Naya Diganta

আসাম ইস্যু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আসাম ইস্যু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতের আসামে প্রণীত জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেছেন, এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশের তৃতীয় ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ (ইউপিআর) নিয়ে এক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এনআরসি নিয়ে কেউ কেউ রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এটা নিয়ে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। এনআরসি নিয়ে আসাম সরকার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। কাজটি কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আসাম রাজ্য সরকার গত ৩০ জুলাই এনআরসি চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করেছে। এতে আসামে বসবাসকারী ৪০ লাখ মানুষের নাম নেই। তাদের বেশীর ভাগই মুসলিম। এ সব মানুষ বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে এসেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এটা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নাগরিক সমাজও এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এনআরসি ইস্যুতে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসাবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বৃহস্পতিবার ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদেরও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই তালিকা ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী করার হয়েছে। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না।

বৃহস্পতি সচিবালয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর সাথে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, এনআরসি ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আগামী দিনগুলোতে সেভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশের সরকার আমার মন্তব্যে দ্বিমত করেছে : বার্ণিকাট
নিজস্ব প্রতিবেদক
 ২৭ জুলাই ২০১৮, ১৫:১৪
গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকারের সমালোচনাকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই বিষয়ে কথা বলার অধিকার রাখেননা- সেটা আপনি বলতে পারেন। বাংলাদেশের সরকার আমার মন্তব্যে দ্বিমত করেছে। সেটা বলার সামর্থ্য তারা রাখেন।

মার্কিন সরকার প্রতিউত্তর দিয়েছে, আমি এখানে ব্যক্তিগত কারণে কোনো মন্তব্য করিনি। আমি মার্কিন সরকারের হয়ে কথা বলেছি। সমালোচনাও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতার মতো গণতন্ত্রের অংশ। এটা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। সমালোচনার পরও সংলাপের সুযোগ আছে। সেই সুযোগ গ্রহণ না করলে তবে ব্ঘ্নি ঘটতে পারে। তাই সংলাপ চালিয়ে চাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বর্তমান ইসির অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী কিনা এমন প্রশ্নে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি সবসময় আশাবাদী। ভুল থাকতে পারে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের নজির আছে। গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে খুঁজলে এমন উদাহরণ পাওয়া যাবে। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই প্রক্রিয়াকে উন্নত করা। আমি আশাবাদী বাংলাদেশের সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও। 
আমরা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিস্তর বিষয়ে কথা বলেছি। কিভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা যায় সেই বিষয়ে কথা হয়েছে। এটা চলমান সংলাপের অংশ। চিন্তাভাবনার বিনিময়ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশ। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যা সংশ্লিষ্ট।

দীর্ঘ সময় বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় স্বাচ্ছন্দের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেই। আমরা সবসময় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে উৎসাহিত করি।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী তিন সিটি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন। সিইসি বলেছেন, আমরা সার্বিক প্রস্তুতি সভা করেছি। গতকাল পুলিশ কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনজন কমিশনারকে দায়িত্ব দেয়া আছে এবং তারা সেখানে অবস্থান করছেন। নির্বাচনের পরিবেশ ভাল আছে। ওনাকে অবহিত করা হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি আমাদের প্রস্তুতি আইন ও সংবিধান মোতাবেক যেভাবে হওয়া দরকার সেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।

সিটি নির্বাচনের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমন প্রথম- স্বাভাবিকভাবে উনি এদেশ ছেড়ে শীঘ্রই চলে যাবেন। এটা ওনার বিদায়ী সাক্ষাত বলা যায়। যেহেতু এখন দেশে নির্বাচন বড় ঘটনা। সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
খুলনা ও গাজীপুরে নির্বাচন নিয়ে ওনারা কিছু বলেননি। নির্বাচনে যে সমস্ত অনিয়ম হয়ে থাকে সেগুলো কিভাবে তদন্ত করা হয় এবং তদন্তের পরে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সিইসি বলেছেন, খুলনাতে যে অনিয়ম হয়েছে সেগুলোর তদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসার এবং পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মার্কিন কারচুপির প্রমাণ চাওয়া হয়েছে কিনা- এটা কূটনীতির কথার জায়গা না। এবিষয়ে কোনো কথা হয়নি। যেহেতু উনি একজন কূটনীতিক। তিনি কথা না বললে আমরা প্রশ্ন তুলিনা।

তিন সিটি নিয়ে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে নির্বাচন কমিশনের যে প্রস্তুতি আছে সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সচিব বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য রাখতে পারেন। উনারা কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, আমাদেরও কিছু বক্তব্য থাকতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য আসতে পারে। সবগুলো আমাদের নলেজে আছে। আমরা যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব।