১৯ জুলাই ২০১৯

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলায় তোপের মুখে মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি নেতা

মুক্তিযোদ্ধা
‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলায় আওয়ামী লীগের সমর্থক মুক্তিযোদ্ধাদের তোপের মুখে মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি নেতা - নয়া দিগন্ত

জামালপুরে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলায় তোপের মুখে পড়েন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মো: সিরাজুল হক। বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা তার ওপর চড়াও হতে গেলে পরিস্থিতি শামাল দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামালপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলা ১২টার দিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য মো: রেজাউল করিম হীরা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানাসহ জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা মো: সিরাজুল হক তার বক্তব্যে বাংলাদেশ জিন্দাবাদের যৌক্তিকতা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরিসহ জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে বক্তব্য শেষ করা মাত্রই মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতারা উচ্চস্বরে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে তার ওপর চড়াও হতে যান। এ সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর মুক্তিযোদ্ধাদের শামাল দেন। পরে পুনরায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সুজাত আলী ফকির বলেন, ‘সিরাজুল হকরা জয়বাংলা বলেই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে ‘জয়বাংলা’ না বলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলা মোটেই সমীচিন হয়নি তার। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের শাসনামল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান ধরতে পারেনি। আজকে জিয়াউর রহমানের অনুসারীরাই ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করতে চায়। আমরা সিরাজুল হকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

এদিকে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মো: সিরাজুল হক বলেন, ‘আমি কেন ‘জয়বাংলা’ না বলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বললাম এ নিয়ে আওয়ামীপন্থী মুক্তিযোদ্ধারা আমার ওপর ক্ষীপ্ত হয়ে হট্টগোল করে। আসলে তারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে স্বীকার করতে চান না বলেই হয়তো তাদের আঁতে ঘা লাগে।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উনার (সিরাজুল হকের) এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করা ঠিক হয়নি।’

আরো পড়ুন :
মুক্তিযোদ্ধা স্কুল কলেজের সাইনবোর্ড লাগিয়ে সরকারী জায়গা দখল
বগুড়া অফিস, ১৪ মার্চ ২০১৯
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর দাড়িকামারী পাড়ায় টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে সরকারী ৫৯ শতাংশ সম্পত্তি দখল করে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এ জায়গার একটি অংশে মাদ্রাসাও রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয়রা চলাচল করার সময় জায়গাটি নতুন টিন দিয়ে ঘিরে রাখা দেখতে পান। এর আগে ওই জায়গা সাজাপুর দাড়িকামারী পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসার দখলে ছিলো। এই ঘটনায় কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।

বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডর ও মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক আব্দুল মান্নান সরকার জানান, কারা জায়গাটি টিন দিয়ে ঘিরেছে তার জানা নেই। তবে তিনি ওই স্কুলের পরিচালক বলে তিনি স্বীকার করেন। ওই স্কুলের উপদেষ্টা হিসেবে নাম রাখা হয়েছে বগুড়া জেলা আ’লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একেএম আসাদুর রহমানকে।

শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর দাড়িকামারী পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল খায়ের জানান, জমিদারের ওয়ারিশরা জায়গাটা তাদের দান করেছেন। পরে জানতে পেরেছেন ৩০ শতাংশ খাস রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তারা পুরো জায়গাটা টিন দিয়ে ঘেরা এবং মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাইনবোর্ড দেখতে পান। ঘিরে নেয়া জায়গার মধ্যে তাদের মাদ্রাসাও রয়েছে।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়ারা খাতুন জানান, জায়গাটি খাস জমি। ওই জায়গাটি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জায়গাটিতে অবৈধভাবে একটি স্কুলের নামে সাইনবোর্ড দিয়ে ঘিরে দেয়ার সংবাদ পেয়েছি।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi