১৪ নভেম্বর ২০১৮

আমার সংসার রক্ষায় সাহায্য করুন : শ্রাবন্তী

শ্রাবন্তী - সংগৃহীত

সংসার করার আকুতি প্রকাশ করে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী রোববার রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকে। তিনি লিখেছেন, ‘সত্য মিথ্যা অনেক কথা আসবে ,কিন্তু একজন মা আর একজন মানুষ হিসেবে আমার একটাই চাওয়া আমার সাথে আমার সন্তানদের সাথে কোনো অন্যায় না হোক। আমার বাচ্চারা ব্রোকেন ফ্যামিলিতে বড় না হোক, এর রেজাল্ট কখনোই ভালো হয় না। ভুল আমারও আছে, খোরশেদ আলমেরও আছে, তাই বলে ডিভোর্স করে আলম বাচ্চাদের সাথে আমার সাথে এমন অন্যায় করতে পারে না।’

তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে দাবি করে শ্রাবন্তী লেখেন, ‘আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবে। আমার হাজব্যান্ড এর সাথে কথা বলবে, সংসার ভাঙবে আর আমি তা মেনে নিয়ে চুপ করে থাকবো তাই না? খোরশেদ আলম আমার সব জেনেশুনে আমাকে বিয়ে করেছিলেন। আর ৭ বছর পর তা নিয়ে আমাকে ব্লেম করে যাবে তা মানা যায় না। সবকিছুর আগে আমি একজন মা, আলম একজন বাবা- এটা আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত না। বাচ্চাদের কোনো দোষ নেই। ওদের মাকেও প্রয়োজন, বাবাকেও প্রয়োজন। ওরা অলরেডি সিক। সো প্লিজ সবাই দোয়া করবেন আমার বাচ্চারা যেন সুস্থ থাকতে পারে। ওরা মা-বাবা দুজনকেই যেন কাছে পায়।’

তিনি আরও লেখেন, ‘একজন শিক্ষক হয়ে এমন অন্যায় যেন আলম আমাদের সাথে না করে। সেই মহিলা নিজেও সংসার মনোযোগ দিয়ে করুক আমাকে উল্টা হুমকি না দিয়ে। উপরে আল্লাহ আছেন। সবকিছু সুন্দরভাবে হোক। আমার বাচ্চাদের সাথে অন্যায় না হোক এটাই আমার চাওয়া। আলম সুন্দরভাবে অন্যায় না করে অনেস্টলি সবকিছু থেকে সরে আসুক। নিজের ফ্যামিলি রক্ষা করুক একজন শিক্ষক হয়ে, এটা চাই।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা কেউ ভুল নিউজ করবেন না। আমি যা বলার এখানেই বলে দিলাম। পারলে আমার সংসারটাকে রক্ষা করতে সাহায্য করুন। আমি এখনো জোর গলায় বলতে চাই আমার সাথে আর আমার বাচ্চাদের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে। এই জাতি যেন অন্যায়কে সমর্থন না করে। আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চাই কারণ তিনিও একজন নারী,তিনিও একজন মা। তিনিও নিশ্চয় চাইবেন না একজন মা ও তার বাচ্চাদের সাথে অন্যায় হোক। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন প্লিজ।’

 

তালাক নিয়ে যা হচ্ছে
দিন দিন তারকাদের সংসার ভাঙার ঘটনা বাড়ছে। গত কয়েক বছরে জনপ্রিয় অনেক তারকার ঘর ভাঙার পর এবার ঘর ভাঙছে আরেক জনপ্রিয় তারকা শ্রাবন্তীর। গেল বছরের শেষদিকে যখন শ্রাবন্তী হঠাৎ দেশে ফিরে আসেন সন্তানদের নিয়ে তখন থেকেই শোনা যাচ্ছিল স্বামীর সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে তার।

অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। শ্রাবন্তী নিজেই সংবাদমাধ্যমে জানালেন, তাকে তালাকের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তার স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। একটি সংবাদমাধ্যমে সেই খবর তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

রোববার সকালে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, গত ৭ মে তাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন তার স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। বগুড়া সদরের কালীতলার শিববাড়ি সড়কে শ্রাবন্তীর বাবার বাসার ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হয়।

শ্রাবন্তী দীর্ঘদিন যাবৎ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। শ্রাবন্তী বলেন, ‘সব সংসারেই ঝামেলা হয়। আমাদেরও হয়েছে। সেটা মিটমাটের চেষ্টাও করেছি আমি। কিন্তু আমাকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।’

তিনি হঠাৎ করেই গেল বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। তখনই জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে শ্রাবন্তীর। তার ওপর রাগ করেই তার স্বামী যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী-সন্তানদের রেখেই দেশে চলে আসেন এবং চাকরিতে যোগ দেন। তখন শ্রাবন্তী স্বামীকে ফেরাতে দেশে আসেন, ওঠেন বগুড়াতে। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন।

বাধ্য হয়ে আবারও ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে বসেই পান তালাকের নোটিশ। এরপর শ্রাবন্তী দেশে ফিরেছেন গত ২৫ জুন। দেশে ফেরার পর স্বামী খোরশেদ আলমের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন শ্রাবন্তী, কিন্তু তার দেখা পাননি। শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে, তাকে ও তার দুই মেয়েকে সেই বাসাতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

এ নিয়ে গতকাল শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘কেন এমন করছ? দাও না আমাদের মাফ করে। এক ঘর দরকার নাই, কিন্তু এক ছাদের নিচে থাকি আমরা। বাচ্চাদের প্রতি একটু দয়া করো। তুমি তো প্রতিজ্ঞা করেছিলে, কখনো ছেড়ে যাবে না। এখন কেন ছেড়ে গেছ? আমাদের বাচ্চাদের ভাঙা পরিবারে বড় হতে দিয়ো না। আমি তোমার কাছে হাত জোড় করে বলছি, আমাদের বাচ্চাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিয়ো না।’

তিনি বলেন, ‘গেল ২৫ জুন দেশে আসার পর আমি রামপুরা বনশ্রীতে আলমের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু আমাকে আর বাচ্চাদের বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ঢাকায় আমার নিজের কোনো বাসা নেই। শেষে পরিচিতদের সহযোগিতায় এক মামাতো ভাইয়ের বাসায় যাই। এরপর এখন পর্যন্ত আলম আমার সঙ্গে, এমনকি বাচ্চাদের সঙ্গেও দেখা করেনি। বাচ্চাদের কোনো খোঁজ নেয়নি।

গত এপ্রিল মাসে আলম যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ওই সময় আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেনি। আমর দুই বাচ্চা সেখানে সরকারের কাছ থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পায়। আলম আমাকে না জানিয়ে ব্যাংক থেকে সেই ছয় হাজার ডলার তুলে নিয়ে আসে। সেখানে বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে চলব, কী খাওয়াব, তা ভাবেনি। ও শুধু আমাকেই নয়, বাচ্চাদেরকেও ঠকাচ্ছে।’

বর্তমানে শ্রাবন্তী বগুড়াতেই রয়েছেন। সেখানে তার সঙ্গে আছে সাত বছরের মেয়ে রাবিয়াহ আলম ওসাড়ে তিন বছরের মেয়ে আরিশা আলম। শ্রাবন্তী জানান, আগামী ৪ জুলাই মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন। তার দাবি, খোরশেদ আলম অন্য মেয়ের সঙ্গে প্রেম করছেন দীর্ঘদিন। গত ২৬ মে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আর যৌতুকের মামলাও করেছেন।

এদিকে শ্রাবন্তীর অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবি করেছেন তার স্বামী খোরশেদ আলম। তিনি পাল্টা অভিযোগ এনেছেন শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছেন, আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম শ্রাবন্তীকে। যারা আমার কাছের মানুষ, তারা জানেন অনেক ছাড় দিয়েছি আমি ওকে পাওয়ার জন্য।

