Naya Diganta

পোপ ফ্রান্সিসের পদত্যাগ দাবি

পোপ ফ্রান্সিসের পদত্যাগ দাবি

মার্কিন কার্ডিনাল থিওডোর ম্যাককারিকের যৌন নিপীড়নের কথা জানার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এখন রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এর পদত্যাগ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাটিক্যানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ কার্লো মারিয়া ভিগানো। তিনি পোপ ফ্রান্সিসের আয়ারল্যান্ড সফরের সময় রোমান ক্যাথলিক গণমাধ্যমগুলোতে ১১ পাতার একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন। এ বিবৃতির শেষেই পোপ ফ্রান্সিসকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি।

আর্চবিশপ ভিগানো ভ্যাটিক্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের চার্চগুলোর বর্তমান ও অতীতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্ডিনাল ম্যাককারিকের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ করেন। রোববার তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ বছর আগে ২০১৩ সালের ২৩ জুনে মার্কিন কার্ডিনাল থিওডোর ম্যাককারিকের যৌন অসদাচরণ এবং নিপীড়নের মতো অপকর্মের কথা নিজেই পোপ ফ্রান্সিসকে জানিয়েছিলেন তিনি। ম্যাককারিক অনেক শিশুকে যৌন নির্যাতন করেছেন। এমনকি তিনি দুর্নীতিগ্রস্তও ছিলেন। ফ্রান্সিস তখন সব অভিযোগ সম্পর্কে জানার পরও কোনো সাড়া দেননি, তা চেপে গেছেন এবং ম্যাককারিকও চার্চের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কাজ চালিয়ে গেছেন।

বিবৃতিতে ভিগানো লেখেন,‘সার্বজনীন চার্চের জন্য এ চরম নাটকীয় মুহূর্তে তাকে অবশ্যই জিরো টলারেন্সের ঘোষিত নীতি বজায় রেখে নিজের ভুল স্বীকার করতে হবে। ম্যাককারিকের অপকর্ম যে সমস্ত কার্ডিনাল এবং বিশপরা ধামাচাপা দিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে পোপ ফ্রান্সিসকেই প্রথম একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে এবং তাদের সবার সাথে তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। ম্যাককারিকের অপরাধ সম্পর্কে পোপ প্রথম যে সময়ে জানতে পেরেছেন সেটি তাকে সততার সাথে স্বীকার করতে হবে। ’

পোপ ফ্রান্সিস আয়ারল্যান্ড সফরকালে যাজকদের শিশু যৌন নিপীড়নকে ‘অরুচিকর অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যাজকদের হাতে শিশু নিপীড়নের ঘটনা অরুচিকর অপরাধ। শিশুদের সুরক্ষা দিতে গির্জায় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট সবাই ব্যর্থ হয়েছে। যেকোনো মূল্যে এ ধরনের ঘটনা নির্মূল করা হবে। আয়ারল্যান্ডে গির্জায় শিশুদের সুরক্ষা ও শিক্ষার দায়িত্বে থাকা যাজকদের হাতে শিশু নিপীড়নের ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করিনি আমি। গির্জা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিশপ, ধর্মীয় জ্যেষ্ঠ নেতা, যাজকসহ অন্যদের এই অরুচিকর অপরাধ শনাক্ত করতে ব্যর্থতার কারণে আজ সঠিকভাবেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের জন্য এটা বেদনাদায়ক ও লজ্জার। আমি নিজেও আমার সেই আবেগ সবার সাথে ভাগ করে নিচ্ছি। 

৫০ বছর আগে এক তরুণীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর এবছর জু্লাইয়ে পদত্যাগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের যাজক থিওডোর ম্যাকক্যারিক। সেমিনারির শিক্ষার্থীদের এবং ১৬ বছরের একটি বালককেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ৮৮ বছর বয়সী ওই যাজকের পদত্যাগপত্রও গ্রহণ করেছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। তবে ম্যাকক্যারিকের দাবি, যে ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তার কিছু মনে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকক্যারিকই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ক্ষমতাধর যাজক ছিলেন যিনি এ ধরনের অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হন।

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বিভিন্ন চার্চের পাদ্রীদের দ্বারা শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। রাজ্যের গ্র্যান্ড জুরির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার শিশুদের অধিকাংশই ছেলে। তাদের ধর্ষণ-সহ নানা ধরনের যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হওয়া অনেক শিশুই পরবর্তীতে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে এবং এদের অনেকেই আত্মহত্যা করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার চার্চগুলোর যাজকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার শিশুকে যৌন নির্যাতন করার প্রমাণ মিলেছে এক সমীক্ষায়। শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে ২০১২ সালে গঠিত রয়্যাল কমিশনের একটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত ছয় দশকে শিশুকামী যাজকদের হাতে দেশটিতে প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ জন শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ১৯৫০ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ক্যাথলিক যাজকদের শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে। আর ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৪৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তি যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার দাবি করেছে। এ সব ঘটনায় এক হাজার ৮৮০ জন যাজক জড়িত ছিলেন। আর যাজকদের মধ্যে ৯০ ভাগই পুরুষ এবং ১০ ভাগ নারী। অস্ট্রেলিয়ার মোট ক্যাথলিক যাজকদের সাত শতাংশই শিশু যৌন নিপীড়নের সাথে জড়িত। যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুদের মধ্যে মেয়েদের গড় বয়স সাড়ে ১০ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে সাড়ে ১১ বছর। অস্ট্রেলিয়া জুড়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক হাজারেরও বেশি ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা হয়েছে।