Naya Diganta

নজরুল বিরল এক অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বের নাম : অধ্যাপক রফিকুল

জাতীয় অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলাম বিরল এক অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বের নাম। এ সম তিনি নজরুলের যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন। ’নজরুলকাব্যে মিথিক-ঐতিহ্যিক প্রতিমা : ফিরে দেখা’ শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সাহিত্যসৃষ্টির পরিসর পর্যন্ত নজরুল বিরল এক অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বের নাম। আমাদের দুর্ভাগ্য তাঁর মতো অনন্য প্রতিভাকে এখনও আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে সব ধরনের সংকীর্ণতামুক্ত হয়ে নজরুলকে তাঁর যথার্থ বৈশ্বিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা।
স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, নজরুল ছিলেন এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। যে অসাম্প্রদায়িক-শোষণমুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র ও বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছেন আমাদেরও সে পথে এগোতে হবে। তবেই এদেশে নজরুল চেতনার যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটবে।
একক বক্তা অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সমন্বয়বাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বার্থক উত্তরাধিকারী। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কবিতায় তাঁর বক্তব্যের যথার্থতা ফুটিয়ে তোলার বাহন হিসেবে বিপুলভাবে মিথ ও ঐতিহ্যের অনায়াস ব্যবহার করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ দ্বিধাহীন। তাঁর অসাম্প্রদায়িক মানসের প্রকৃত সন্ধান পেতে হলে সমগ্র নজরুল রচনার পাঠ অত্যন্ত জরুরি। কারণ তাঁর কাব্যে ও অন্যান্য রচনায় মিথের ব্যবহার কোনো খ-িত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেনা বরং সামগ্রিকভাবে বিশ্ব মানবমঙ্গলের আহ্বান ধ্বনিত করে।
সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মো. রফিকুল ইসলাম। নজরুলগীতি পরিবেশন করেন শিল্পী ডালিয়া নওশীন এবং মাকসুদুর রহমান মোহিত খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মাহবুবা রহমান।