Naya Diganta

প্রতিবাদী হবো

জীবনের অনেক পথ পাড়ি দিয়েছি। অনেক কিছু মেনে নিয়েছি বা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি। সুখেরা বা খুশিরা আমার পেছন পেছন কখনোই ছুটে আসেনি। বরং আমি নিজেই ছুটে ছুটে অনেক দুঃখ-কষ্ট সয়েছি, ক্লান্ত হয়েছি। অনেক অপমান না চাইতেই সয়ে নিয়ে মেনে নিয়েছি। লুকিয়ে লুকিয়ে গোপনে অনেক চোখের জল ঝরিয়েছি। না পাওয়ার যন্ত্রণায় অনেক রাত ছটফট করেছি। স্বেচ্ছায় হার মেনে অনেক দিন মুখও লুকিয়ে রেখেছি। প্রতিবাদের কণ্ঠকে টুটি চেপে ধরে থামিয়ে দিয়ে বলেছি, ‘চুপ থাক’! কারণ যত প্রতিবাদ, তত দোষ! চোখগুলোকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করেছি। অনেক কর্কশ ভাষা দু’কানকে শুনে যেতে বাধ্য করেছি। নিজের অভিমান নিজের বুকে চেপে রেখে অনেক রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। অর্থাৎ রাত জাগা পাখি আমি! নিজের একরাশ অভিমান বুকে চেপে রেখে আমি পাগলের মতো এদিক ওদিক ছুটেছি। অর্থাৎ দিশেহারা পথিক আমি! নিজের একরাশ অভিমান বুকে চেপে রেখে দিনের পর দিন আমি যন্ত্রণায় ছটফট করেছি। অর্থাৎ ব্যথায় কুঁকড়ানো এক নিথর দেহ আমি!
আমি পৃথিবী থেকে যে শিক্ষাটা নিয়েছি তা হচ্ছে, ‘পৃথিবীটা অনেক সুন্দর তবে যন্ত্রণাগুলো নিদারুন। ভালোবাসাগুলো স্বার্থের জালে আবদ্ধ। আইনগুলো সবার জন্য সমান হয় না! নীতিকথাগুলো শুধু জানানোর জন্য বলা হয়, আর বেশি করা হয় অভিনয়; শুধু মানুষকে দেখানর জন্য’।
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঘুরে দাঁড়াবার! আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি অবিচল হওয়ার। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ করার। আর নয় মুখ লুকিয়ে চোখের অশ্রু বিসর্জন, আর নয় অন্যায় সয়ে যন্ত্রণার সাগরের তর্জন-গর্জন। আমি একরাশ অভিমান নিয়েই সব কিছু রুখে দিতে চাই!