Naya Diganta

গর্ভকালীন বিশ্রামের জায়গাটি কেমন হওয়া উচিত?

গর্ভবতী মায়ের বিশ্রামের কক্ষটি প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে সাজাতে হবে

গর্ভবতী যেসব মায়েদের গর্ভকালীন বা প্রসবকালীন জটিলতা হতে পারে সাধারণত চিকিৎসকেরা তাদের পূর্ণ বিশ্রাম বা বেড রেস্টে থাকতে বলেন। আমাদের দেশের মায়েদের, স্বামী ও সন্তানদের পরিচর্যার পাশাপাশি যাদের সংসারের সব খুঁটিনাটি দিকগুলো সামালা দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের পূর্ণ বিশ্রাম নেয়া হয়ে ওঠে না। উচ্চবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে এসব সীমাবদ্ধতা মোটামুটি কাটিয়ে ওঠা গেলেও পূর্ণ বিশ্রামের বিষয়টি সম্বন্ধে যথাযথ ধারণা না থাকার ফলে অনেক মা-ই গর্ভকালীন বা প্রসবকালীন বিভিন্ন জটিলতার শিকার হন। আমাদের আজকের এ লেখায় আমরা গর্ভকালীন পূর্ণ বিশ্রামের জন্য আপনি কী কী করতে পারেন, পূর্ণ বিশ্রামের কক্ষটিকে কিভাবে সাজাবেন, বিশ্রামের কক্ষটিকে কিভাবে আরো আরামদায়ক করা যায়, হাসপাতালে কিভাবে পূর্ণ বিশ্রাম নেবেন, সেসব বিষয়ে আলোচনা করব।

গর্ভকালীন পূর্ণ বিশ্রামের সময় আপনি যা করতে পারেন : সম্পূর্ণ দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন। প্রতিদিন মোটামুটি একটি রুটিন মেনে চলার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন বই, দৈনিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়ুন; পছন্দের মুভি দেখতে পারেন, অগোছালো ছবিগুলো অ্যালবামে সাজিয়ে ফেলুন, বাড়ির বিভিন্ন বিল, কুপন ইত্যাদি গুছিয়ে রাখলে পরে এসবের ঝামেলাগুলো সহজ হয়ে যাবে। ধর্মগ্রন্থ পড়তে পারেন, দূরের আপনজনের কাছে চিঠি লিখুন, বাড়ির মহিলা সদস্যদের চুলের খোঁপা বা বেণী করে দিন, ডায়েরি লিখুন, সূচিকর্ম করুন, ওয়ার্ড সার্চ, ক্রসওয়ার্ড পজল বা কার্য নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।

বিশ্রামের কক্ষটির জন্য প্রয়োজনীয় উপরোক্ত জিনিসগুলো ছাড়াও নিচের জিনিসগুলো আপনার পছন্দমতো সাজিয়ে নিন : ছোট টেবিল অথবা ট্রে-টেবিল টেলিফোন, সম্ভব হলে কর্ডলেস কলম, পেন্সিল, স্ট্যাম্প, এনভেলাপ, প্রয়োজনীয় স্টেশনারি ক্যালেন্ডার ওয়েস্ট পেপার বাস্কেট, পানির কনটেইনার বা জগ ও গ্লাস, টিভি, রিমোর্ট, টিভি গাইড, প্রয়োজনীয় কসমেটিক্স, আয়না, হেয়ার ব্রাশ, টিস্যু পেপার ক্যালকুলেটর কুলার অথবা ফলমূল রাখার জন্য ছোট্ট রেফ্রিজারেটর, ফলমূল রাখার জন্য ছোট্ট বাস্কেট, কাজের লোককে ডাকার জন্য কলিংবেল, গেমস কার্ডস ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বালিশ-কাঁথা, কম্বল প্রয়োজনীয় বইপত্র, ম্যাগাজিন, পত্রিকা, সিডি, দরকারি কাগজপত্রের ফাইল, ডায়েরি, টেলিফোন ডাইরেক্টরি, অ্যালবাম ইত্যাদি।

আরো পড়ুন :

কাশির চিকিৎসায় আর নয় অ্যান্টিবায়োটিক
বিবিসি বাংলা

সর্দি কাশির চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। খুঁজছেন প্রাকৃতিক সমাধান।

সর্দি কাশি হলেই এখন আর ঘড়ির কাঁটা গুনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া জরুরি নয়।


সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়ক হতে পারে মধু। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সেখান থেকে জানা যায় কাশির সমস্যায় ভুগছেন তাদের চিকিৎসায় অব্যর্থ ভূমিকা রাখতে পারে এই মধু। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক এতো ভাল কাজ করেনা।

তবে কাশি বেশিরভাগ সময় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শ অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেননা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্রয়োগের ফলে মানুষের শরীর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ধরণের ইনফেকশন সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়।

কাশির সহজ সমাধান:
গরম পানিতে সামান্য মধু, লেবুর রস আর আদার রসের মিশ্রণ কফ এবং গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য বহুল প্রচলিত এই ঘরোয়া পানীয়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্স (এনআইসিই) এবং পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাবিত নির্দেশিকা প্রকাশ করে।

সেখান থেকে জানা যায়, কফের সমস্যা পুরোপুরি সারিয়ে তোলার ব্যাপারে সীমিত কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে যেটা অনেকের কাজে আসতে পারে।

যেসব কফ মেডিসিনে পেলারগোনিয়াম, গুয়াইফেনেসিন বা ডিক্সট্রোমেথরফ্যান উপাদান রয়েছে সেটা বেশ উপকারী হতে পারে।

রোগীদের ঘরোয়া পানীয় তৈরির পাশাপাশি এ ধরণের ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে নিজে নিজে রোগ সেরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভাল বলে জানান তারা।

অ্যান্টিবায়োটিক কেন নয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাসের কারণে এই কাশির সমস্যা হয়ে থাকে। যেটা সব সময় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা যায়না। বরং এটি নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়।

তা সত্ত্বেও আগের গবেষণায় দেখা গেছে যে যুক্তরাজ্যের ৪৮% চিকিৎসক কাশি বা ব্রংকাইটিস রোগের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের উপ পরিচালক ডাঃ সুজান হপকিন্স বলেছেন: "মানুষের শরীর যদি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে পড়ে তাহলে সেটা বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে আমাদের এখন থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

"এই নতুন নির্দেশিকাগুলি প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিকের হার কমাতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন ডক্টর সুজান।

তিনি মনে করেন, চিকিৎসকদের উচিত ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের খেয়াল রাখার ব্যাপারে রোগীদের আরও উৎসাহিত করা।

ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা প্রফেসর ডেইম স্যালি ডেভিস ইতোমধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেছেন, যদি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রোগের চিকিৎসা করা আরও জটিল হয়ে যায়।

সেইসঙ্গে সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন ক্যান্সার এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে জানান প্রফেসর ডেইম স্যালি।

কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন?
নির্দেশিকাগুলো এটাও সুপারিশ করে যে, কাশি যদি বড় ধরণের কোন অসুস্থতার কারণে হয়ে থাকে, অথবা রোগী যদি আরও জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ায় ঝুঁকিতে থাকে যেমন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে।

মধু এক্ষেত্রে আদর্শ ওষুধ হলেও এক বছরের বয়সের নীচে শিশুদের মধু খাওয়াতে নিষেধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেননা মধুতে অনেক ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যেটা খেলে শিশুর পেট খারাপের ঝুঁকি থাকে।

ডক্টর টেসা লুইস একজন চিকিৎসক এবং এন্টিমাইক্রোবায়াল প্রেসক্রাইবিং গাইডলাইন গ্রুপের সভাপতি।

তিনি মনে করেন, "যদি কাশি সেরে ওঠার পরিবর্তে দিন দিন খারাপের দিকে যায়, অথবা রোগী যদি খুব বেশি অসুস্থ বোধ করেন বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।"

খসড়া সুপারিশগুলি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক নির্ধারণের নির্দেশিকার একটি অংশ যেটা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্স (এনআইসিই) এবং পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড যৌথভাবে তৈরি করছে।