Naya Diganta

সবার সহযোগিতা চেয়েছে ইরান-তুরস্ক-রাশিয়া

সবার সহযোগিতা চেয়েছে ইরান-তুরস্ক-রাশিয়া

সামাজিক, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য রক্ষায় সবার আরো বেশি সহযোগিতা চেয়েছে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া। সিরিয়ার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার তেহরানে সিরিয়া বিষয়ক শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

১২ ধারার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সামরিক নয়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা হবে। রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সংবিধান সংক্রান্ত কমিটি গঠনে সহযোগিতা করা হবে। 

এছাড়া সিরিয়ার সব শরণার্থীকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ও তাদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সমাজ বিশেষকরে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

 শুক্রবার সিরিয়া বিষয়ক ত্রিদেশীয় শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, সিরিয়া থেকে আমেরিকাকে সরে যেতে হবে। কারণ সিরিয়া সঙ্কটের মূলে রয়েছে আমেরিকা। যারা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেয় তাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না। তবে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আর তাহলো সিরিয়া ও গোটা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। 

তিনি বলেন, সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের জন্য যেকোনো রাজনৈতিক আলোচনায় অবশ্যই সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে হবে। সিরিয়ায় বিশেষকরে ইদলিবে সব সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সমাজের কর্মসূচিতে শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও দেশ পুনর্গঠনে সহযোগিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সিরিয়ায় আমেরিকার অবৈধ উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কারণ অবৈধ উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ সিরিয়ায় অনিরাপত্তা বজায় রেখেছে।  

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, সিরিয়ার জনগণ ও সরকারের বিরুদ্ধে ইসরাইলের তৎপরতা ও দখলদারিত্ব প্রতিদিনই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সমাজের দায়িত্ব হলো তা মোকাবেলা করা। সিরিয়া সঙ্কট সমাধানে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া চেষ্টা করছে। সিরিয়ায় পরিপূর্ণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখতে হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে এক বৈঠকে বলেছেন, সিরিয়া সঙ্কটকে কেন্দ্র করে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য সঙ্কট নিরসনের ক্ষেত্রেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে পারে ।

খামেনী আরো বলেন, ইরান ও রাশিয়া যৌথভাবে যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে পারে তার অন্যতম হচ্ছে আমেরিকার বলদর্পিতা প্রতিহত করা। কারণ, ওয়াশিংটন বিশ্ব মানবতার জন্য একটি বিপদ এবং তাকে প্রতিহত করা সম্ভব। মার্কিনীরা সিরিয়ায় সত্যিকার অর্থে পরাজিত হয়েছে এবং তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে এই তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

তিনি বলেন, ইরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ওয়াদা রক্ষা করেনি। এ বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। আমেরিকা গত ৪০ বছর ধরে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এই ৪০ বছরে ইরান অন্তত ৪০ গুণ শক্তিশালী হয়েছে। আমেরিকাকে যে প্রতিহত করা সম্ভব ইরানের মার্কিন বিরোধী এই প্রতিরোধ সেকথা প্রমাণ করেছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, মার্কিন সরকার অনুপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইউরোপীয়রা মুখে পরমাণু সমঝোতা রক্ষার কথা বললেও তারা আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল বলে ওয়াশিংটনের কথা মেনে চলতে বাধ্য।