Naya Diganta

২০২১ সালের মধ্যেই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করবে উত্তর কোরিয়া

২০২১ সালের মধ্যেই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করবে উত্তর কোরিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রথম মেয়াদের মধ্যেই কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কাজ শেষ করতে চায় উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উনের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কেসিএনএ।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠককালে কিম বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর তার অটুট বিশ্বাস আছে। ২০২১ সালের শুরুর দিকে ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রথম মেয়াদ শেষের আগেই তিনি নিরস্ত্রীকরণ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্কের অবসান চান।

বুধবার কিমের সাথে বৈঠক করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এই বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সাথে তৃতীয় আরেকটি বৈঠক করতেও কিম রাজি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সিউলের কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ বৈঠক উপলক্ষেই উত্তর কোরিয়া সফর করবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট৷ 

এ বৈঠকের পরই দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চুং-ইউই-ইয়ং জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন আগামী ১৮-২০ সেপ্টেম্বরে পিয়ংইয়ংয়ে বৈঠক করবেন। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণের পথে বাস্তবিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল প্রথমবার দুই কোরিয়ার সীমান্ত গ্রাম পানমুনজমে বৈঠকে বসেন দুই কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা৷ সেই বৈঠকের পরই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ঘোষণা করেন কিম জন৷ এরপর গত জুনে সিঙ্গাপুরে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি অলিখিত চুক্তিতে পৌঁছন কিম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ফের বৈঠকে বসেন দুই কোরিয়ার নেতা৷ ২০১৮ সালের ২৬ মে এই বৈঠক হয়৷

বিশ্বে ১৪ হাজার ৯৩৫টি পরমাণু অস্ত্র
টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ডেইলি মেইল, এপি ও এই সময়, ২০ জুন ২০১৮

পাকিস্তান বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ খরচ করছে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে।  স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপ্রি (SIPRI) এর একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

সিপ্রি-র প্রধান জ্যান এলিয়াসন জানিয়েছেন, আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল এবং উত্তর কোরিয়া- এই দেশগুলি মিলিয়ে চলতি বছরের শুরুতে ১৪,৪৬৫টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ছিল। গত বছর যার পরিমাণ ছিল ১৪,৯৩৫। খানিকটা হয়তো কমেছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এই মোট ওয়ারহেডের মধ্যে আমেরিকা এবং রাশিয়ার কাছেই ৯২ শতাংশ রয়েছে। ২০১০ সালে দুই দেশ START ট্রিটি স্বাক্ষর করার পর এই পরিমাণ ওয়ারহেড কম হয়েছে।


সংখ্যার বিচারে দুই বড় শক্তিধর দেশ বাদ দিলে ব্রিটেনের কাছে ২১৫টি, ফ্রান্সের কাছে ৩০০, চীনের কাছে ২৮০, ভারতের কাছে ১৩০-১৪০টি, পাকিস্তানের কাছে ১৪০-১৫০টি, ইসরাইলের কাছে ৮০টি এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-২০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। এই প্রত্যেকটি দেশ দূর পাল্লার বিভিন্ন ব্যালিস্টিক মিসাইল সফল ভাবে পরীক্ষা করছে। ফলে যা অবস্থা, তাতে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে যদি এই সব দেশ একটিও পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে তাতে গোটা বিশ্ব নিশ্চিহ্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

ভয়ঙ্কর জলজ ড্রোন ও নতুন পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে রাশিয়া। পানির নিচে চলাচলে সক্ষম এমন একটি ড্রোনের ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এ ছাড়া রুশ সেনাবাহিনী শিগগিরই অ্যাভাঙ্গার্ড নামের নতুন একটি পরমাণু অস্ত্র পেতে যাচ্ছে বলে জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এসব অস্ত্র রাশিয়াকে যেমন অন্য দেশ থেকে সামরিক দিক দিয়ে এগিয়ে নেবে, ঠিক তেমনি অন্য দেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও অকার্যকর করে দেবে।

রুশ সেনাবাহিনীর প্রদর্শিত একটি ভিডিওচিত্রে বলা হয়, দুই মেগাটন পরমাণুর ওয়ারহেড যুক্ত এ ড্রোন পশ্চিমা দেশগুলোর বন্দরগুলোকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হবে। শত্রুদের নৌঘাঁটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা পোসেইডন টর্পেডো নামের এই ড্রোন ঘণ্টায় ৭০ নট গতিতে চলতে পারে। 

পুতিন বলেছিলেন, নতুন এ অস্ত্র শত্রুদের হস্তক্ষেপ থেকে নিরাপদ থাকবে। এ অস্ত্রের নেপথ্যে থাকা বিজ্ঞানীদের তিনি প্রশংসা করে ‘আমাদের সময়ের নায়ক’ বলে আখ্যা দেন। মস্কোতে বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণে পুতিন বলেছিলেন, অস্ত্রটিতে একটি পরমাণুচালিত ক্রুজ মিসাইল, একটি পরমাণুচালিত জলজ ড্রোন এবং এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে নতুন হাইপারসনিক মিসাইল। এ সময় এগুলোর ভিডিও একটি বড় স্ক্রিনে দেখানো হয়। ওই ভিডিওতে দেখানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওপর বৃষ্টির মতো বোমা ফেলা হচ্ছে। ভাষণে পুতিন বলেন, এই নতুন অস্ত্র ন্যাটোর মার্কিন নেতৃত্বাধীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে একেবারেই অর্থহীন করে তুলেছে। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, রুশ সেনাবাহিনী শিগগিরই নতুন পরমাণু পেতে যাচ্ছে। অ্যাভাঙ্গার্ড নামের নতুন এই অস্ত্র আগামী বছর থেকেই আসা শুরু করবে। আর নতুন সারমাট নামের আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ২০২০ সাল থেকে কাজ শুরু করবে।  অ্যাভাঙ্গার্ড শব্দের চেয়ে ২০ গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। অতি দ্রুত চলার কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এটিকে দুই হাজার সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চলার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। অস্ত্রটি এর গন্তব্য পথে কোর্স ও উচ্চতা দু’টিই পরিবর্তন করতে পারে, যা তাকে যেকোনো মিসাইল প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে অভেদ্য করে তুলতে পারে। 

অন্য দিকে সারমাট এর আগে সোভিয়েত আমলে তৈরি করা ভোয়াভোডার স্থানে প্রতিস্থাপন করা হবে। ১০টি পরমাণু ওয়ারহেড বহনকারী ভোয়াভোডা পশ্চিমা বিশ্বের কাছে শয়তান নামে পরিচিত। পুতিন মার্চে বলেছিলেন, সারমাটের ওজন ২০০ মেট্রিক টন ও এটি ‘শয়তান’-এর চেয়ে অনেক ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারে এবং বেশি ওয়ারহেড নিয়ে চলতে পারে।  এসব অস্ত্রের কারণে রাশিয়া অন্য দেশের চেয়ে কয়েক বছর এমনকি কয়েক দশক এগিয়ে যাবে। এসব অস্ত্র অন্য দেশের দামি প্রতিরক্ষা সিস্টেমকে অকার্যকর করে তুলবে।

ভারতের ব্যালেস্টিক মিসাইল অগ্নি-৫ এর পরীক্ষা করা হয় ওড়িশার আবদুল কালাম ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে৷ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে খুবই শিগগিরই সংযুক্ত করা হবে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এই মিসাইলকে৷ চীন ও পাকিস্তানকে সামনে রেখেই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা৷

কারণ, ৫০০০ কিলোমিটার দূরত্বে শত্রুকে ঘায়েল করতে সক্ষম এই মিসাইল৷ ফলে এই পাল্লার মধ্যে অতি সহজেই চলে আসছে চীন ও পাকিস্তানের অনেকটা অংশ৷ ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড মিসাইল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের অন্তর্গত অগ্নি-৫ শেষ পরীক্ষা করা হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে৷ তবে মিসাইলটি তৈরির সময়ও বহুবার পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তখনও প্রতিটি পরীক্ষা সফল হয়েছিল৷ এবারও পুরোপুরি সফল হয়েছে৷

প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিআরডিও জানাচ্ছে, অন্যদের তুলনায় অগ্নি-৫-এর নেভিগেশন সিস্টেম অনেক বেশি অত্যাধুনিক৷ এতে ব্যবহার করা হয়েছে দু’ধরনের নেভিগেশন সিস্টেম৷ প্রথমটি, Ring Inertial Navigation System বা RINS এবং দ্বিতীয়টি, Micro Navigation System বা MINS৷ সর্বোচ্চ ১.৫ কিলোগ্রাম পারমাণবিক ক্ষেপনাস্ত্র বহনে সক্ষম এই মিসাইলের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেক কম৷