Naya Diganta

শিশুপার্ক বন্ধ : হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা

সন্তানদের নিয়ে শিশু পার্কে ঘুরতে আসা একটি পরিবার

রাজধানীর শাহবাগে নগরীর একমাত্র শিশুপার্কে এখনো পরিবার ও ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ঘুড়তে এসে ফিরে যাচ্ছেন হাজারো দর্শনার্থী। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থী শিশুদের নিয়ে এই বিনোদন পার্কটিতে ঘুড়তে আসেন। কিন্তু শিশু পার্ক বন্ধ থাকায় তাদের মন খারাপ করে ফিরে যেতে হচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় ছয় মাস ধরে শিশুপার্ক বন্ধ। চলছে নতুন করে সংস্কারকাজ। প্রবেশপথে কর্তৃপক্ষ নোটিশে সে খবর টাঙিয়ে রেখেছে। কিন্তু সে তথ্য জানেন না অনেক দর্শনার্থী। এতে প্রতিদিনই অনেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, জনসাধারণের হয়রানি বন্ধে পার্কটি বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রচারণা চালানো উচিত।

ঘুড়তে আসা এসব দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই শিশু পার্কটি বন্ধ ঘোষণা করার কথা জানেন না। রোববার বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁও থেকে মায়ের সাথে ঘুরতে আসা এরফান ও ফাহিম নয়া দিগন্তকে বলেন, গত দুই বছর আগে আমরা এই শিশু পার্কে ঘুরতে এসেছিলাম। আব্বু বিদেশ যাওয়ার পর আর আসা হয়নি। তাই আজ আম্মুর সাথে শিশু পার্কে ঘুরতে আসি। কিন্তু পার্কতো বন্ধ, তাই আইসক্রিম ও ফুচকা খেয়ে বাসায় চলে যাবো।

পার্কে ঢুকতে না পেরে মন খারাপ করেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে শিশুদ দুটিকে। সন্তানরা আনন্দ বঞ্চিত হওয়ায় মন খারাপ মায়েরও।
তিন সন্তানসহ ডেমরা থেকে শিশু পার্কে ঘুরতে আসেন শহিদুল ইসলামের পরিবার। শহিদুল পেশায় একজন ব্যাবসায়ী। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, অনেকদিন যাবৎ বাচ্চারা শিশু পার্কে আসতে চাচ্ছিলো তাই আজ নিয়ে এলাম; কিন্তু এসে দেখি শিশু পার্ক খোলা নেই।

শিশু পার্ক বন্ধ থাকায় এখন কী করবেন জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক দূর থেকে এসে বাচ্চারা ক্লান্ত। তাই দূরে কোথাও না গিয়ে পার্শ্ববর্তী রমনা পার্কে কিছুক্ষণ ঘুরবো ওদের নিয়ে। এরপর কোন এক রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করে বাসায় ফিরে যাবো।

একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত হাবিবুর রহমান দুই মেয়েকসহ উত্তরা থেকে শিশু পার্কে ঘুরতে আসেন। তিনি বলেন, ঈদের পর কয়েকদিন বাসায় মেহমান থাকায় মেয়েদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। তাই ওদের নিয়ে আজ শিশু পার্কে ঘুরতে এলাম। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি পার্কটি বন্ধ রয়েছে। এখন কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছোট ভাইকে ফোন করেছিলাম। ও বলল মিরপুরে ‘শিশু মেলা’ নামে একটি পার্ক আছে। আমরা এখন ওখানে যাবো।

ফাহমিদা আক্তার জোৎসনা তার পরিবার ও তার বাড়িতে বেড়াতে আসা এক আত্মীয়ের পরিবারকে নিয়ে শিশু পার্কে ঘুরতে আসেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে। তিনি বলেন, ঈদের পর আমার ননদ তার দুই সন্তান নিয়ে কুমিল্লা থেকে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বাচ্চারা শিশু পার্কে যাওয়ার জন্য খুব বায়না ধরেছিল। তাই তাদের নিয়ে ঘুরতে এলাম; কিন্তু শিশু পার্ক বন্ধ থাকায় আর ঘুরা হলো না। শিশু পার্ক বন্ধ থাকায় অন্য কোন বিনোদন কেন্দ্রে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফাহমিদা বলেন, এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। হয়তো কোথাও আর যাওয়া হবে না। বাসায় ফিরে যাবো।