২৩ জুলাই ২০১৯

১৯ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন উদ্ভাবনে বিএফআরআই’র সাফল্য

-

দেশীয় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪ প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ইতোমধ্যে গবেষণা করে মহাশোল, পাবদা, গুলশা, টেংরা, গুতুম, মেনি, কুচিয়া, দেশী পুঁটিসহ ১৯ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন সফল হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় সকল মাছ মানুষের খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনা হবে।

মঙ্গলবার ময়মনসিংহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে ‘মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএফআরআই উদ্ভাবিত বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল প্রযুক্তিসমূহ গণমাধ্যমে প্রচারিত এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়ায় পোনা প্রাপ্তি ও চাষাবাদ সহজতর হয়েছে। ফলে এসব মাছ বাজারে সহজলভ্য হয়েছে। কম মূল্যেই সাধারণ ভোক্তারা খেতে পারছেন। দেশে এখন ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন এবং ৫৮ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় সঙ্কুচিত হওয়ায় মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র বিনষ্ট হওয়ায় এবং জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে দেশীয় ছোট মাছ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বর্তমান সরকারের আমলে গবেষণার জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করায় এবং ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার্থে জবাবদিহিতামূলক গবেষণা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের তিনটি আঞ্চলিক কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতি রক্ষায় গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মৎস্যচাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ৬১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এরমধ্যে ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা কৌশল উদ্ভাবন, রুই, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস ও সরপূঁটি মাছের জাত উন্নয়ন, কাঁকড়া পোনা উৎপাদন, সমুদ্র উপকূলে সীউইড চাষ অন্যতম। গবেষণা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ইনস্টিটিউট ১৪টি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে বলেও জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন খান, বিএফআরআই’র পরিচালক ড. মোঃ নূরুল্লাহ ও ড. মো. খলিলুর রহমান, প্রধান বৈজ্ঞনিক কর্মকর্তা ড. এ এইচ এম কোহিনুর, বাকৃবি’র অতিরিক্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা সালিম হাসান, জনসংযোগ কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে ময়মনসিংহ বিভাগের ৭১ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্বাদুপানি কেন্দ্রের চলমান গবেষণা কার্যক্রম ও অগ্রগতি সরেজমিনে প্রদর্শন করা হয়।


আরো সংবাদ

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi