২০ আগস্ট ২০১৯

মাথাকাটা শিশুর পরিচয় মিললো, খোঁজ মিললো ঘাতকেরও 

নেত্রকোনায় প্রকাশ্য দিবালোকে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন রক্তঝড়া এক শিশু সন্তানের কাটা মস্তক নিয়ে পালানোর সময় ক্ষিপ্ত জনতার অজ্ঞাত ঘাতক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মেথরপট্টিতে ব্যাগ থেকে শিশুর কাটা মস্তক পড়ে যাবার পর ঘাতক যুবককে ধাওয়া করে শহরের নিউটাউন অনন্ত পুকুর পাড়ে পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

গত কিছুদিন ধরে শিশুধরা ও কাটা মস্তকের গুজব নিয়ে নারী-পুরুষের মাঝে নানান ধরনের আলোচনা সমালোচনার মাঝে অনাকাঙ্খিত এই লোমহর্ষক ঘটনায় সারা জেলায় ব্যাপক তোলপাড় ও সাধারনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনায় সংঘটিত অবিশ্বাস্য এই ঘটনা সিনেমার কল্প-কাহিনীকেও হার মানিয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মচঞ্চল নেত্রকোনা শহর এলাকায় স্ব স্ব কাজে সকলেই যখন ব্যস্তায় সময় পার করছিলেন, দুপুর ঠিক ১২টার দিকে শহর এলাকার বারহাট্টা রোডস্থ শ্রমিক ইউনিয়ন সংলগ্ন মেথরপট্টিতে মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি করার সময় অজ্ঞাত এক যুবকের ব্যাগ থেকে হঠাৎ একটি শিশুর সদ্য কাটা রক্তে রঞ্জিত মস্তক মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজন তা দেখে ভয়ে আঁতকে উঠেন।

এ সময় ঘাতক যুবক দৌঁড়ে পালানোর সময় নিকটবর্তী নিউটাউন অনন্ত পুকুর পাড়ে পৌঁছলে জনতাও পেছন পেছন ধাওয়া করে ঘিরে ফেলে। এ সময় চরম উত্তেজিত জনতা লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে অজ্ঞাত ওই ঘাতক যুবককে হত্যা করে।

রইস উদ্দিন নামে স্থানীয় কাটলী এলাকার এক রিকশাচালক ফেসবুকে ছবি দেখার পর থানায় হাজির হয়ে গলাকাটা শিশুটি তার পুত্র সজিবের বলে দাবি করেন। শিশটির বয়স ৮ বছর বলেও জানান।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সজিব তার কাছে আইসক্রীম খাবার জন্য ৫ টাকা চাইলে না থাকায় তিনি দিতে পারেননি। এই বলে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।

সংবাদ পেয়ে বিকেল চারটার দিকে কাটলী ব্রিজের দক্ষিণ পাশের তিনতলার নির্মাণাধীন বাথরুম থেকে পুলিশ শিশু সজিবের মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বাসাটির মালিক বারহাট্টা উপজেলার চিরাম গ্রামের কায়কোবাদ নামে এক ব্যাক্তির বলে জানা গেছে।

কাটা মস্তক নিয়ে পালানোর সময় জনতার হাতে নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। যুবকের নাম রবিন (২২)। তিনি উত্তর কাটলীর রিকসাচালক আলকাছ মিয়ার পুত্র বলে জানা যায়। এলাকাবাসী জানান, তিনি মাদকাসক্ত।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহ তদন্ত ও অনুসন্ধান চালিয়ে দ্রুত শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। অজ্ঞাত ওই যুবকের পরিচয় জানা যায়নি। তার পরিচয় উদ্ধারের জোর চেষ্টা চলছে।


আরো সংবাদ




bedava internet