২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
প্রধান আসামীসহ গ্রেফতার ৪

স্মার্টফোনের লোভে সোহাগকে গলাকেটে হত্যা করে বন্ধুরা

গ্রেফতারকৃত ৪ আসামী - নয়া দিগন্ত

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মোবাইলের জন্য কিশোর সোহাগ মিয়াকে গলা কেটে হত্যার সাথে জড়িত প্রধান আসামী সুমন (২০) ও তার সহযোগী ২ আসামীসহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। কিশোর সোহাগের খোয়া যাওয়া মোবাইল ট্রেকিং করে শুক্রবার সকালে পৃথক অভিযান চালিয়ে ঢাকার ডেমরা ও নালিতাবাড়ী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সোহাগের কাছে থাকা একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিতে উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের মৃত হেলাল মিয়ার ছেলে সুমন (২০), পাঁচগাঁও গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান (১৯) ও সন্নাসীভিটা গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে মনির (১৮) পরিকল্পনা করে। এরা তিনজনই মাদকাসক্ত। এরমধ্যে সুমন ও মেহেদী ভাসমান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ জানুয়ারি রোববার তিন বন্ধু মিলে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নিহত কিশোর সোহাগকে ফোনে সন্নাসীভিটা বাজারে ডেকে আনে। পরে এখান থেকে বিড়ি খাওয়ার কথা বলে সোহাগকে সন্নাসীভিটা উত্তরবন্দের ধানক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর বিড়ি খায় এবং কিছুক্ষণ গল্প করে।

একপর্যায়ে সোহাগের কাছে থাকা স্মার্টফোনটি নেয়ার চেষ্টা করে তারা। এসময় সোহাগ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় মেহেদী ও মনির সোহাগকে জাপটে ধরে এবং সুমন প্যান্টের পকেট থেকে ছুরি বের করে সোহাগের গলায় ধরে মোবাইলটি কেড়ে নিতে চায়।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গলায় আঘাত লাগলে সোহাগ গোঙ্গানি শুরু করে ও মাটিতে পড়ে যায়। এসময় মেহেদী এবং মনির সোহাগের পা ও মাথা চেপে ধরে ধানক্ষেতে শোয়ায়। সুমন ঠান্ডা মাথায় সোহাগকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ও মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার রাতেই সুমন তিনানী বাজার থেকে রাতের বাসে ঢাকায় চলে যায় এবং পরদিন রুমমেট ও গার্মেন্ট শ্রমিক পাঁচগাঁও গ্রামের ইমান আলীর ছেলে জসিমের (২০) কাছে ৩ হাজার টাকায় মোবাইল ফোন সেটটি বিক্রি করে দেয়।

এদিকে পরদিন সোমবার সোহাগের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ মোবাইল ট্রেকিং শুরু করে এবং ব্যবহৃত সীমের নিবন্ধন অনুযায়ী একজনকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শুক্রবার সকালে সীমের ব্যবহারকারী ডেমরায় অবস্থানকারী জসিমের কাছে পৌছায় পুলিশ।

জসিমের কাছে বিক্রেতা সুমনের নাম জেনে একই স্থান থেকে তাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সুমনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই সময়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে নালিতাবাড়ীর পাঁচগাঁও থেকে মেহেদী ও সন্নাসীভিটা থেকে মনিরকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা পুলিশের ওসি আবুল খায়ের জানান, সেহাগ হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধারে শনিবার অভিযান চালানো হবে এবং আসামীদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। তারা হত্যাকান্ডের বিবরণ দিয়ে নিজেদের অপরাধ কথা স্বীকার করেছে।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme