Naya Diganta

জিম্বাবুয়েতে মুগাবে বিহীন প্রথম নির্বাচন

পরিবারের সদস্যদের সাথে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে

এই প্রথম জিম্বাবুয়েতে কোন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো ব্যালটে রবার্ট মুগাবের নাম ছাড়া। দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সোমবার ভোট দিয়েছে জিম্বাবুয়ের জনগণ। এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন যেখানে প্রতিষ্ঠাকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের সংশ্লিষ্টতা নেই। এদিন জিম্বাবুয়েতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি পার্লামেন্ট ও স্থানীয় নির্বাচনেরও ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

ভোটকে কেন্দ্র করে কয়েক শ’ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তারপরও ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

১৯৮০ সালে স্বাধীনতা লাভের পর জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন রবার্ট মুগাবে। চার দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার পর গত বছরের নভেম্বরে এক সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। জিম্বাবুয়ের ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফ-এর দলীয় প্রধানের পদ থেকেও প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে বরখাস্ত করা হয়। মুগাবের স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া। এর দুই সপ্তাহ আগে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করেছিলেন মুগাবে।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির নেতা এমারসন নানগাগওয়া ও বিরোধী নেতা নেলসন চামিসা। জনমত জরিপগুলোয় দেখা গেছে ৭৫ বয়সী নানগাগওয়া তার ৪০ বছর বয়সী প্রতিদ্বন্দ্বী চামিসা থেকে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন। মুভমেন্ট অব ডেমোক্র্যাটিক চেঞ্জের (এমডিসি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন নানগাগওয়া।

এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোটার অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছিল। এবার তরুণ ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ, নিবন্ধনকৃত ভোটারদের প্রায় অর্ধেকেরই বয়স ৩৫-এর নিচে। বিরোধী ভোটার তালিকায় তুমুল অনিয়মের অভিযোগ এনেছে। গ্রাম্য এলাকায় ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও ভোটারদের ওপর চাপ প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তারা।

বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। কয়েকটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশটিতে বেকারত্বের হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট নানগাগওয়া অর্থনৈতিক সংস্কার ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি হত্যা প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন তিনি। এর জন্য তার দলের পক্ষ থেকে রবার্ট মুগাবের সমর্থকদের দায়ী করা হয়ে থাকে। আর মাত্র ২৫ বছর বয়সেই এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন চামিসা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি হবেন দেশটির সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট। দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তবে জিম্বাবুয়েতে হাই স্পিড বুলেট ট্রেন চালু ও সেখানে অলিম্পিক নিয়ে আসার মতো প্রতিশ্রুতির কারণে সমালোচিতও চামিসা।

সোমবার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, এ নির্বাচনে তিনি ভোট দেবেন না। সাবেক মিত্র নানগাগওয়াকে সমর্থন দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। মুগাবে বলেন, ‘যারা আমার ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে তাদেরকে আমি ভোট দিতে পারি না। আমি আশা করি ভোটের মধ্য দিয়ে সামরিক সরকার উৎখাত হবে এবং আমরা সাংবিধানিক শাসনে ফিরে আসতে পারব।’ তবে তারপরও  কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন।

চামিসা জয়ী হোক এমনটা চান কি না- জানতে চাওয়া হলে ৯৪ বছর বয়সী মুগাবে ইঙ্গিত করেন, চামিসাই একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রার্থী। মুগাবে জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতাযুদ্ধে লড়াই করেছেন। ঔপনিবেশিক পরবর্তী সময়ে জিম্বাবুয়ের জাতির পিতায় পরিণত হন তিনি। তবে অনেকেই দাবি করেন, তিনি জিম্বাবুয়ের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছেন।