Naya Diganta
রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন

মিয়ানমারের সাথে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন

অবিলম্বে মিয়ানমারের সাথে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর দায়ে মিয়ানমারের সেনা কমান্ডারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ল সেন্টার ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ চারটি সংগঠনের প থেকে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। গত মাসে জাতিসঙ্ঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক তদন্ত রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে। মিয়ানমার সরকার বারবারই দাবি করে আসছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। কোনো নিধনযজ্ঞ চালানো হয়নি। তবে জাতিসঙ্ঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রত্যাখ্যানের মাত্রায় তারা হতবাক। সামরিক অভিযানে কখনোই হত্যা, সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন ও গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
২০১৮ সাল থেকে তিন বছরের জন্য জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাই রোহিঙ্গাদের ইস্যুতে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চারটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠন। অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (এসিএফআইডি), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ল সেন্টার ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প থেকে এ নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়। বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন দেশটি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে উত্থাপনের জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে উদ্বুদ্ধ করে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় দায়ীদের ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি করতে আলামত সংরণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক, নিরপে ও স্বাধীন কর্তৃপ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে একটি প্রস্তাব তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।