Naya Diganta

ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের গোসল নিষিদ্ধ!

প্রতীকী ছবি

চলছে এপ্রিল মাস। তীব্র গরম। আর এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের আবাসিক ছাত্রীদের গোসল করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আর এই ঘটনায় পড়ে গেছে হইচই। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মাইসোরের মাইসুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে।

জানা যায়, মাইসুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপত্তিতে। ছাত্রী হলের প্রায় ৮০০ জন ছাত্রীকে গোসল করা ও জামাকাপড় কাচায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হল কর্তৃপক্ষ। কারণ আবাসিক হলে পানি নেই।

গরম শুরু হতেই মাইসোরের এই এলাকায় শুরু হয়ে যায় তীব্র পানির কষ্ট। এবারও তেমনই দশা। প্রায় তিন মাস ধরেই গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পানির সমস্যা। এতদিন ধরে ট্যাঙ্কার আনিয়ে সেখান থেকে প্রাথমিক ও জরুরী প্রয়োজনের পানি সরবরাহ করা হচ্ছিল ছাত্রীদের। কিন্তু গরম ও বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় পাল্লা দিয়ে বেড়ে যায় পানির সংকট।

তবে সপ্তাহের শুরু থেকেই একেবারে গোসল ও কাপড় কাচায় নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেমেছেন ছাত্রীরা। সোমবার মাঝরাত থেকেই দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাইসুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জি হেমন্ত কুমার জানিয়েছেন, পানি তোলার মোটর পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়াতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে গরমের জেরে এলাকার কুয়োগুলিও শুকিয়ে গিয়েছে। ফলে বিপত্তি বেড়েছে আরো। ঘটনার জেরে ছাত্রী হলের পরিচ্ছন্নতাও এখন প্রশ্নের মুখে।

আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রে ভয়ঙ্কর কাজ করছে ভারতীয় ছাত্ররা
নয়া দিগন্ত অনলাইন, (০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)

১২৯ জন ছাত্রের গ্রেফতারির পরে উদ্বিগ্ন ভারত সরকার আমেরিকাকে ডিমার্শ (প্রতিবাদ পত্র) পাঠিয়েছিল। তার পরই সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করল, ভিসা জালিয়াতিতে নিজেদের অপরাধের কথা আগে থেকেই জানতেন ওই ছাত্ররা।

আমেরিকা এই বক্তব্য শোনার পরেই নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত ছাত্রদের স্বার্থ ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে দেখা হচ্ছে। ১১৭ জনের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন ভারতীয় কূটনীতিকেরা। বাকিদের সঙ্গে দেখা করার জন্যও কথাবার্তা চলছে। ছাত্রদের আইনি সহয়তা দেয়া হচ্ছে। ভারতীয় পড়ুয়াদের সঙ্গে যাতে অমানবিক আচরণ না করা হয়, সে জন্যও বলা হয়েছে আমেরিকাকে।

মার্কিন সরকারের মুখপাত্র ভিসা জালিয়াতির ঘটনাকে ‘দু’দেশের শিক্ষা সং‌ক্রান্ত আদানপ্রদানের ঐতিহ্যের একটি দুর্ভাগ্যজনক স্খলন’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। আমেরিকার মতে, গত বছরেই ভারত থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ছাত্র আমেরিকায় পড়তে এসেছেন। তবে এমন জালিয়াতির ঘটনা খুবই কম ঘটেছে। মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, অর্থনীতিতেও ভিন্‌দেশি ছাত্রদের বিরাট গুরুত্ব। তারা তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা দিয়ে আমেরিকাকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।’’ এর সঙ্গেই তার মন্তব্য, ‘‘পড়ুয়াদের আমেরিকায় নিয়ে আসতে গিয়ে কেউ কেউ অবৈধ পথ বেছে নিচ্ছেন, সেটাই দুর্ভাগ্যজনক।’’

ডেট্রয়টের এক ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এই ভারতীয় ছাত্ররা কাজের জন্য নিজেদের আমেরিকায় থাকার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে গত সপ্তাহে এদের গ্রেফতার করেছিল মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি। এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজন ভারতীয়কেও গ্রেফতার করা হয়। মিশিগানের একটি কোর্ট তাদের একজনকে জামিন দিয়েছে।