১৬ অক্টোবর ২০১৯

সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ

জামালপুরে মাওলানা সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ - নয়া দিগন্ত

‘কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যাকারী’ তাবলীগ জামায়াতের সাদপন্থীদের তথাকথিত ইজতেমা বন্ধের দাবিতে জামালপুরে বিশাল গণজমায়েত, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে তাবলীগ জামায়াতের জেলা মারকাজের শুরা সদস্য, আলেম-ওলামাসহ সাধারণ জনগণ।

মাওলানা সাদপন্থীদের তথাকথিত ইজতেমা প্রতিরোধ কমিটি জামালপুর শাখার আয়োজনে সোমবার সকাল ১০টায় শহরের পিটিআই গেটের সামনের সড়কে অবরোধ করার মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

এরপর দুপুর ১টার দিকে শহরের প্রধান সড়কে মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে ওই ইজতেমার অনুমতি না দেয়ার ঘোষণার দাবিতে জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

পরে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সাদপন্থীদের ইজতেমা করতে না দেয়ার আশ্বাস দেয় জেলা প্রশাসন।

এদিকে সদর উপজেলার তিতপল্লা মোড়সহ বিভিন্ন মোড়ে সমাবেশস্থলে আগতদের বাধা, ট্রাক ভাংচুর ও ট্রাকের চালকসহ অন্তত ২০ জন আলেম-ওলামাকে মারধর করে দুস্কৃতিকারীরা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। আহত মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক জানান, সদর উপজেলার তিতপল্লা এলাকায় ভন্ড কবিরাজ মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী লাঠিসোটা নিয়ে সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে ও তাদের বহনকারী ট্রাক ভাঙচুর করে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

সাদপন্থীদের সমাবেশ বন্ধের দাবিতে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুফতি মনির হোসেন, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা মেরাজুর রহমান, মুফতি আব্দুল্লাহ, মাওলানা আমানুল্লাহ কাশেমী, মুফতি মোস্তফা কামাল, হাফেজ মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আলা উদ্দিন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা মাসুদ হোসাইন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মুফতি সোয়েব আহমদ, মাওলানা এমদাদুল হক, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, হাফেজ হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

এ সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নে ইপিজেডস্থলে সাদপন্থীদের তথাকথিত ইজতেমা বন্ধের দাবি জানান।

এর আগে মাওলানা সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়। অন্যথায় তৌহিদি জনতাকে সাথে নিয়ে ওই ইজতেমাস্থলের প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয়ার পাশাপাশি কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা বলা হয়।

পরে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কোনো ঘোষণা না আসায় সমাবেশস্থলে উপস্থিত প্রায় ৪০ হাজার জনতা শহরের প্রধান সড়কে মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আলেম-ওলামা ও সাধারণ জনতা।

উল্লেখ্য, আগামী ১ থেকে ৩ নভেম্বর জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের ইপিজেডস্থলে জেলা ইজতেমার আয়োজন করেছে তবলীগ জামায়াতের সাদপন্থী অংশের আলেম-ওলামারা।

আরো পড়ুন: কাকরাইল মসজিদে তাবলিগের দুই গ্রুপের মারামারি
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৮ এপ্রিল ২০১৮

কাকরাইল মসজিদে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভি ও আলমি শুরা গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।


এদিকে উত্তেজনা নিরসনের জন্য কাকরাইল মারকাজের শুরা সদস্যদের নিয়ে জরুরির বৈঠকে বসেছেন ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জানা যায়, শনিবার সকালে মাওলানা সাদ কান্দলভির অনুসারী তথা ওয়াসিফুল ইসলাম গ্রুপ এবং বাংলাদেশের আলমি শুরা অনুসারী তথা মাওলানা যুবায়ের আহমদ গ্রুপ-এর মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই গ্রুপকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


পরে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাকরাইল মারকাজের শুরা সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।


জানাগেছে, কাকরাইলে তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র (মারকাজ) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরোধীরা দখল করে নিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে কাকরাইল মসজিদে এনে তাঁরা মারকাজে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। সাদের দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত আর এ দেশে বাস্তবায়িত হবে না বলেও তাঁরা ঘোষণা দেন।

মাওলানা সাদ কান্ধলভী ভারতীয় নাগরিক। তিনি তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর নাতি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বিভেদের সৃষ্টি হয় সর্বশেষ বিশ্ব ইজতেমা থেকে। ওই সময় তাঁকে টঙ্গীতে ইজতেমায় যেতে দেওয়া হয়নি। বিরোধিতার মুখে কাকরাইলে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিভিন্ন সময় ইসলাম ধর্ম নিয়ে তাঁর কিছু বক্তব্যের জের ধরে এই বিরোধের সূত্রপাত হলেও নেপথ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানা গেছে।


মুসল্লিরা জানান, সাদ-বিরোধীরা কয়েক দিন ধরে মারকাজ ও এর পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসায় বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের জড়ো করতে শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাঁরা মারকাজসংলগ্ন কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার দুটি কক্ষে মোবাইল ফোন ‘জ্যামার’ বসান। এতে পুরো মারকাজের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সকালে দৈনন্দিন পরামর্শ সভা থেকে সাদের সিদ্ধান্ত আর না মানার ঘোষণা দেয়া হয়।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum