Naya Diganta

নির্বাচনের আগে নগরদরিদ্র্যদের জন্য ৪০ লাখ ফ্ল্যাট

ফ্ল্যাট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার মাস আগে সরকার দেশব্যাপী নগর দরিদ্রদের জন্য ফ্ল্যাট প্রদানের মাধ্যমে আবাসন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও দরিদ্র মিলে মোট ৪০ লাখ পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে এই ফ্ল্যাট প্রদান করা হবে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে দুই পর্যায়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে ৩৬টি শহরে। আর এই প্রকল্পের জন্য দেশী ও বিদেশী পরামর্শকদের পেছনে ব্যয় হবে ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পেশ করা হবে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে। কিছু প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। এর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আবাসন কার্যক্রম, অবকাঠামো নির্মাণ, রাস্তার উন্নয়ন ইত্যাদি। এখন স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে জাতীয় নগর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মসূচি নামে ৮২৬ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা এখন পরিকল্পনা কমিশনের কাছে। এক বছর আগে প্রকল্পটি একনেকে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবনা নিয়ে সভার আপত্তি থাকায় তা সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়, সাথে কিছু নির্দেশনাও ছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, নগরীর বস্তিবাসীদের আইনগত কোনো জমি না থাকায় বস্তিতে ফুটপাথ, ড্রেন, বাথরুম, নলকূপ নির্মাণ বাদ দেয়া হয়েছে। জমিতে আইনগত অধিকার না থাকলে তাতে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। 

প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার হতদরিদ্র্য পরিবারকে সরাসরি এক বা দেড় রুমের একটি আবাসন দেয়া হবে। আর ১৫ হাজার দরিদ্র পরিবারকে কমিউনিটি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে গৃহঋণ প্রদানের সংস্থান রেখে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০২৩ সাল পর্যন্ত দুই পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩৬টি শহরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৪০ লাখ দরিদ্র ও অসহায় মানুষ এই প্রকল্পের মূল সুবিধাভোগী। প্রকল্প ব্যয়ের ১২৮ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেবে সরকার। প্রকল্প সাহায্যের মধ্যে ডিএফআইডি ও ইউএনডিপি থেকে ৬৯৭ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হবে।

প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় জানানো হয়, হত দরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার পরিবারের জন্য জমি প্রাপ্তির নিশ্চয়তাপ্রাপ্তিতে ২৪টি পৌরসভায় বাসস্থান নির্মাণ করা হবে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৫ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জমি বা দরিদ্র ব্যক্তির নিজস্ব জমিতেই কেবল অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন, মেরামত কার্যক্রম সরাসরি বাস্তবায়নের জন্য ঋণ প্রদানের প্রস্তাব করা যাবে। দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। 

এলজিআরডি মন্ত্রণালয় বলছে, পাঁচ হাজার পরিবারকে সরাসরি ৩০০ থেকে ৩৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেয়া হবে। সাথে সব ধরনের আনুষঙ্গিক সুবিধাও থাকবে। ৩৮ হাজার ৬০০টি ল্যাট্রিন, ৬ হাজার ৫০৫টি ওয়াটার পয়েন্ট, ১৪৮টি মাল্টিপারপাস কমিউনিটি সেন্টারের প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা আরো বলছে, মূলত ডিপিপিতে ফ্ল্যাট নির্মাণের সংস্থান ছিল না। ডিপিপি সংশোধনে ফ্ল্যাট সন্নিবেশন করায় উপকারভোগীর সংখ্যা কমছে। এখন যারা হবেন তারা সরাসরি উপকারভোগী। ঢাকার দুই সিটি, সাভার পৌরসভা, নারায়ণগঞ্জ সিটি, ফরিদপুর পৌরসভা, গোপালগঞ্জ পৌরসভা, কালিয়াকৈর পৌরসভা, গাজীপুর পৌরসভা, চট্টগ্রাম সিটি, চাঁদপুর পৌরসভা, কক্সবাজার পৌরসভা, কুমিল্লা পৌরসভা, ফেনী পৌরসভা, নোয়াখালী পৌরসভা, রাজশাহী সিটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, নওগাঁ পৌরসভা, পাবনা পৌরসভা, শাহজাদপুর পৌরসভা, খুলনা সিটি, কুষ্টিয়া পৌরসভা, সাতক্ষীরা পৌরসভা, মাগুরা পৌরসভা, নোয়াপাড়া পৌরসভা, সিলেট সিটি, রংপুর সিটি, সৈয়দপুর পৌরসভা, কুড়িগ্রাম পৌরসভা, দিনাজপুর পৌরসভা, বরিশাল সিটি, পটুয়াখালী পৌরসভা, ঝালকাঠি পৌরসভা, ভোলা পৌরসভা, ময়মনসিংহ পৌরসভা, জামালপুর পৌরসভায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। 

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, জমি কেনার জন্য বা অধিগ্রহণ বাবদ ডিপিপিতে কোনো অর্থের সংস্থান রাখা যাবে না। যে সব পৌরসভায় অবকাঠামোগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে সেখানে জমির নিশ্চয়তা প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মেয়রের নিঃশর্ত প্রত্যায়নপত্র লাগবে। এই কর্মসূচির বেশ কিছু ব্যয়ের খাত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ওইসব ব্যয়ের স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।