দাগে দখল করা যায়। সাফ কবলা সম্পত্তির দলিল কখনো বাদ যায় না। ওই ‘প্রফেসর’ বিচারক হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে লাকসাম থানার (বর্তমানে লালমাই) কাপাশতলা গ্রামের কারো কারো যে ক্ষতি করলেন, তা পূরণ করার মতো নয়। আশা করি, সবাই ভবিষ্যতে এসব কাজ থেকে নিবৃত্ত থাকবেন।
মো: রফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা