Naya Diganta

ঈদুল আজহার হাট কাঁপাতে প্রস্তুত সিনবাদ (ভিডিও)

ঈদুল আজহার হাট কাঁপাতে প্রস্তুত
ঈদুল আজহার হাট কাঁপাতে প্রস্তুত

ঈদুল আজহার হাট কাঁপাতে প্রস্তুত মানিকগঞ্জের ৪০ মন ওজনের সিনবাদ। এক বছর আগে কেনা এ ষাঁড়টি ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ দেশী পদ্ধতিতে লালন-পালন করে বড় করা হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও সংশ্লিষ্ট খামারি মনে করছেন ঈদের বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া যাবে।

সিনবাদ নামে ষাঁড়টি যে খামারে রয়েছে তার খামারি হচ্ছেন মানিকগঞ্জ সাটুরিয়ার দরগ্রাম ইউনিয়নের সাফুল্লি গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৪৫)। ১ বছর আগে সাটুরিয়ার গোপালপুর গ্রাম থেকে ২ বছর বয়সী হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি কিনেন তিনি। কোরবানি ঈদে বিক্রি করার লক্ষ্য নিয়ে এর নাম রাখেন সিনবাদ। শুরু থেকেই দেশী পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে সেটিকে লালন পালন করতে থাকেন বিল্লাল হোসেন।

১ আগস্ট সকালে খামারির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- বিল্লাল তার সিনবাদের যত্ন নিচ্ছেন। পাকা গোয়ালের দিকে চোখ গেলেই তা আটকে যায়। ঝক ঝক করছে ঘরটি। চতুর্দিকেই বাঁশের আড়ার সাথে কলা, আঙুর, মাল্টা সাজানো। মাঝে মাঝে তা ছিঁড়ে খাওয়াচ্ছেন তিনি। পাকা মেঝেতে বেশি ওজনের ষাঁড়টির পায়ের গোড়ালিতে যেন ব্যথা না হয় সেজন্য দামী ম্যাট বসিয়েছেন। সার্বক্ষণিক ঠাণ্ডা রাখতে ২টি সিলিং ফ্যান, ২টি ঝুড়ি ফ্যান ও একটি স্ট্যান্ড ফ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে।

খামারি বিল্লাল হোসেন বলেন, শখের বসেই বাণিজ্যিকভাবে গরু পালন করছি। তবে এর আগে সাটুরিয়ায় পর পর ৩ বছর বেশি ওজনের গরু বিক্রি দেখে আমিও সিদ্ধান্ত নেই। এক বছর সিনবাদকে লালন পালন করে আজকে ৪০ মন ওজনের ষাড়ে পরিণত করেছি। প্রথম ৬ মাস প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার খাবার আর শেষ ৬ মাস ১৮০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা খাবার খাইয়েছি।

বিল্লাল বলেন, সিনবাদকে প্রতিদিন কাঁচা ঘাস, ভুষি, শুকনা খড়, ভুট্টা, ধান, গম, ছোলা, চিড়া, আখের গুড়, মাল্টা, কলা, পেয়ারা, মিষ্টি কুমড়া ও নালী খাওয়ানো হয়। আর ঔষধের মধ্যে ডিসিপি লবণ খাইয়েছি।

সিনবাদের নিয়মিত চিকিৎসক সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেনারি সার্জন ডা. মো. সেলিম জাহান বলেন, বিল্লাল হোসেনের সিনবাদ ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা, উচ্চতা ৬ ফুট, গলার বেড় ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি। যার ওজন ৩০ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ছয়শ ৮ কেজি বা ১.৬ টন।

ভেটেনারি সার্জন আরো বলেন, এ ষাঁড়টিকে আমি নিয়মিত তদারকি করে খামারিকে রোগ প্রতিরোধ, কৃমিনাশক ওষুধ সেবনসহ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। ঈদের হাটের আগ পর্যন্ত সিনবাদের ওজন আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।

খামারীর স্ত্রী রানু বেগম বলেন, সিনবাদকে আমরা সন্তানের মতো আগলে একটি বছর লালন পালন করেছি। সিনবাদকে দেখাশুনা করতে এক বছরের জন্য চুক্তিতে দেড় লাখ টাকা বেতনে রাখাল ছাড়াও আমরা ঘরে বাইরে আরো ৩ জন মানুষ কাজ করেছি। তিনি আরো বলেন, দিনে ১০- ১২ বার মটর চালিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করাই। ওর রাগ উঠলে চিরুনি দিয়ে শরীর আচড়ে দিলে ও সিনবাদ বলে আদর করলে শান্ত হয়ে যায়।

৪০ মন ওজনের সিনবাদের দাম হাকানো হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। তবে বাড়ি থেকে কেউ নিতে চাইলে আরেকটু কমে বিক্রি করবেন বলে জানান বিল্লাল হোসেন। আগ্রহী ক্রেতারা সরাসরি খামারির মোবাইল নম্বরে (০১৭২৬ ৬২২৫৭৩) যোগাযোগ করতে পারেন।

সিনবাদকে দেখার জন্য প্রতিদিনই সাটুরিয়ার বিভিন্ন গ্রাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ধামরাই, মির্জাপুর, নাগরপুর ও টাঙ্গাইল থেকে মানুষজন ভিড় করছেন বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে।

বিল্লালের পাশের গ্রাম দেলুয়ার গবাদি পশু ব্যবসায়ী নবু বেপারী বলেন, এ বছর ভারতীয় গরু না এলে বিল্লাল মিয়া ভালো দাম পাবেন। আর ব্যতিক্রম হলে খামারি লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।

টাঙ্গাইল শহর থেকে ষাঁড়টি দেখতে আসা আব্দুস সালাম বলেন- এ গ্রামে আমার শ্বশুর বাড়ি হওয়ায় আমি জানতে পারি ৪০ মন ওজনের ষাড়ের কথা। মূলত বিশ্বাস না হওয়ায় এটি দেখতে এসেছিলাম।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. খুরশেদ আলম বলেন, সাটুরিয়া উপজেলা গত ৩ বছর ধরে সবচেয়ে বেশি ওজনের ষাড় লালন পালন করে সারাদেশেই আলোচনায় ছিল। এবছরও বিল্লাল হোসেন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিনবাদ নামে একটি ষাড় লালন করেছে। কোনো ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি। কোনো রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়নি এবং নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি খামারি তার ষাড়টি উপযুক্ত মূল্য পাবেন।