২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর আমাদের বিয়ে হয়। আমাদের দুটি বাচ্চা হয়েছে। কিন্তু শ্রাবন্তীর যেসব ব্যাপারে ছাড় দিয়েছিলাম সেসব থেকে শ্রাবন্তী এখনো সরে আসতে পারেনি। এতদিন আমি ব্যাপারগুলো সামনে আনতে চাইনি, কারণ তা আমাদের কারও জন্যই ভালো হবে না। আমার সন্তানদের জন্য ভালো হতো না। কিন্তু এখন আর আমার জন্য কোনো পথ খোলা নেই। বিচ্ছেদের পথেই হাঁটতে হবে।’

তিনি শ্রাবন্তীর অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ‘আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গিয়ে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আমার। সেই মেয়ের সঙ্গে আমার পরকীয়ার মনগড়া গল্প সাজাচ্ছে শ্রাবন্তী। নিজের দোষ ও দায় সে আমাকে দিতে চায়।’

প্রসঙ্গত, মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে একটা সময় ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন ইপশিতা শবনম শ্রাবন্তী। মোহনীয় হাসি দিয়ে তিনি জয় করেছেন দর্শক হৃদয়। আলাদা করে আলোচনায় এসেছিলেন ‘জোছনার ফুল’ ধারাবাহিক নাটক দিয়ে।

এছাড়াও ‘রং নাম্বার’ সিনেমার মাধ্যমে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। তবে দীর্ঘদিন ধরে সব রকম আলোচনার বাইরে তিনি। ২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন এনটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা খোরশেদ আলমের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।


মামলা
ছোট ও বড় পর্দার একসময়ের জনপ্রিয় তারকা ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তীর সংসার ভাঙার পথে। স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম গত ৭ মে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশের পর স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আর যৌতুকের মামলা করেন শ্রাবন্তী।

জানা গেছে, গত ৭ মে বগুড়া সদরের কালীতলার শিববাড়ির শ্রাবন্তীর বাবার বাসার ঠিকানায় তালাকের নোটিশ পাঠান স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। বিষয়টি জানাজানি হবার পর তালাক নিয়ে গণমাধ্যমে কথাও বলেন স্বামী খোরশেদ। এরপরই উঠে আসে স্ত্রী শ্রাবন্তীর করা মামলার বিষয়টিও। তবে মামলা সম্পর্কে স্বামী খোরশেদ কিছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান।

এ ব্যাপারে পুলিশ বলছে, মামলা ওভাবেই আছে। মামলার তদন্ত চলছে। স্বামী-স্ত্রী আপস করে কি না সেজন্য মামলা ওভাবেই আছে। আমরা চেষ্টা করছি, তাদের মধ্যে যদি আপস হয়। তাদের সংসার যাতে না ভাঙে। সেজন্য মামলার ক্রস চেক চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী ও মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সংসার জীবন শুরু করেন। এখন ভেঙে যাওয়ার পথে সেই সংসার। শ্রাবন্তী দীর্ঘদিন যাবৎ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। গত ২৫ জুন তিনি দেশে ফেরেন। এখন আছেন বগুড়ায়।

শ্রাবন্তী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেই স্বামীর পাঠানো তালাকের এই নোটিশের খবর পেয়েছেন তিনি। এরপর দ্রুত দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেশে আসেন। তাদের বড় মেয়ে রাবিয়াহ আলমের বয়স সাত আর ছোট মেয়ে আরিশা আলমের সাড়ে তিন বছর।

তালাকনামা ও মামলা সম্পর্কে গণমাধ্যমে শ্রাবন্তীর কথা বলার পর মুখ খুলেন স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলমও।

তিনি বলেন, ‘ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছি, এটি সত্যি। তবে আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেছে কি-না এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমাকে কিছু বলেওনি।’ তিনি বলেন, একসঙ্গে থাকার জন্য পারিবারিকভাবে আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। সবরকম চেষ্টা করেই আমরা ব্যর্থ। এরপর ডিভোর্সের এই সিদ্ধান্তও পারিবারিকভাবেই এসেছে। সুতারাং বিবেচনা করার আর কিছু নেই।’

সন্তানদের বিষয়ে খোরশেদ আলম বলেন, ‘তাদের প্রতি বাবা হিসেবে আমার যে দায়িত্ব, সেটা পালন করতে আমি সবসময়ই প্রস্তুত। আইনগতভাবে মায়ের অধিকার বেশি থাকে। ওদের মা যদি মনে করে সন্তানের দায়িত্ব আমাকে দিয়ে দেবে, আমি খুবই উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। এ ছাড়া তাদের সবরকম সহযোগিতা করার জন্য আমি সবসময়ই প্রস্তুত আছি।’

শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে স্বামী হিসেবে প্রধান অভিযোগ কী? জানতে চাইলে খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের ভেতরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, আস্থার জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেছে। যেটা একসঙ্গে থাকলে আরও ধ্বংস হবে। আরও খারাপ দিকে যাবে বলে আমি মনে করছি। সরে আসাই দুজনের জন্য ভালো হবে।’

পরকীয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। তখন সেখানে এক মেয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। এর বেশি কিছু না। শ্রাবন্তী এ ব্যাপারে রঙ মাখাচ্ছে। নিজের দোষ আড়াল করতে অন্যকে দোষারোপ করা খুবই সাধারণ একটি বিষয়।’

খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমি কোনো বিষয়ে কারো বিরুদ্ধেই নেগেটিভ কথা বলতে চাই না। সে যে আকুতি প্রকাশ করেছে, এসব জায়গাগুলো আমি এর আগে অনেকবার অতিক্রম করে এসেছি। এই কথাগুলোর ওপরে আমার ভরসা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি সাত বছর তো সংসার করেছি। এ ধরনের বিষয় অনেকবার হয়েছে। আস্থাটা নষ্ট হয়ে গেছে আসলে মন থেকেই। শত চেষ্টা করেও আর হবে না।’

একজন শ্রাবন্তী
পুরো নাম ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী। দেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মতিন রহমানের ‘রং নম্বর’ চলচ্চিত্রের রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী। যদিও তার আগেই ছোটপর্দায় তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

প্রয়াত প্রণব ভট্টের চিত্রনাট্যে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত এই ছবিতে বাংলাদেশ ও ভারতের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পীদের শ্রুতিমধুর গান গুলোও ছড়িয়ে পড়েছিল মুখে মুখে। ‘রং নাম্বার’ ছিল একটি প্রেমের ছবি। প্রজন্মের তরুণ তরুণীর উচ্ছ্বলতা এবং তারুণ্য এই ছবির মূল উপজীব্য। আর এই ছবির তরুণীটিই ছিলেন শ্রাবন্তী।

ওয়াশিংটনের নিকটবর্তী ম্যারিল্যান্ডের গেইদারল্যান্ডে বসবাস করেন শ্রাবন্তী। রাবিয়া আলম ও আরিশা আলমের মা শ্রাবন্তী। দুই বাচ্চাদের সাথে বেশী সময় কাটে তার।

তবে প্রবাস জীবনে বাংলা কথা বলার জন্য ছটফট করে ওঠে মন-প্রাণ। বাসায় বাংলাতেই কথা বলেন। কিন্তু মন ভরে না। শ্রাবন্তী সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে বিরক্তি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘উফ ইংলিশ বলতে বলতে মুখ আর মাথা ব্যাথা ধরে গেলো। বাঁচাও…’

এটা যে শ্রাবন্তীর মনোকষ্ট সেটা বোঝা গেল মন্তব্য বাক্সেই। বাংলাদেশি নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী শ্রাবন্তীকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, ‘শোন, তুই যতই ইংলিশ কথা বলিস না কেন এট লিস্ট তুই আর খোরশেদ আলম ভাই বাসায় বাচ্চাদের সাথে বাংলা বলবি। এই অভ্যাসটা রাখিস তবে ওরা সুন্দর বাংলা বলতে পারবে। তোকে অনেক মিস করি। ‘

শ্রাবন্তী উত্তরে বলেন, ‘ঠিক বলছ বৌদি, আমরা বাসায় বাংলাতেই কথা বলি। কিন্তু আমার মুখ ব্যাথা হয়ে গেল হাই, হ্যালো হাউ আর ইউ বলতে…’

শ্রাবন্তী ২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এনটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা খোরশেদ আলমের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই শোবিজের রঙিন দুনিয়া থেকে নিজেকে আড়াল করে নেন এক সময়ের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

 


আরো সংবাদ