Naya Diganta

কানাডার প্রাদেশিক এমপি নির্বাচিত বাংলাদেশের ডলি বেগম

ডলি বেগম

প্রথমবারের মতো কানাডার প্রাদেশিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। তিনিই কানাডার ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশী এমপি। অন্টারিওর প্রাদেশিক নির্বাচনে স্কারবরো সাউথইস্ট আসনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) থেকে।

ডলি বেগমের দল এনডিপি নির্বাচনে ৪০টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। কনজারভেটিভ পার্টি ৭৪ সিট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। 

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে ডলি ১৪ হাজার ১৫০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। ৬৩টি কেন্দ্রের  ফলাফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির প্রতিনিধি গ্যারি এলিসের চেয়ে প্রায় ছয় হাজার ভোটে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন ডলি। এ ছাড়া ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা লিবারেল দলীয় লরেঞ্জ বেরারদিনেত্তি এবার রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে।

ডলি বেগম ওই প্রদেশে নিজ দলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্কারবরো হেলথ কোয়ালিশনের কো-চেয়ার এবং ওয়ার্ডেন উডস কমিউনিটি সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি।

গত এপ্রিলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান ডলি বেগম। একজন বাঙালির এই বিজয়ে উল্লসিত কানাডাপ্রবাসী বাঙালিরা। টরন্টোর বাঙালি অধ্যুষিত ডানফোরথ এলাকায় বেরিয়েছে বিজয় মিছিল। প্রবাসী বাংলাদেশীরা মনে করছেন ডলি বেগমের মধ্যেমে তারা তাদের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে আরো সহজে পৌছাতে পারবেন।

বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মেয়ে ডলি বেগম ১১ বছর বয়সে বাবা, মা ও ছোট ভাইয়ের সাথে কানাডায় চলে যান। ২০১২ সালে ডলি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং টরন্টো ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে ২০১৫ সালে উন্নয়ন প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন তিনি।

আরো পড়ুন : চীনে রহস্যময় রোগে আক্রান্ত মার্কিন কূটনীতিকরা
রয়টার্স 

রহস্যময় রোগে ভুগছেন এমন উদ্বেগে চীনের গুয়াংঝু থেকে একদল কূটনীতিককে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কর্মীরা যে ধরনের ব্রেন ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এই রোগটির তার অনুরূপ বলে বুধবার জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

মুখপাত্র হিদার নোয়ার্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই শহরটিতে সরকারি এক কর্মী ‘অসুস্থতায় ভুগছেন’ এটি নিশ্চিত করার পর গুয়াংঝু কন্স্যুলেটের কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পরীা করতে সেখানে একটি টিম মোতায়েন করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত পরীক্ষার যে ফলাফল পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে তাদের রোগ লক্ষণ ও সাথে পাওয়া আনুষঙ্গিক তথ্যগুলো আরো যাচাই ও ব্যাপকভাবে পরীা করতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছে মন্ত্রণালয়’। তিনি আরো বলেন, ‘যে লণগুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলোর কারণ শনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা সব ধরনের পরীা চালিয়ে যেতে থাকবেন এবং ফলাফলগুলো আগে আক্রান্ত সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে যা লক্ষ্য করা গেছে সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না বা পুরোপুরি সম্পর্কহীন তা যাচাই করে দেখবেন।’

বুধবার নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চীনে অদ্ভুত শব্দ শোনার পর অসুস্থবোধ করা অন্তত দুই আমেরিকানকে ফিরিয়ে এনেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৪ জন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ওই বিশেষে লণগুলো প্রকাশ পেয়েছিল, মস্তিষ্কের হালকা আঘাতজনিত জখমের সাথে যেগুলোর মিল ছিল। হাভানার মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকদের মধ্যে দেখা দেয়া ওই অসুস্থতা নিয়ে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ওই অব্যাখ্যাত রোগের বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা পরিচালনার জন্য গত মাসে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।’ আক্রান্ত ব্যক্তিরা যে জখমে ভুগছেন তার সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি ও সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই কারণ বিরাজ করছে কি না, তা তখনো স্থির হয়নি বলে বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন তিনি।