২৬ মে ২০১৯

ভ্রমণপিপাসুদের আগমনে মুখরিত সীমান্তের গজনী অবকাশ কেন্দ্র

ভ্রমণপিপাসুদের আগমনে মুখরিত সীমান্তের গজনী অবকাশ কেন্দ্র
ভ্রমণপিপাসুদের আগমনে মুখরিত সীমান্তের গজনী অবকাশ কেন্দ্র - সংগৃহীত

প্রকৃতি যেন এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। সে জন্যেই প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রতিদিনই সারাদেশ থেকে হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ এসে ভিড় জমাচ্ছেন ভারতের মেঘালয় ঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রে। আর এ কেন্দ্রের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে মুগ্ধ পর্যটকরা।

এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে শুধু দুচোখই জুড়ায় না, মনও ভরে যায়। তবে বুধবার পহেলা ফাল্গুন ও বৃহস্পতিবার বিশ^ ভালোবাসা দিবসে পর্যটকদের সংখ্যা ছিল অন্য দিনগুলোর চেয়ে ব্যাপক বেশি।

উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝিনাইগাতী উপজেলা কাংশা ইউনিয়নে গজনী পাহাড়ের প্রায় ৯০ একর পাহাড়ি টিলায় ‘গজনী অবকাশ’ কেন্দ্র নামে একটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ছোট-বড় গাড়িতে করে পর্যটকেরা আসেন এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সমতল ভূমি থেকে অবকাশ ভবনে ওঠা-নামা করার জন্য পাহাড় কেটে তৈরী করা হয়েছে অত্যন্ত আর্কষণীয় আঁকাবাঁকা ‘পদ্ম সিঁড়ি’। গারো পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য আকাশ আকাশচুম্বী ‘সাইট ভিউ টাওয়ার’। এছাড়া সবুজ গাছপালা ও উঁচু-নিচু টিলাও দেখা যাবে এক নিমিষে। শুধু তাই নয় অপরূপ রূপের চাদর মোড়ানো পাহাড় আর সেই পাহাড়ের পাশ ঘেঁষেই ভারতের মেঘালয় সীমান্তের অপরূপ দৃশ্য। পাহাড়ী টিলার সমতলে কৃত্রিম হ্রদে নৌবিহারের জন্য আনা হয়েছে ‘প্যাটেল বোট’।

শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত হয়েছে চুকু লুপি নামে শিশুপার্ক। শিশুপার্কে রয়েছে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক ট্রেন গজনী এক্সপ্রেস, নাগরদোলা ও বিভিন্ন রাইড। স্থাপন করা হয়েছে বন্য হাতি, ডাইনেসর, মৎস্য কন্যা, জিরাফ, বাঘ, হরিণ, পাখিসহ নানা ভাস্কর্য।

রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি। এছাড়া পাহাড় নেমে আসা পানিতে কৃত্রিম জলপ্রপাতও তৈরী করা হয়েছে। এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, অন্ধকার –আলো পরিবেশে নির্মাণ করা হয়েছে মাটির নিচ দিয়ে এক পাহাড় থেকে আরেক যাওয়ার পথ ‘পাতালপুরী’। রয়েছে ‘অমৃতলোক’ নামে আলাদা বিনোদনকেন্দ্র।

ওইখানে গারো মা ভিলেজেও ছোঁয়া লেগেছে নতুনত্বের। মাশরুম ছাতার নিচে বসে বা পাখি বেঞ্চে বসে পাহাড়ের ঢালে আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, দিগন্তজোড়া ধান ক্ষেত আর পাহাড়ী জনপদের ভিন্ন জীবনমান উপভোগ করা যাবে খুব সহজেই।

নরসিংদী থেকে আগত দর্শনার্থী দম্পতি আরিফুল ও স্মৃতি বলেন, এখানকার ন্যাচারাল সৌন্দর্য দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এত সুন্দর আশা করিনি। দারুণ অভিজ্ঞতা হলো। প্রতিবছর একবার আসার চেষ্টা করব এখানে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েই চলছে।


আরো সংবাদ

Instagram Web Viewer
agario agario - agario