Naya Diganta

মাছ বিক্রি করে সংসার চালান শুভা রানী

‘মাছ নাগবো, খালা মাছ’ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে এমনই ডাকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাছ বিক্রি করে চলেছে শুভা রানী রাজবংশী। নিজের দু’টি ছেলে থাকলেও মাছ বিক্রি করে যে টাকা লাভ হয়, তা দিয়ে সংসার চালাতে হয় তার। বয়স কত হয়েছে, এমনকি কত বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে তাও বলতে পারেন না শুভা রানী রাজবংশী। শুধু বলতে পারেন, রায়ড ( যুদ্ধের সময়) তার বড় ছেলের বয়স ছিল দেড় বছরের মতো।
শুভা রানীর বিয়ে হয় স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে ধামরাই পৌরসভার কায়েৎপাড়া মহল্লার গৌরচন্দ্র রাজবংশীর কাছে। বর্তমানে শুভা রানীর বয়স ষাট ঊর্ধ্বে। ওই সময় তার স্বামী মাছ ধরত ও ব্যবসায় করত। বিয়ের পর স্বামী ও দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ভালোই চলছিল সংসার। ১৯৮৮ সালে তার স্বামীর মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তান নিয়ে মহাবিপাকে পড়েন। তবুও সে আর বিয়ে করেননি। পরে তিন সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেয়ার জন্য অন্যের ধানের চাতালে কাজ নেন। সেখানে চাল ঝেড়ে কুড়া আলাদা করার সময় হঠাৎ করে তার চোখের মধ্যে ময়লা যায়। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নেন মাছ ব্যবসার। মাছ বিক্রি করে লাভের টাকায় ছেলেমেয়ের মুখে খাবার জোগাতে থাকেন শুভা রানী। এর মধ্যে হঠাৎ করে ঘরের ফ্যান পড়ে আঘাত লাগে তার মুখের মধ্যে। এ সময় চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় হয় তার। ফলে অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারেই নাজুক হয়ে পড়ে। তবুও সে মাছের ব্যবসা ছাড়েননি। অভাবের সংসারে ছেলেমেয়ে বড় হয়।
এর মধ্যে মেয়েকে বিয়েও দেয়। এ দিকে, দুই ছেলেও বিয়ে করে। বিয়ের কয়েক বছর পর মায়ের কাছ থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পৃথক হয়ে যায় ছেলেরা।
মা থাকেন শুধু সংসারে একা। কে তাকে দেখবে। কে চাল, ডাল কিনে খাওয়াবে। সন্তান থাকতেও সে যেন একা হয়ে পড়েন। কিন্তু হাল ছাড়েনি শুভা রানী। ছেলের মুখের দিকে না তাকিয়ে অল্প পুঁজি নিয়ে নয়ারহাট-ইসলামপুর বাজার থেকে সকালে ছোট মাছ কিনে ধামরাই পৌর শহরের বিভিন্ন মহল্লার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘মাছ নাগবো, খালা মাছ’ এ ডাকে তা বিক্রি করেন। ৮০০ থেকে হাজার টাকার মাছ কিনে তা বিক্রি করেন এক হাজার ১০০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়। এ থেকেই যা আয় হয়, তা দিয়েই নিজের সংসার চালাচ্ছেন। জীবন সংগ্রামে শুভা রানী কারো করুণার পাত্র নন।