Naya Diganta

নির্বাচনী মাঠ আরো অসমতল করে তোলা হচ্ছে

নির্বাচনী মাঠ আরো অসমতল করে তোলা হচ্ছে

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে নির্বাচন। একটি দেশ যত বেশি গণতান্ত্রিক হবে, নির্বাচনে তত বেশি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে। নির্বাচনে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার সরল অর্থ হচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, সব দল নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ায় সমান সুযোগ ভোগ করবে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, দেশে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার জন্য একটি সমতল মাঠ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে। এই মাঠে নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলো সমান সুযোগ নিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাবে। দলগুলো জনগণের কাছে তাদের বক্তব্য অবাধে তুলে ধরতে পারবে। কোনো দল এ ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়বে না। আবার কোনো দল অবৈধভাবে বেশি সুযোগ পাবে না।

বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই সমতল মাঠের অস্তিত্ব নেই। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দল বা জোটের জন্য থাকে অবাধ মহাসুযোগ আর সরকারবিরোধী দলগুলোর সামনে থাকে মহাবাধা। নির্বাচনকেন্দ্রগুলো হয়ে ওঠে ক্ষমতাসীনদের জন্য অবাধ বিচরণকেন্দ্র আর সরকারবিরোধীরা বিতাড়িত হয় কেন্দ্র থেকে। সেই সুযোগে নির্বাচনে চলে নানা ধরনের ভোট জালিয়াতি : ব্যালটবাক্স ছিনতাই, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে পছন্দমতো সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা, প্রশাসনকে চাপের মুখে ফেলে ভোটের ফলাফল পাল্টে দেয়া, বিরোধী পক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া। বিরোধী দলের চিহ্নিত নেতাকর্মী ও ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যেতে পারে, সে জন্য নানা ধরনের পুলিশি হয়রানি চালানো হয়, সাজানো মামলায় গণহারে আসামি করে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখাসহ চলে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড, যা গোটা নির্বাচনকে সবার কাছে অগ্রহণযোগ্য ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

বাংলাদেশে যে এসব কর্মকাণ্ড চলমান, তা অস্বীকার করতে পারে না কোনো বিবেকবান মানুষ। আর এ জন্য প্রতিটি নির্বাচন এলেই আমাদের পড়তে হয় নানামুখী সঙ্কটে। আমরা তখন নির্বাচন নিয়ে নানা আশঙ্কায় ভোগী- নির্বাচন আদৌ হবে কি না, নির্বাচন না হলে দেশ কি চলে যাবে কোনো অসাংবিধানিক সরকারের হাতে, আর নির্বাচন হলেও অংশগ্রহণমূলক হবে কি না কিংবা নির্বাচন কি হবে সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রক্রিয়ায়, না ক্ষমতাসীন দল যেমনটি চাইবে তেমনটিই চলবে, নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভেতরে ও বাইরের সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন : সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী খেলাটি কি চলবে একটি সমতল মাঠে, না ক্ষমতাসীনদের পছন্দ অনুযায়ী নিজেদের সৃষ্ট তাদের জন্য অনুকূল কোনো অসমতল মাঠে? অতি নিকটে চলে আসা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে এখন জনমনে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে ভাসছে।

সরকারবিরোধী দলগুলোর তো বটেই, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চাওয়া হচ্ছে দেশে একটি সুষ্ঠু স্বাভাবিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। নির্বাচন কমিশন বলি আর সরকারই বলি, তারা এ জন্য সৃষ্টি করবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী সমতল মাঠ, এটাই সাধারণ মানুষের চাওয়া। কিন্তু বরাবরের তো বটেই, এমনকি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখলে সহজেই অনুমেয়, এরা নির্বাচনী সমতল মাঠ তৈরির চেয়ে বরং মাঠকে অসমতল করে তোলায়ই বেশি উদ্যোগী। নির্বাচন কমিশন তো সরকারের ইচ্ছেদাস হিসেবে বরাবরই কাজ করে। সরকারের চাওয়া-পাওয়া পরিপূরণেই তাদের বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। আর তা করতে গিয়ে একটার পর একটা বিতর্কের জন্ম দেয়াই যেন নির্বাচন কমিশনের কাজ। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও বিতর্কহীন করে তোলার চেয়ে সরকারের ইচ্ছামতো নির্বাচনী আসনের সীমানা পরিবর্তন, কেন্দ্র পরিবর্তন, আরপিও সংশোধন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন কিছু চালু করাসহ এমন আরো বহু কর্মকাণ্ডে কমিশনের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। এর বিস্তারিতে না গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সর্বসাম্প্রতিক ইভিএমে ভোট গ্রহণ চালু করার প্রয়াসকে তেমনি একটি অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।

অপর দিকে বর্তমান সরকারের পুরো শাসন মেয়াদে আমরা দেখেছি, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে বিরোধী দলগুলোকে স্বাভাবিক নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার প্রয়াস চালিয়ে আসছে বরাবর। ফলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, সরকার দেশটিকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। অতি সম্প্রতি সরকার এই প্রক্রিয়া জোরদার করে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আরো কঠোরতা অবলম্বনের নীতি নিয়ে মাঠে নেমেছে বলেই মনে হয়।

গত শুক্রবার এ ব্যাপারে ‘সরকার আরো হার্ডলাইনে যাচ্ছে’ এমনটি জানিয়ে একটি শীর্ষ সংবাদ প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। ওই সংবাদ কাহিনীতে পত্রিকাটি লিখেছে- জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। বিরোধী দলের জোরালো কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সারা দেশে চলছে ধরপাকড়। ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগ থেকে এ পর্যন্ত শুধু বিএনপি ও অঙ্গদলের দেড় হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দলটির দাবি। এ সময় নতুন করে বহু মামলা করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, গ্রেফতারকৃতদের জামিন মিলছে না সহজে। জামিন মিললেও কারাফটক থেকে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। পুরনো মামলাগুলোও সক্রিয় করা হচ্ছে। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র-ভিত্তিক সক্রিয় নেতাকর্মীদের তালিকা হচ্ছে। ধরপাকড় ও পুলিশের অভিযানের কারণে অনেক নেতাকর্মী বাসায় থাকতে পারছেন না।

মামলার ধরন দেখলে সহজেই অনুমান করা যায়, সরকারের এ তৎপরতা বিরোধী দলগুলোর জন্য বিদ্যমান অসমতল নির্বাচনী মাঠকে আরো অসমতল করে তোলার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে; যাতে আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোকে ক্ষমতাসীন দলগুলোর নেতাকর্মীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র করে তুলে নিজেদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা যায়। আরেকটি জাতীয় দৈনিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক খবরে এ সত্যেরই প্রতিফলন রয়েছে। ‘ঘটনাই ঘটেনি, মামলা করে রেখেছে পুলিশ’ শিরোনামে এক খবরে পত্রিকাটি লিখেছেÑ হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম গত ১২ আগস্ট নিজের থানায় একটি মামলা করেছেন। আসামি ৭০-৮০ জন, সবাই অজ্ঞাত। অভিযোগ হচ্ছে, গত ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের জে কে হাইস্কুলের সামনে আসামিরা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, যানবাহন ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছে।

পত্রিকাটি আরো জানায়, যে সময়ে এই মামলা হয়েছে, একই সময়ে ঢাকাসহ দেশর বিভিন্ন শহরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে পথে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ শহরে এ ধরনের কিছুই ঘটেনি। এমনকি নিরাপদ সড়কের দাবি নিয়ে হবিগঞ্জে কেউ রাস্তায় নামেনি। এর পরও হবিগঞ্জ শহর ও জেলার চারটি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি মামলা করে রেখেছে পুলিশ।

পত্রিকাটি আরো লিখেছে- শুধু হবিগঞ্জ নয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় নাশকতার অভিযোগ এনে আরো কয়েকটি জেলায় এমন আরো ‘ভুতুড়ে’ মামলা করে রেখেছে পুলিশ। মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে পত্রিকাটিকে বলেছেন, ওপরের নির্দেশে এসব মামলা হয়েছে।

পত্রিকাটি আরো লিখেছে- তবে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতেই থানায় থানায় এভাবে গোপনে মামলা করে রাখা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিক্ষের লোকজনকে এসব মামলায় ফাঁসানো যায়।’
বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন- ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই স্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গদলের দেড় হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নতুন করে দায়ের করা হয়েছে ১২ শতাধিক মামলা। এরই প্রতিক্রিয়ায় পরদিন গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, ‘আমরা কাউকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করি না।

বিএনপির যেসব ব্যক্তি গ্রেফতার হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিডিওচিত্র রয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা কে কোথায় কী করছেন, তার প্রমাণ রয়েছে। আমাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। গ্রেফতার নিয়ে বিএনপি যে অভিযোগ করছে তা মিথ্যা।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে জানতে ইচ্ছে করে, হবিগঞ্জের উল্লিখিত ১০টি ‘ভুতুড়ে’ মামলার ঘটনার কি কোনো ভিডিও ফুটেজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। যেখানে একটি স্বনামধন্য জাতীয় পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, হবিগঞ্জে মামলায় বর্ণিত দিনে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি, তবুও মামলা করে রেখেছে পুলিশ। তা ছাড়া, প্রথমে উল্লিথিত মামলার বিবরণ মতে, ৭০-৮০ জন আসামি হবিগঞ্জে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যানবাহন ও সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছে; অথচ অবাক করা ব্যাপার হলো, পুলিশ একজনকেও শনাক্ত করতে পারল না। ফলে সবাই হয়ে গেল ‘অজ্ঞাত’ আসামি।

আসলে সম্প্রতি দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। তা নিশ্চিত করতে সবার গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনী পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ একই দাবি জানিয়ে আসছে। এই তো গত শুক্রবারে বাংলাদেশের নতুন মনোনয়ন পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের চলমান ধারায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগে আমরা উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি চূড়ান্তভাবে মনোনীত হলে বাংলাদেশে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং মানবাধিকার ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করার কাজে সমর্থন জোগাব। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক সিনেট কমিটির শুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আসলে বাংলাদেশে নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলগুলো ও ক্ষমতার বাইরের দলগুলোর মধ্যে বিশেষ করে নেতৃস্থানীয় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- একটি আশু সংলাপের তাগিদও জোরদার হচ্ছে। কিন্তু সরকারপক্ষ সে দাবি বারবার মুখ মুছে অস্বীকার করছে। এমন প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য যেন সরকারপক্ষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর সে পথ বাধাহীন করার লক্ষ্যেই হয়তো সরকার কঠোর নীতি অবলম্বনের স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া ধরপাকড় শুরু করেছে। কারণ, তাদের লক্ষ্য বিদ্যমান অসমতল নির্বাচনী মাঠকে আরো অসমতল না করা গেলে, সমতল মাঠে খেলে নির্বাচনী বিজয় অর্জন তাদের জন্য হয়তো সহজ হবে না।

আর এ নীতির বশবর্তী হয়েই হয়তো সরকারের একজন প্রবীণ মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলতে পারলেন- ‘প্রয়োজনে এবার খালি মাঠে গোল দেবো।’ তার কথায় মনে হলো, ২০১৪ সালের খালি মাঠে নির্বাচনী গোল দিতে পারা তার কাছে খুবই উপভোগ্য ছিল। এবারো তিনি তেমনি তাদের কাছে আরেকটি উপভোগ্য ভোটারবিহীন নির্বাচন সম্পন্ন করার পথ খুঁজছেন। কারণ, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা বিজয়ী হবেন, এমন ভরসা পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় জানি না, বাংলাদেশে নিকট ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে? তবে বিবেকবান মানুষ মনে করে, সমঝোতার পথই উত্তম। সমঝোতাই বয়ে আনতে পারে সবার জন্য শান্তি আর কল্যাণ। সবাই সে পথে হাঁটবে, এমনটিই প্রত্যাশা। সেই কল্যাণের পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়ে শেষ করতে চাই আজকের এই লেখা।