Naya Diganta

কিশোরদের উলঙ্গ করে যৌন নির্যাতন

কিশোরদের উলঙ্গ করে যৌন নির্যাতন

১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে ভারতে এক বৌদ্ধ সন্যাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই সন্যাসীর বিরুদ্ধে বিহারের এক আশ্রমের ১৫ জন কিশোরকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ পায় পুলিশ।

পুলিশ আরো জানায়, কিশোরদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ওই সন্যাসী গয়াতে পালিয়ে যান। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি তার আশ্রমের কিশোরদের উপর নানা অত্যাচার করত। তাদের মারতো, উলঙ্গ করে তাদের নাচাতে বাধ্য করতো। কেউ কিছু বললে তাদের খাবার না দিয়ে আটকে রাখতো। 

ভারতের উচ্চপদস্থ এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওই আশ্রমে ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী দরিদ্র কিশোরদের বিভিন্ন যায়গা থেকে নিয়ে আসা হত। আশ্রমে থাকা কিশোররা তাদের অভিভাবকদের ওই সন্যাসীর বিরুদ্ধে শারিরিকি ও যৌন নির্যাতনের কথা বলতো।

যৌন হামলা ঠেকাতে ইলেকট্রোড জ্যাকেট
বিবিসি, ২০ আগস্ট ২০১৮

যৌন হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে মেক্সিকোর চারজন শিক্ষার্থী মিলে একটি জ্যাকেট উদ্ভাবন করেছেন। বলা হচ্ছে, এই জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় থাকলে কেউ যখন তার উপর হামলা চালাতে আসবে তখন জ্যাকেটের হাতা থেকে হামলাকারীর গায়ে বৈদ্যুতিক শক লাগবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা যে শহরে আছেন, সেখানে ধর্ষণের মতো যৌন হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা এরকম একটি জ্যাকেট তৈরি করতে উৎসাহিত হয়েছেন।


তারা বলছেন, এই বৈদ্যুতিক শকের তীব্রতা এতোটাই কম যে এর ফলে জ্যাকেটটিকে কোনো ধরনের অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তবে এর মাধ্যমে যে কোনো ধরনের যৌন হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।

পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি এই জ্যাকেটের নাম দেয়া হয়েছেন ওমেন ওয়েরাবেল।

প্রকৌশল, আইন ও রোবটিক্স বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী মিলে এই জামাটি তৈরি করেছেন। তারা সবাই পুয়েবলা শহরে মন্টেরি ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি এন্ড হায়ার এডুকেশনে পড়াশোনা করেন।

নতুন নতুন পণ্যের বাণিজ্য নিয়ে ক্লাসে পরীক্ষামূলক কাজের অংশ হিসেবেই তারা এটি উদ্ভাবন করেছেন।

"আমাদের অনেক বান্ধবী ও পরিচিতদের কাছে শুনেছি যে তাদের উপর নানা ধরনের যৌন হামলা চালানো হয়েছে। এ ধরনের সহিংসতার ওপর কিছু গবেষণার পর আমরা এই জ্যাকেটের ধারণাটি নিয়ে এসেছি," বলেছেন শিক্ষার্থীদের একজন পারা কুইরোজ।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, পুয়েবলা শহরে প্রতিদিন প্রায় তিনটি করে যৌন হামলার ঘটনা ঘটছে।

কীভাবে কাজ করে এই জ্যাকেট?

শিক্ষার্থীরা প্রথমে সুতার তৈরি একটি ট্র্যাক সুট কিনে আনেন। তারপর তার লাইানিং-এর ভেতরে ৯ ভোল্টের একটি ব্যাটারি, একটি ট্রান্সফরমার এবং কিছু তার ঢুকিয়ে দেন। এগুলো এমনভাবে পেঁচানো অবস্থায় থাকে যে যিনি এই জ্যাকেট পরবেন তার গায়ে বিদ্যুতের শক লাগবে না।

বিদ্যুৎ চালু ও বন্ধ করার জন্যে সেখানে একটি সুইচ বা বোতাম লাগানো আছে। আছে একটি এলইডি বাতিও।

রোবটিক্সের শিক্ষার্থী গিওয়ান পার্ক সার্কিটের নকশা তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, জ্যাকেটের একটি বোতামের মাধ্যমে এর ভেতরে বিদ্যুৎ চালু করা হয়। লাইট জ্বলে উঠতে বুঝতে হবে যে নিজেকে রক্ষা করার জন্যে জামাটি তৈরি হয়ে গেছে।

এরকম অবস্থায় যখন কেউ জ্যাকেটের হাতার ইলেকট্রোডকে স্পর্শ করবে তখন সার্কিটটি বন্ধ হয়ে যাবে এবং যিনি স্পর্শ করবেন তার গায়ে বিদ্যুতের শক লাগবে।

তখন হামলাকারী হতভম্ব হয়ে যাবেন এবং তখনই নির্যাতিত নারী দৌড়ে পালাতে পারবেন এবং তিনি যে হামলার শিকার হয়েছেন সেটা তিনি আশেপাশের লোকজনকে জানানোর সুযোগ পাবেন।

এটা কি বৈধ?

আইনের শিক্ষার্থী গুয়াদালোপ মার্তিনেজ বলেছেন, এর ফলে আইনের লঙ্ঘন হবে না। কারণ এটি "আত্মরক্ষার একটি হাতিয়ার।"

তিনি বলেন, এখানে বৈদ্যুতিক শকের মাত্রা খুব কম। এর ফলে কারো জীবনের উপর হুমকি তৈরি হবে না। আর একারণে এই জ্যাকেটটি কোন ধরনের অস্ত্র হিসেবেও বিবেচিত হবে না।

দাম কতো হতে পারে?

পরীক্ষামূলকভাবে এই জ্যাকেটটি তৈরি করতে সময় লেগেছে তিন মাসের মতো।

উদ্ভাবক শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা এটিকে আরো কিছুটা উন্নত করতে চান। এতে সেন্সর লাগাতে চান। চান জ্যাকেটের হাতা ছাড়াও অন্যান্য জায়গাতেও ইলেকট্রোড বসাতে।

তারা বলছেন, এই প্রযুক্তি হয়তো পরে ব্লাউজ, স্কার্ট এবং ট্রাউজারের মতো পোশাকেও লাগানো যেতে পারে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা প্রায় ৫০ ডলার দামে তাদের তৈরি এই জ্যাকেট বিক্রি করবেন।

যৌন বিকারগ্রস্ত ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলেন যে নারী
বিবিসি, ১১ জুলাই ২০১৮

প্রতি সন্ধ্যায় চেলসি হান্টার (কাল্পনিক নাম) তার সন্তানদের স্কুল থেকে বাসায় এনে রাতের খাবার খাওয়ানোর পর ঘুম পাড়িয়ে তার আরেক জীবন শুরু করেন। পরিচয় গোপন করে স্কুলের বালিকা সেজে বয়স্ক পুরুষদের সাথে ইন্টারনেটে চ্যাট করেন তিনি।

অনলাইনে শিশুদের ব্যবহারের মাধ্যমে কিভাবে যৌন ব্যবসা করছেন, অন্ধকার জগতের সে গল্প তিনি বিবিসিকে বলেন।


যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে ১৪ বছর বয়সী একটি বালিকার সাথে দেখা করার কথা ছিল আব্দের রফ কুতেইনেহ'র।

৭৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দু'সপ্তাহ আগে অনলাইনে বন্ধুত্ব করেন ঐ বালিকার সাথে। এ সময়ের মধ্যে শতাধিক অশালীন মেসেজ পাঠান ঐ বালিকাকে।

একটি রেল স্টেশনে বালিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু তার বদলে সেখানে ৩৫ বছর বয়সী মিজ. হান্টারকে পান তিনি।

মিজ. হান্টারের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যেসবের ভিত্তিতে উইন্ডসরের কুইতেনেহ'কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কেন্টের বাসিন্দা চেলসি হান্টার প্রায় এক বছর ধরে দ্বৈত জীবনযাপন করছেন। সন্তানদের লালন পালন আর ঘরের কাজে পার হয় তার দিন। রাতে তার পরিচয়, ১৪ বছর বয়সী ক্লো।

