Naya Diganta

আদালতের রায়ের অপেক্ষায়...

পঞ্চগড় আদালতেই ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে সহিদার। তিন সন্তানের জননী অসহায় সহিদা বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানান অত্যাচারে অতিষ্ঠ। জানা যায়, রংপুরের মিস্ত্রিপাড়া ভাঙা মসজিদসংলগ্ন এলাকার তমিজ উদ্দীনের ছেলে মোকছেদুলের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে ১০ বছরের মুসলিমাকে স্বামীর গৃহে রেখে দুই সন্তানসহ জীবন নিয়ে বাবার বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা সাতখামার ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। স্বাধীন (৬) ও সাঈদকে (২) নিয়ে খেয়ে-না খেয়ে দিন যাপন করছেন পিত্রালয়ে। স্বামীর প্রহারে আঘাত পেয়ে পিতার কাছে এলে তাকে বোদা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক আপস-মীমাংসা করা হয়েছে কয়েকবার। বলরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি খাদেমুল ইসলাম,অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিসহ উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধান করে দেন। এরই মধ্যে সহিদার স্বামী মোকছেদুল পরনারীর প্রতি আসক্ত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে। শুরু হয় সহিদার করুণ কাহিনী। খুব একটা আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না তার স্বামীর। কোনো রকম জীবন অতিবাহিত করছিলের তিনি। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের আশ্রয় নেন সহিদা। যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেন সহিদা। সেই মামলায় স্বামী মোকছেদুল আত্মসমর্পণ করতে এলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীকালে জামিনে মুক্তি পায় সে। মুক্তি পেয়ে সহিদাকে মোবাইলে নানা রকম হুমকি দিতে থাকে বলে সহিদা জানান। নিরুপায় হয়ে বোদা ব্র্যাক নারী নির্যাতন সেলে অভিযোগ করেন সহিদা। সেই সেল স্থানীয় ভাবে আপস করতে না পেরে পঞ্চগড় আদালতে সেলের নিজ খরচে মোকছেদুলের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়েক করেন। দু’টি মামলা বর্তমানে পঞ্চগড় আদালতে বিচারাধীন আছে। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে বারবার মোকছেদুলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সে মোবাইল রিসিভ না করায় তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী সহিদা এ প্রতিবেদককে জানান, ‘আমার মতো জীবন আর কারো যেন না হয়। স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ সহিদার আইনজীবী জাকির হোসেন জানান, যৌতুকের মামলাটির সাক্ষী গ্রহণ চলছে। আদালতেই ভাগ্য নির্ধারিত হবে সহিদার।