Naya Diganta

স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে : যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক স্কুলছাত্রীর অপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতার নাম মোয়াজ্জেম শিকদার (৪৫)। পরে শুক্রবার তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মোয়াজ্জেম শিকদার উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মোঃ জাকারিয়া হোসেন জানান, ওই স্কুলছাত্রীর অভিভাবকের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদারকে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মোয়াজ্জেম শিকদার উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা শামসুল হক ছোট্ট হত্যা মামলার সে প্রধান আসামী ও ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বলে জানা গেছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর খানের ভাগ্নে রিফাত আল মামুন স্থানীয় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলের ছাত্রীকে সম্প্রতি তাদের ঘরে নিয়ে যৌন হয়রানী করে। এ ঘটনা মোয়াজ্জেম শিকদার গোপনে মোবাইলে ভিডিও করে রাখে। পরে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম ও তার সহযোগীরা রিফাতের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে গত বুধবার রাতে ‘১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি’র ভাগ্নের কাণ্ড দেখুন’ লিখে ২৫ সেকেন্ড ও এক মিনিট ৩ সেকেন্ডের পৃথক ২টি ভিডিও তার ফেসবুক আইডিতে ছেড়ে দেন। ভিডিও দুইটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, একটি সত্য ঘটনা আমি পোস্ট করেছি। এখানে দোষের কিছু দেখছি না।

আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর খান বলেন, মেয়ের পক্ষ থেকে যেহেতু কোনো অভিযোগ আসেনি, তাই আমার ভাগ্নে নিরপরাধ। যারা ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছে তারা অপরাধ করেছে। মেয়ের পরিবার তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।