Naya Diganta
এজ মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট বিও হিসাবে

আর্থিক খাতের দরপতন পুঁজিবাজার সূচকের অবনতি

এজ মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট বিও হিসাবে

পতন থামছে না পুঁজিবাজারের। চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে পাওয়ার মতো বড় ঘটনাও বাজার আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। সর্বশেষ গতকাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পুঁজিবাজার নিয়ে দেয়া ইতিবাচক বক্তব্যও পাল্টাতে পারেনি বাজার আচরণ। অথচ বিনিয়োগকারীরা এ দু’টি ঘটনা থেকে চলমান অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তাদের এ প্রত্যাশার বিপরীতে অব্যাহত রয়েছে বাজারের দরপতন। টানা অবনতি ঘটে চলেছে বাজার সূচকের।
সংশ্লিষ্টরা বরাবরের মতো আর্থিক খাতের দরপতনকেই বাজার সূচকের নেতিবাচক প্রবণতার জন্য দায়ী করলেও বিশেষ বিশেষ কিছু কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য খাতও এ সময় দরপতনের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিনই উভয় বাজারের লেনদেন হওয়া কোপম্পানির বেশির ভাগ দর হারাচ্ছে। তবে এ ক’দিন আর্থিক তিনটি খাতই টানা দর হারায় যা সূচকের অবনতিতে বড় ভূমিকা রাখে।
বরাবরের মতো গতকালও সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করা দুই পুঁজিবাজার লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিক্রয়চাপের শিকার হলে অবনতি ঘটে সূচকের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৪ দশমিক ১১ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৫ হাজার ৫৪৩ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি বুধবার দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৫২৯ দশমিক ৮১ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ সূচকটি ৬ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট হারালেও ৪ দশমিক ৩২ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে ডিএসই শরিয়াহ সূচকের।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে ৩৫ দশমিক ৯১ ও ২২ দশমিক ৮১ পয়েন্ট। এখানে সিএসই শরিয়াহ সূচকটি ২ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখলেও ৫ দশমিক ২৭ পয়েন্ট হারায় সিএসই ৫০ সূচকটি। এর আগে মঙ্গলবারও দুই বাজারে একটি সূচকের উন্নতি ঘটলেও অন্যগুলোর পতন ঘটে।
এ দিকে বিএসইসির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে পুঁজিবাজারগুলোতে লেনদেন সময় আধঘণ্টা বাড়লেও তাতে বাজারগুলোর লেনদেন খুব একটা বাড়েনি। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ৮১৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে। অথচ গত সোমবার ৪ ঘণ্টায় ৯৬৫ কোটি টাকা লেনদেন নিষ্পত্তি করেছিল পুঁজিবাজারটি। একই সময়ে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ৪৪ কোটি টাকা থেকে ৪২১ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন। বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এজ বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ইউনিট বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হয়েছে। সিডিবিএল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার সিডিবিএলের মাধ্যমে ফান্ডটির ইউনিট বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হয়েছে। এর আগে এজ বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাওয়া তথ্য অনুসারে ফান্ডটির প্রাথমিক ল্যমাত্রা হচ্ছে ১০ কোটি টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তার অংশ ১ কোটি টাকা এবং সব বিনিয়োগকারীর জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। প্রতিটি ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক, ট্রাস্টি এবং কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করছে এজ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ‘সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।
গতকাল সূচকের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ডিএসইতে ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৫৪৩ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করে কয়েক মিনিটে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৬৯ পয়েন্টে। এ সময় ডিএসই সূচকের উন্নতি ঘটে প্রায় ২৬ পয়েন্ট। সূচকের এ অবস্থান থেকে বিক্রয়চাপ শুরু হলে পাল্টে যায় বাজারচিত্র। বেলা সাড়ে ১১টায় সূচকটি নেমে আসে ৫ হাজার ৫৩৬ পয়েন্টে। বেলা ১টার দিকে সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সূচক পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৫৯ পয়েন্টে। কিন্তু বেলা দেড়টার দিকে নতুন করে বিক্রয়চাপ শুরু হয় যা লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। দিনশেষে সূচকটির ১৪ দশমিক ১১ পয়েন্ট হারায় ডিএসই।
গতকালও ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষস্থানটি ধরে রাখে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি। দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি দিনের লেনদেনেও এগিয়ে থাকে কোম্পানিটি। ৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকায় ৬৯ লাখ ৯১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় খুলনা পাওয়ারের। ৭৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ৬২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল বিবিএস ক্যাবলস, ইউনাইটেড পাওয়ার, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, শাশা ডেনিমস, ন্যাশনাল লাইফ, ইফাদ অটোস, ওইমেক্স ইলেক্ট্রোড ও ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স।