Naya Diganta

প্যারাগুয়েতে দূতাবাস খুলবে তুরস্ক

লুইস কাস্তিগিলোনি : প্যারাগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জেরুসালেম থেকে দূতাবাস সরিয়ে তেল আবিবে নেয়ার ‍পুরস্কার হিসেবে প্যারাগুয়ের সাথে সম্পর্ক জোরদারের কথা ঘোষণা করেছে তুরস্ক। ইতোমধ্যেই দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দেশটিতে দূতাবাস খোলার ঘোষণাও দিয়েছে তুর্কি সরকার। শিগগিরই প্যারাগুয়ের রাজধানী অসানসিওনে দূতাবাস খুলবে তারা।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে পশ্চিম তীর, জেরুজালেম, গাজা ও বেথলেহেমসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পথ ধরে তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে দূতাবাস খোলে গুয়াতেমালা ও প্যারাগুয়ে। তবে গত বুধবার জেরুসালেম থেকে তেলআবিবে প্যারাগুয়ে তাদের দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ায় ঘোষণা দেয়। আর এই ঘোষণাকে ফিলিস্তিনের প্রতি প্যারাগুয়ের শ্রদ্ধা প্রদর্শন হিসেবে দেখছে তুরস্ক। যদিও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ইসরায়েল।

প্যারাগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস কাস্তিগিলোনি বলেন, তুরস্ক দূতাবাস খোলার মাধ্যমে আমাদের সমর্থন দিলো। আর ফিলিস্তিনিরাও এই পদক্ষেপকে সম্মানজনক বলছেন। এতদিন প্যারাগুয়েতে দুটি কনস্যুলেটের মাধ্যমে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করতো তুরস্ক। আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত বুয়েন্স আইরেস থেকেই প্যারাগুয়ের বিষয়টি দেখভাল করতেন।

এদিকে বুধবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট আবোদোকে ফোন দিয়ে তার অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র চায় প্যারাগুয়ে জেরুসালেমকেই ইসরাইলি রাজধানী হিসেবে দেখুক এবং সেখানে দূতাবসা বহাল রাখুক। আর প্যারাগুয়েতে ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই জেরুসালেমে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব সমর্থন করে না। দুই দফা যুদ্ধের পর মুসলিমদের প্রথম কেবলার নগরি জেরুসালেম দখল করেছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি নেতারা বলেন, দূতাবাস সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও শান্তি বিনষ্ট করলো। আরব বিশ্বে শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরো পড়ুন : আবার উত্তপ্ত ইরাক, বসরায় কারফিউ জারি
বাগদাদের গ্রীন জোনে শুক্রবার ভোরে তিনটি মর্টার শেল আঘাত হেনেছে। এদিকে সরকারি সেবার ঘাটতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় একজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হওয়ার পর ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা নগরীতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। খবর এএফপি’র।

রাজধানীর নিরাপত্তা প্রধান জানান, কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এ গ্রীন জোনে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীদের এ বিরল হামলায় কেউ হতাহত বা কোন ক্ষতি হয়নি। এলাকাটিতে ইরাকের সরকারি কর্মকর্তাদের বাসা ও মার্কিন দূতাবাস রয়েছে।


ইরাকের তেল সমৃদ্ধ বসরায় ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা দমনে ব্যস্ত থাকার সময় বাগদাদের গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে হামলা চালানো হলো। বসরায় মঙ্গলবার থেকে জনতার সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছে এবং সেখানে সংঘর্ষ চলাকালে আঞ্চলিক সরকারের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ককটেইল নিক্ষেপ করা হয়।

বর্তমানে ইরাকের বসরা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরকারি সেবার দাবিতে সেখানে জুলাই মাসে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার বসরায় হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করে।

বিস্তারিত উল্লেখ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইফ আল-বদর জানান, জনগণের বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছে।
এ নগরীতে নতুন করে কারফিউ জারি করার পর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন বিবৃতি দেয়া হলো।