Naya Diganta

নালিতাবাড়ীতে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা : ডাক বাংলোর কর্মচারি গ্রেফতার

ধর্ষণ
অনাথ ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীটি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা এক অনাথ ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। ওই তরুণীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো নালিতাবাড়ীর ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারি রমজান আলীকে গতকাল বুধবার গ্রেফতার করেছে নালিতাবাড়ী পুলিশ।

এলাকাবাসী এবং পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, নালিতাবাড়ী শহরের ছিটপাড়া মহল্লার গাংপাড় এলাকায় জনৈক আহসানের বাড়িতে আশ্রিত পিতৃহীন তরুণী (২২) তার ভিক্ষুক মায়ের সাথে থেকে ভাঙ্গারী কুড়িয়ে জীবন চালাত। সম্প্রতি ওই তরুণীর পেট অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথা অনুভব করে। এতে সে তার মাকে সাথে নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে চিকিৎসক তাকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানায়। এ ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে এলাকাবাসী তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে ওই তরুণী ৩-৪ দিনের ব্যবধানে রমজান ও বিপ্লব- এ দু’জনের নাম প্রকাশ করে এবং প্রায় আট মাসের অধিক সময় আগে তার সাথে মেলামেশা করেছে বলে জানায়।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ বুধবার ওই তরুণীকে উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক সত্যতা পায়। পরে দুপুরের দিকে রমজান আলীকে আটক করে এবং রাতেই ওই তরুণী বাদী হয়ে রমজান ও বিপ্লবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

তরুণী জানায়, প্রায় আট মাসের অধিক সময় আগে একদিন সকালে সে ভাঙ্গারী কুড়াতে ডাক বাংলোয় যায়। এসময় পিয়ন রমজান আলী তাকে ভাঙ্গারী দেয়ার কথা বলে ডাক বাংলোর একটি কক্ষ পরিষ্কার করে দিতে বলে। কথামতো ওই তরুণী ডাক বাংলোর একটি কক্ষে গেলে রমজান তাকে ফুসলিয়ে মেলামেশা করে।

সে আরো জানায়, রজমানের কয়েকদিন আগে নিলামপট্টি মহল্লার বিপ্লব (৩৮) বর্তমানে পরিত্যক্ত অগ্রণী ব্যাংক নালিতাবাড়ী শাখার পেছনে একটি কক্ষে নিয়ে পুরনো প্লাস্টিকের বোতল দেয়ার কথা বলে একইভাবে মেলামেশা করে।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফসিহুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা ও আদালতে জবাববন্দি দেয়ার জন্য শেরপুরে পাঠানো হবে।

আরো পড়ুন :
৭০ বছরের বিধবা বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে পলাতক
বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা, ০২ জুন ২০১৮
গভীর রাতে নিজ ঘরে ঘুমন্ত ৭০ বছরের এক বিধবাকে ধর্ষণ করেছে ৩৫ বছর বয়সী এক তরুণ। ওই বিধবা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চাঞ্চল্যেকর এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার গভীর রাতে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পাইককান্দি গ্রামে।

বালিয়াকান্দি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ আকরাম হোসেন খাঁন জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে ওই বৃদ্ধা ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী মালেক মৃধার ছেলে পরান মৃধা (৩৫) ঘরে ঢুকে মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে বালিয়াকান্দি পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষক পরানের বিরুদ্ধে বহু বিবাহ ও চুরির অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষণের পরই পালিয়ে গেছেন পরান।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জানান, বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে আনলে মেডিকেল পরীক্ষাসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজবাড়ীতে পাঠানো হয়েছে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগম জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদারীপুরে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ : ধর্ষক আটক
মাদারীপুর সংবাদদাতা ০৫ জুলাই ২০১৮
পুকুরে গোসল করার সময় ভয় দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে মো: তুষার শিকদার নামে একজনকে আটক করেছে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চতুরপাড়া গ্রামে বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ওই শিশুটির পরিবার। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য শিশুটির পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চতুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে স্কুলপড়ুয়া শিশুটি (৮) প্রতিদিনের মতো বুধবার দুপুরের পরে আহম্মদ হাওলাদারের পুকুরে গোসল করতে গেলে, পাশের বাড়ির সেলিম শিকদারের ছেলে তুষার শিকদার গোসল করতে এসে ভয় দেখিয়ে জোর করে ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করতে থাকে। শিশুটির চিৎকার শুনে তার চাচাতো ভাই হাফিজুল দৌড়ে এলে ধর্ষক তুষার শিকদার পালিয়ে যায়।

পরে আসেপাশের লোকজন ছুটে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডা: উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক তুষার শিকদারকে আটক করে।

মেয়েটির বাবা-মা বলেন, আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের মেয়ের সাথে যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার কঠোর শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) ইশতিয়াক আশফাক রাসেল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। উক্ত ঘটনার অভিযোগে আমরা তুষার শিকদারকে আটক করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।