Naya Diganta

বিমানের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন ১০০ যাত্রী ও ক্রু

বিমানের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন ১০০ যাত্রী ও ক্রু

এমিরেটসের একটি বিমানের ভেতরে বহু যাত্রী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে অবতরণের পর তাদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিমানটি দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছায়।

কিন্তু যাত্রাপথে বিমানের ভেতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী। তখন চিকিৎসকরাও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখেন।

এই ঘটনার পর বিমানটিকে সাময়িকভাবে আলাদা করে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসি বলছে, প্রাথমিকভাবে বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১০০ জনের মতো অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় বিমানের ক্রুরাও বলতে থাকেন যে তারাও হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বিমানটির ভেতরে তখন ৫২১ জন যাত্রী ছিল। অবতরণের সাথে সাথে বিভিন্ন জরুরি বিভাগের গাড়ি রানওয়েতে জড়ো হতে শুরু করে।

তখন এমিরেটসের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয় যে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যারা সুস্থ আছেন তাদেরকে বিমান থেকে চলে যাওয়ার অনুমতিও দেয়া হবে বলে তারা জানান।

সিডিসির পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, "১০০ জনের মতো যাত্রী, যাদের মধ্যে কয়েকজন ক্রু সদস্যও রয়েছেন, তারা জ্বর ও কাশিতে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা বলতে থাকেন।"

"আমাদের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সবকিছু খতিয়ে দেখছেন। অসুস্থ যাত্রীদের গায়ের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে দেখার পর তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।" পরে নিউ ইয়র্কের মেয়রের একজন মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন যে অসুস্থ যাত্রী ও ক্রুদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিমানের এক যাত্রী ল্যারি কোবেন টুইটারে কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে সুস্থ কিছু যাত্রী বিমান থেকে নেমে যাচ্ছেন।

এবিসি নিউজের খবরে বলা হচ্ছে, অবতরণের আগেই পাইলট জানিয়েছেন যে বেশকিছু যাত্রী কাশছেন এবং তাদের গায়ের তাপমাত্রাও খুব বেশি। বিমানের ভেতরে একসাথে এতোজন যাত্রীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। এই ঘটনার জন্যে ফুড পয়জনিংকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে।

তবে মেয়রের মুখপাত্র বলেছেন, কয়েকজন যাত্রী আসছিলেন সৌদি আরবের মক্কা শহর থেকে। সেখানে ফ্লুর সংক্রমণ ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এটিও একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন :

কাতারের ভৌগোলিক মানচিত্র পরিবর্তন করতে গভীর ষড়যন্ত্র!
নয়া দিগন্ত অনলাইন

কাতারকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপরাষ্ট্রে পরিণত করতে একটি খাল কাটার পরিকল্পনা করছে সৌদি সরকার। দেশটির একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারের সাথে যখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশরের মারাত্মক দ্বন্দ্ব চলছে তখন সৌদি সরকার এই পরিকল্পনা নিলো।

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের শীর্ষ উপদেষ্টা সাউদ আল-কাহতানি টুইটারে দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে ‘পূর্ব সালওয়া দ্বীপ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের অপেক্ষা করছি। এই মহান ও ঐতিহাসিক প্রকল্প মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক মানচিত্রকে পরিবর্তন করে দেবে।


গত এপ্রিল মাসে এই প্রকল্পের কথা প্রথম প্রকাশ করে সৌদি গণমাধ্যম। সে সময় আরবি ভাষার অনলাইন পত্রিকা ‘সাবকা’ জানিয়েছিল, এই খালের দৈর্ঘ্য হবে ৬০ কিলোমিটার, প্রস্ত হবে ২০০ মিটার এবং ২০ মিটার গভীর হবে। কাতার সীমান্ত থেকে ৯৬৫ মিটার বা এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করবে সৌদি আরব।  

এই খালে সৌদি আরব একটি পর্যটন রিসোর্ট এবং একটি পরমাণু বর্জ্যের ডাম্পিং কেন্দ্র বানাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হবে। গত জুন মাসে দি মক্কা পত্রিকা জানিয়েছিল, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সৌদি সরকার এবং এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক পাঁচটি কোম্পানি দরপত্রে অংশ নিয়েছে। বিজয়ী কোম্পানির নাম ঘোষণা করা হবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে।

৬০ কিলোমিটার খালে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে কাতার

প্রায় ৬০ কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপের দেশ কাতারের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ছিন্ন করতে যাচ্ছে সৌদি আরব।সৌদি সীমান্ত ছাড়া কাতারের তিন দিকেই রয়েছে সমুদ্র। আর শুধু একদিকে রয়েছে স্থলসীমান্ত- যা সৌদি আরবের সঙ্গে সংযুক্ত। এবার এই স্থল সীমান্তে খাল খনন করে কাতারকে দ্বীপ রাষ্ট্রে পরিণত করতে যাচ্ছে রিয়াদ। তবে পুরো প্রকল্পটি সৌদি ভূখণ্ডে হওয়াতে কাতারের অভিযোগ করার সুযোগ থাকবে না।

সালওয়া ক্যানেল নামে খালটি খননের জন্য চলতি মাসের ২৫ জুনের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২০০ মিটার প্রস্থের খালটি খননের জন্য ইতিমধ্যে ৫টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র জমা দিয়েছে। কাজ শেষ করার জন্য এক বছর সময় পাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। ১৫ থেকে ২০ মিটার গভীর হবে খালটি। সেখানে একটি সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক বর্জ্য ফেলার জায়গাও থাকবে বলে জানা গেছে।

খালটিতে ৩৩ মিটার লম্বা এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ চলাচল করতে পারবে। এছাড়া এর তীরে হোটেল, রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে সৌদি সরকারের। আরব আমিরাত ও সৌদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এতে অর্থায়ন করছেন। আর মিসরীয় কিছু প্রতিষ্ঠান খননকাজে সহায়তা করবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৭৪৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।