১৭ অক্টোবর ২০১৯

আমার ছেলে এমন নৃশংস খুনি হতে পারে না : প্রধান আসামি রাসেলের মা 

প্রধান আসামি বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মেহেদি হাসান রাসেল ও নিহত আবরার ফাহাদ - নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য রুহুল আমিনের সাধারণ পরিবারটি হঠাৎ করেই গ্রামবাসীর কাছে বেশ সমালোচিত হয়ে উঠেছে। চায়ের দোকান থেকে বিভিন্ন আড্ডাস্থলে এখন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে এই পরিবার। গত ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি এই পরিবারেরই সন্তান মেহেদি হাসান। এ বিষয়টিই এসব আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য রুহুল আমিনের বড় সন্তান এই মেহেদি হাসান রাসেল। বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পিতার চাকরির সুবাদে তার ছাত্রজীবনের বেশিরভাগ সময় বাইরেই কেটেছে। তাই গ্রামবাসীর সাথে তার তেমন একটা ঘনিষ্ঠতা নেই। ঈদ কিংবা বিশেষ কোন অনুষ্ঠান থাকলে এসেছেন গ্রামে। গ্রামের মানুষ তাকে দূর থেকেই এভাবে চিনেছে। তাই তার ব্যক্তিগতজীবন সম্মন্ধে খুব বেশি ধারণা নেই তাদের। ফাহাদের পূর্বপুরুষ ১৯৪২ সালে সালথার এই গ্রামে আসেন। তার দাদা আব্দুল লতিফ মাতুব্বর ব্যবসা করতেন।

আব্দুল লতিফ মাতুব্বরের সন্তান রুহুল আমিন সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে কর্মজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। ২০০৮ সালে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর এই রাঙ্গারদিয়া গ্রামে বাপদাদার ভিটায় পাকা বাড়ি করেন। তার সংসারে দুই ছেলে দুই মেয়ে ও স্ত্রী। স্ত্রী ঝর্ণা আমান একজন গৃহিনী। বড় ছেলে মেহেদি হাসান রাসেলের জন্ম ১৯৯৬ সালে। রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ময়মনসিংহ সৈয়দ নজরুল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ২০১৩ সালে বুয়েটে ভর্তি হয় সে। রাসেলের পরে বড় মেয়ে জান্নাতী মিম গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন। আর ছোট মেয়ে ৮ম শ্রেণি ও ছোট ছেলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ছে গ্রামের যোগারদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে।

মেহেদি হাসানের পিতা রুহুল আমিনের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, টিভি ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার খবর দেখেছেন। তবে তিনি দাবি করেন তার ছেলে এমন কাজ করতে পারেন না। এবং ঘটনার সময় তার ছেলে সেখানে ছিলেনও না। রুহুল আমিন বলেন, সারাজীবন বাইরে বাইরে চাকরি করে অনেক কষ্টে ছেলেকে মানুষ করে পড়াশুনা করতে বুয়েটে পাঠিয়েছে। সে এমন কাজ করতে পারে না।

আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পর ফাঁস হওয়া শেরে বাংলা হলের নিচতলার সিসি টিভির ফুটেজে মেহেদি হাসান রাসেলকে দেখা গেছে আবরার মৃতদেহকে সামনে রেখে হলের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলতে। আজ বৃহস্পতিবার অবশ্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান ছাত্রদের সামনে স্বীকার করেন, ওই মুহুর্তে আবরারের মৃতদেহ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য তাকে সেখানে উপস্থিত ছাত্রনেতারা চাপ দেন।

তবে সিসি টিভির ফুটেজে নিজের সন্তানকে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন মেহেদি হাসান রাসেলের মা ঝর্ণা আমান। তিনি বলেন, আমার সোনা এই হত্যার সাথে জড়িত নয়। আমার ছেলে এমন নৃশংস খুনি হতে পারে না। তাকে সিসিটিভির ফুটেজেও দেখা যায়নি। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এই প্রতিবাদ জানাই। তার নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মতো সাম্প্রতিককালের আলোচিত এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ফাহাদ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বরকত উল্লাহ ছেলে। ওই ঘটনায় পর সন্তানকে হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার (৭ অক্টোবর) চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিশ এ মামলায় মেহেদি হাসান রাসেলসহ ১৩ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

 


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa