Naya Diganta
ঢাকায় অনশন কর্মসূচি শেষে ১০৭ জন আটক

বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ রিজভী

ঢাকায় অনশন কর্মসূচি শেষে ১০৭ জন আটক
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতীকী অনশন :নয়া দিগন্ত

অবৈধ সরকার দেশকে অতি দ্রুত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। গতকাল ঢাকায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে বিভিন্ন স্থান থেকে ১০৭ জন এবং ঢাকার বাইরে দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনশন কর্মসূচির শুরু ও শেষে রাস্তা অবরোধ করে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের নির্বিচারে গ্রেফতার করে। বিরোধী দলকে দলনের এক নতুন ফন্দি অবলম্বন করেছে পুলিশ। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবদুস সালাম আজাদ, খন্দকার মাশুকুর রহমান, জেড মর্তুজা চৌধুরী তুলা, শামসুজ্জামান সুরুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মৌখিক অনুমতি দেয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের এক নতুন স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করেছে সরকার। অর্থাৎ তারা চেয়েছে অনুমতির কথা শুনে নেতাকর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ে কর্মসূচির জন্য এক জায়গায় জড়ো হবে, আর সেই সুযোগ পুলিশ অনায়াসে তাদেরকে ধরতে পারবে। এটি আসলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে ধরতে পুলিশের একটি নতুন ফাঁদ। সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সারা দেশ জনশূন্য করার জন্যই পুলিশকে অবাধ কর্মকাণ্ডের সনদ দিয়েছে। আজকের ঘটনায় এটিই প্রতীয়মান হয় যে, সরকার দমননীতির উত্থান প্রবল থেকে প্রবলতর করছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক চরিত্রই হচ্ছে হানাদারি আচরণে জন-অধিকার কেড়ে নেয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের বাহিনী না বানিয়ে সবচেয়ে নিম্নমানের দাসত্বের তকমা ঝুলিয়ে দিয়েছে সরকার। এ বেপরোয়া পুলিশি গ্রেফতার অভিযান গণতন্ত্রের জন্য এক মহাবিপদসঙ্কেত। সরকারের আগ্রাসী মনোভাব এখন চরম পর্যায়ে। অবৈধ সরকার দেশকে অতি দ্রুত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের জন্য মহা লজ্জার দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। তারা সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে।
রিজভী বলেন, আওয়ামী সরকার এখন খাদের কিনারে, পতনের শঙ্কায়। তারা শেষ ভরসা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। কিন্তু এ ভরসাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। ক্ষমতার কানেকশন বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সাথে থাকবে না। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে সরকারি বাহিনীর অন্যায় আচরণ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। সব বাধা অতিক্রম করে সামনের আন্দোলনে গণতান্ত্রিক শক্তি জীবনবাজি রেখে অংশ নেবে।
তিনি বলেন, গতকাল সকাল থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদের বনানীর বাসভবন পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখে। দেশব্যাপী সরকারি সন্ত্রাসের অংশ হিসেবেই এই প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদের বাসা পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় প্রতীকী অনশন পালন শেষে ফেরার পথে পুলিশের হাতে আটক নেতাকর্মীদের একটি তালিকা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা শামসুল আলম শিমুল, নয়ন, আকরামুল, আলমগীর, মাহবুব, সালমান, আনোয়ার হোসেন, আজিম, মানিক, মো: পারভেজ, মিঠুন, জামান, রজ্জব, জহিরুল ইসলাম, যুবদলের মো: আশরাফুল আলম আকাশ, মো: রিপন, মো: লিটন, মো: রিপন হোসেন, মো: লালচাঁন, সাইফুর রহমান সাইফ, শামীম আহমেদ, মো: বজলুর রহমান, মো: সিরাজুল ইসলাম, মো: সিয়াম, মো: নাসির ফকির, ফরহাদ, মো: আজিজ, মো: মামুন, মো: মিরাজ হোসেন, মো: লুৎফর, মো: সুজন, মো: হুমায়ুন, মো: নয়ন, মো: লিটন, মো: রিপন হোসেন, ছাত্রদলের শাহরিয়ার রাসেল, মঈনুল হোসেন, বিএনপির হাজী মো: ইউছুফ, স্বেচ্ছাসেবক দলের মো: জহির রায়হান, মো: রানা, মো: শাহাদাৎ, মো: রুবেল, মো: রিপন, মো: মাসুম, মো: আনোয়ার হোসেন মামুন, মো: রুবেল, রাসেল, জামাল, আশরাফ উদ্দিনকে আজ প্রতীকী অনশন পালন শেষে পুলিশ গ্রেফতার করে।
রিজভী বলেন, ছাত্রদলের মাহমুদুল হাসান, তাজ, রাজু আহমেদ, মাহবুব অভি, সম্রাট, আবদুল হামিদ, মহিদুল ইসলাম রিমন, জিয়াউল হক জিয়া, কাউছার আহমেদ রনি, সেলিম ও শরিফ, শাকিল, নাজমুল হাসান আরিফ, মো: সজিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের মিজানুর রহমান শিকদার, শাহীন মৃধাসহ ঢাকায় ১০৭ জন এবং গতকাল থেকে দেশব্যাপী ১৫১ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, মেহেরপুর, সাতীরা, নরসিংদী, রাজশাহী, বগুড়া, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের চার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব জেলায় ১৯৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত আট দিনে রাজশাহী মহানগরে চারটি, গাজীপুর মহানগরে ১১টি, রংপুর মহানগরে ৭টি, খুলনা মহানগরে ১৩টি মিথ্যা মামলায় মোট ৭৮৮ জনকে আসামি করা হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫৩ জনকে। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক মোহাম্মদ শাহজাদা মিয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইয়াসমিন আরা হকসহ ১০৫ জনের অধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের উত্তরা পশ্চিম থানায় মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।