০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ইতিহাসের 'সবচেয়ে উষ্ণতম' মাস দেখলো বিশ্ববাসী

-

এবছরের জুলাই মাসের বৈশ্বিক তাপমাত্রার প্রাথমিক তথ্য যাচাই করে ধারণা করা হচ্ছে যে, অন্যান্য মাসের তুলনায় এটি 'সামান্য ব্যবধানে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ মাস হিসেবে রেকর্ডে স্থান করে নিয়েছে।

জুলাইয়ের প্রথম ২৯ দিনে বিভিন্ন দেশের তথ্য যাচাই করে পাওয়া গিয়েছে যে, ২০১৬ সালের জুলাইয়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডের সাথে সেসব দেশের এবছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 'সামান্য বেড়েছে' অথবা 'সমান অবস্থায়' রয়েছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্রাইমেট চেইঞ্জ সার্ভিস, সিথ্রিএস'এর গবেষকরা এই পর্যালোচনাটি করেছেন। তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে কিনা - তা নিশ্চিতভাবে জানতে সোমবার এ বিষয়ের পূর্ণ বিশ্লেষণ প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বে তাপমাত্রা যে অভূতপূর্ব হারে বাড়ছে, তারই উদাহরণ এটি।

সিথ্রিএস'এর সংকলিত নতুন তথ্য ভূ-পৃষ্ঠে থাকা বিভিন্ন স্টেশন এবং স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা। সংস্থার ৪০ বছরের ডেটাবেজ যাচাই করে ধারণা করা হচ্ছে যে, এ বছর জুলাইয়ে যে তাপমাত্রা ছিল তা অন্য যে কোন সময়ের তাপমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে।

একাধিক সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এবছরের জুন মাস অতীতের যে কোন বছরের জুন মাসের চেয়ে বেশি উষ্ণ ছিল। সিথ্রিএস'এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম সাত মাসের মধ্যে চারটি মাসই অতীতের যে কোন সময়ের ঐ মাসগুলোর হিসেবে উষ্ণতম মাস ছিল।

যদিও গবেষকরা এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টির সাথে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র স্থাপন না করলেও বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, অতিরিক্ত পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের কারণে তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড হচ্ছে।

সিথ্রিএস সংস্থার ফ্রেয়া ভ্যামবর্গ বিবিসি নিউজকে জানান, "এই জুলাই মাসটি অতিরিক্ত উষ্ণ হলেও আমার কাছে সেটি মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো, অতীতের বছরগুলোর তুলনায় ২০১৯ সালের অধিকাংশ মাসই উষ্ণতর ছিল। আর আমরা গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর উদ্যোগ না নিলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।"

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি

জুলাই ঐতিহাসিকভাবেই বছরের উষ্ণতম মাস। তার উপর এ বছরে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেরু অঞ্চলে তাপদাহের তীব্রতা অস্বাভাবিক বেশি ছিল। যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস সহ অনেক দেশেই তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-উপকূল এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। মেরু অঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় রাশিয়ার উত্তরে লক্ষ লক্ষ হেক্টর ভূমির ক্ষতি হয়েছে।

ভারতে তাপদাহের পাশাপাশি তৈরি হয়েছিল তীব্র পানি সঙ্কট। জাপানে গতসপ্তাহে তীব্র তাপদাহের কারণে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ হাসাপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।

বেসরকারি সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইডের ড. ক্রিশ্চিয়ান ক্রেমার বলেন, "আমার যদি কার্বন নির্গমন বাড়াতেই থাকি, তাহলে যে বৈশ্বিক উষ্ণতা দিনদিন বাড়বে, এটা তারই একটি উদাহরণ। উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক মানুষ এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা বেশ কিছুদিন ধরেই সহ্য করছেন। কিন্তু এখন যুক্তরাজ্যের মত উন্নত বিশ্বের দেশেও তাপমাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।"

পূর্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ মাস। ১৮৮০ সাল থেকে তারা এই রেকর্ডটি লিপিবদ্ধ করে আসছে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা, নাসা'র তথ্য পর্যালোচনা করলে অবশ্য এবিষয়ে কিছুটা ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই এবং ২০১৭ সালের জুলাই উষ্ণতম মাস হওয়ার দৌড়ে পরিসংখ্যানগতভাবে সমতাবস্থায় রয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সংস্থাগুলো ২০১৯ সালের জুলাই মাসের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করবে। সূত্র : বিবিসি।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik