১৭ আগস্ট ২০১৯

বিদ্যুতের গ্রাহক না হয়েও বকেয়া বিলের মামলায় কারাগারে জালাল

পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক না হয়েও বকেয়া বিলের মামলায় হাজতবাস করা মোঃ জালাল উদ্দিন মন্ডল - নয়া দিগন্ত

পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক না হয়েও বকেয়া বিলের মিথ্যা মামলায় আটক হয়ে কারাগারে হাজতবাস করেছেন এক ব্যক্তি। ৫ হাজার ৫১ টাকা বকেয়া বিলের মিথ্যে মামলায় তাকে আটক করা হয়। আটককৃত ভূক্তভোগী ব্যক্তির নাম মোঃ জালাল উদ্দিন মন্ডল (৫০)। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায়। আটককৃত জালাল উপজেলার বিরুনীয়া গ্রামের মুসলেম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে।

জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক না হয়েও বকেয়া বিলের মিথ্যা মামলায় ভূক্তভোগী মোঃ জালাল উদ্দিন মন্ডলকে তিন দিন হাজতবাস করতে হয়। অথচ বকেয়া বিল আদায়ের মামলা হয়েছে একই উপজেলার কাইছান গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ জামাল উদ্দিনের (জালাল) নামে। এদিকে হাজতবাসের পর হয়রানীর শিকার ব্যক্তি মামলার কপির জন্য বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তাকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি বলে তার অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী জালাল উদ্দিন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর গ্রাহক কাইছান গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ জামাল উদ্দিনের (জালাল) নামে ৩৫২-৫৩০০ নং হিসাব নম্বরে পাঁচ হাজার একান্ন টাকা বকেয়া বিলের অভিযোগ দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ভালুকার তৎকালিন এজিএম (প্রশাসন) মোঃ সেকান্দর আলী বাদী হয়ে বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ সালের ৪০,৩২(১) বিজ্ঞ স্পেশাল প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বিদ্যুৎ আদালতে মামলা (নম্বর ৬৬৩০/১৮) দায়ের করেন।

ওই মামলায় গত ১৩ এপ্রিল রাতে বিরুনীয়া গ্রামের মুসলেম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মোঃ জালাল উদ্দিন মন্ডলকে নিজ বাড়ি থেকে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে জেলা হাজতে প্রেরণ করে। তিনদিন বিনা অপরাধে তিনি হাজতে থাকার পর এক হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে জামিনে ছাড়া পান তিনি।

হয়রানীর শিকার ব্যক্তি জালাল উদ্দিন মন্ডল জানান, তিনি পল্লী বিদ্যুতের কোনো গ্রাহক নন। অথচ পাঁচ হাজার একান্ন টাকা বকেয়া বিলের মামলায় তিনদিন তাকে হাজত বাস করানো হয়েছে। জামিনে বের হয়ে তিনি ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর কার্যালয়ে গেলে অফিসের লোকজন তাকে মামলার কপি সরবরাহ করা তো দূরের কথা, কোনো সহযোগিতাই করেনি।

এ ব্যাপারে মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলকারী ভালুকা মডেল থানার এসআই মোস্তফা জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানায় আসামীর নাম ঠিকানা দেখেই তাকে গ্রেফতার করে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর এজিএম (অর্থ) তুহিন রহমান জানান, ভূক্তভোগী ব্যক্তিকে মামলার কপি দিতে জিএম স্যারের নিষেধ থাকায় তা দেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে জিএম প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে জানতে জিএম প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


আরো সংবাদ




bedava internet