Naya Diganta

সংসদে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি

জাতীয় সংসদ ভবনে মঙ্গলবারের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি) দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি দু’টিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নজিরবিহীন এই ঘটনার দায় নিতে চাচ্ছে না কেউ। একে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব ফয়জুল আমীনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি এবং ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) এ টি এম হারুনুর রশীদকে প্রধান করে চার সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকেই দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নেমে আসে অন্ধকার। বিকেল ৫টায় সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৫ মিনিট আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া সত্ত্বেও সেখানে লাইন দিতে না পারায় সংসদের বেশির ভাগ ব্লক অন্ধকারে ছেয়ে যায়। এজন্য অধিবেশন শুরু হয় ১৫ মিনিট পরে। তবে কিছু কিছু ব্লকে জেনারেটর নিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ব্যবস্থায় ঘণ্টা খানেক অধিবেশন চলার পর ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া সংসদ অধিবেশন মুলতবি করেন।
এ বিষয়ে ফজলে রাব্বী মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সংসদ চলে মেঘনা ঘাটের বিদ্যুৎ গ্রিডের মাধ্যমে। সেখানে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়ায় সংসদের বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। এজন্য সংসদের অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিপিডিসির প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো: রমিজ উদ্দিন সরকার বলেন, মেঘনাঘাটের ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ট্রিপ করায় পিজিসিবির আমিন বাজারের ১৩২ কেভি গ্রিড লাইন ‘ট্রিপ’ করে। এতে আমিন বাজার থেকে সংসদ ভবনে আসা ডিপিডিসির লাইনটিতে ভোল্টেজের সমস্যা হয়। এরপর সে বিদ্যুৎ সংসদ ভবনে আসার পর সেখানেও সমস্যা হয়। ফলে ডিপিডিসির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হয়ে যায়।
ঘটনার পর পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী বলেন, আমাদের কোনো লাইন ট্রিপ করেনি এবং পিজিসিবির লাইনের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি ডিপিডিসি বা পিজিসিবির সমস্যা নয়, কারণ সংসদের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে গণপূর্ত (বিদ্যুৎ) বিভাগ।