হান্টার ও তার স্বামী "শ্যাডো হান্টার" নামের একটি সংঘের সদস্য। এই সংঘের সদস্যরা অনলাইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সাথে যৌনসম্পর্ক করতে চাওয়া পুরুষদের সাথে কমবয়সী মেয়ে সেজে কথা বলে এবং তাদের সাথে দেখা করতে বিভিন্ন জায়গায় যায়।

সংগ্রহ করা প্রমাণ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ হাতেনাতেও ধরতে সক্ষম হয় খদ্দেরকে। যৌন কাজে শিশু ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে এই ধরনের সংঘের কার্যক্রম সাধারণত পুলিশ সমর্থন করে না।

শ্যাডো হান্টারের সংগ্রহ করা তথ্য-প্রমাণে মূলত অভিযুক্ত ব্যক্তির অনলাইন চ্যাট হিস্ট্রি বা ভিডিও লগ হয়ে থাকে।

হান্টার বলেন, "অনলাইনে আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত ছদ্মবেশ নিচ্ছেন ততক্ষণ আপনি জানতেও পারবেন না।" ২০'-এর কোঠা থেকে ৭০'এর কোঠায় হয়ে থাকে খদ্দেরদের বয়স।

হান্টার বলেন, "যারা পুলিশের কাছে ধরা পড়েন তাদের পরিবারের জন্য খুবই লজ্জাজনক এক পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ শুরুতেই পুলিশ তাদের বাসা থেকে ঐ ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের মত সব যোগাযোগের যন্ত্র জব্দ করে, যা ব্যক্তির পরিবারকেও অসম্মানজনক অবস্থায় ফেলে।"

আগস্ট থেকে শ্যাডো হান্টারে যাোগ দেয়ার পর ৫০ জনেরও বেশী পুরুষের সাথে, যারা শিশুদের সাথে যৌনসম্পর্ক করতে চায়, অনলাইনে চ্যাট করেছেন মিজ. হান্টার।

হান্টার জানান তার সংগ্রহ করা প্রমাণ যেন আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় সেজন্য বেশকিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় তাকে।

"সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমারা কাউকে অনুরোধ পাঠাই না; তারা আমাদের সাথে বন্ধু হতে চায়।"

"সামাজিক মাধ্যমে বন্ধু হওয়ার পরও আমরা শুরুতে তাদের কোনো মেসেজ পাঠাই না। প্রথমেই আমরা তাদেরকে আমাদের (ছদ্ম)বয়স জানাই এবং তাদের কাছে জানতে চাই তারা এতে খুশী কিনা।"

"নিয়ম অনুযায়ী আমরা স্বাভাবিকভাবেই চ্যাট করি তাদের সাথে। তারাই আলোচনা যৌন সংক্রান্ত বিষয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকে এবং অধিকাংশ সময় দেখা করতে চায়। এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আমরা কখনো উস্কানি দেই না।"

বিবিসিকে সেসব চ্যাটের বেশকিছু স্ক্রিনশট দেখান মিজ. হান্টার যার অধিকাংশই প্রকাশের যোগ্য নয়।

বিভিন্ন সময় শ্যাডো হান্টারের কাজের এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলো।

তবে শ্যাডো হান্টার মনে করে, যারা এবাবে শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক করতে চায়, তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সাহায্য প্রয়োজন ।

হান্টার বলেন, "অবশ্যই এটি পুলিশের কাজ, কিন্তু তাদেরও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।"

"এমনকি তারাও আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে আমরা যে পদ্ধতিতে কাজ করি সেটি তাদের পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়," বলেন হান্টার।

"এসব লোকেরা একটি শিশুকে যে ধরণের মেসেজ পাঠায় সেটি তার শৈশব ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।"

মিজ হান্টার বলেন' "আমার মতে এই ধরণের মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশের যথেষ্ট কার্যক্রম নেই। আমরা যেসব মাধ্যম ব্যবহার করি তারা তা ব্যবহার করে না।"

"এই অপরাধের বিরুদ্ধে আমি যদি কোনো ভূমিকা রাখতে পারি তাহলে আমি তাই করবো, সেটি পুলিশের ভালো লাগুক আর না লাগুক।"