১২ ডিসেম্বর ২০১৯

ছোট্ট তাসফিয়ার ব্যথার চিৎকার সহ্য করতে পারছেন না মা

ব্যথায় শুধু চিৎকার দিয়ে ওঠে তাসফিয়া - ছবি : নয়া দিগন্ত

তাসফিয়া বয়স চার। ফুটফুটে একটি অবুঝ শিশু। যার হাসিতে, খেলায় মাতিয়ে তোলার কথা। যার হাসি দেখে মায়ের মন ভরার কথা। ভুলে যাওয়ার কথা হৃদয়ের গহীনে লুকিয়ে থাকা সকল কষ্ট। আজ সেই শিশুটির মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে একটি দুরারোগ্য ব্যাধি।

তাসফিয়া জানে না তার কি হয়েছে। যখন তার ব্যথা অনুভব হয় তখন শুধু চিৎকার দিয়ে ওঠে। যে চিৎকারে মা নার্গিসের কলিজা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। বেশ কয়দিন ধরে হাসপাতালের বেডে শিশু তাসফিয়াকে নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে ওই মায়ের।

তাসফিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের সুতীভরট গ্রামে। দিনমজুর তফাজ্জল হোসেন ও নার্গিস আক্তারের শিশুকন্যা তাসফিয়া বেগম। ইতিমধ্যে মেয়ের চিকিৎসার খরচ মিটাতে শেষ সম্বল, পরিবারের মাথাগোঁজার শেষ আশ্রয় আপন বাস্তুভিটা বিক্রি করে দিতে হয়েছে। ঢাকায় ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করে সে টাকাও শেষ হয়েছে। পরিবারটি এখন সর্বস্বান্ত।

তাসফিয়ার বাবা ঢাকার একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে যে টাকা পেতেন সেই টাকায় সংসার চালাতেন। মেয়ে তাসফিয়ার চিকিৎসা করাতে গিয়ে সে কাজটাও হারাতে হয়েছে।

তাসফিয়ার চিকিৎসক (ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত) জানিয়েছেন, ওর দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে হলে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু বাইরে চিকিৎসা করানোর মতো তার তো কোনো ক্ষমতা নেই। তাহলে কি শিশুটি মারা যাবে?

উপায় না পেয়ে সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন তাসফিয়ার মা নার্গিস বেগম। তিনি বলেন, মেয়েটি যখন ব্যথায় চিৎকার দিয়ে ওঠে তখন আর ঠিক থাকতে পারি না। আমি তো মা, বলুন না কেমন করে মেয়ের কষ্টুটুকু সহ্য করি!

কথাগুলো বলতে বলতে কয়েক বার ডুকরে কেঁদে ওঠেন মা নার্গিস। তিনি কাঁদতে কাঁদতে তার আঁচল পেতে বলতে থাকেন, ‘আমি ওর মা, আপনাদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি। আমি একজন মা আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না। আমি আমার মেয়েকে সুস্থ দেখতে চাই। আমি আপনাদের জীবন ভর দোয়া করব।’

তাসফিয়ার মা নার্গিস বেগমের এই আর্তনাদ কি পৌঁছাবে সবার কাছে? তাসফিয়ার মা কি মেয়েকে নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন? আমাদের সবার সামনেই কি ফুটফুটে সেই মেয়েটে হারিয়ে যাবে? আমরা কি পারি না শিশুটির চিকিৎসার খরচ বহন করে একটা অবুঝ শিশুর মুখের হাসি ফিরিয়ে দিতে?


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik