২৩ এপ্রিল ২০১৯

বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে প্রান হারালেন কৃষক

-

বার বার বেহুশ হয়ে পড়ছে সাবিকুন। কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান ফিরতেই শুরু হয় বিলাপ। কেন সে দুদিনের জন্য নানারবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। বাড়িতে থাকলে তো বাবার শেষ কথা আর শেষ হাসিটা দেখতে পেতো সে। এখন কে দেখবে তাদের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে পাগল প্রায় সাবিকুনের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে চারপাশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে প্রান হারান ময়মনসিংহের ত্রিশালের রামপুর ইউনিয়নের কাকচর গ্রামের কৃষক হেদায়াতুল ইসলাম ওরফে গেদু মিয়া (৪৫), আহত হন তার একমাত্র ছেলে কাউসার আহমেদ (১৬)। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনার কারনেই ওই দুর্ঘটনার ঘটেছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ছেলে কাউসার আহমেদকে নিয়ে ক্ষেতে মই দিতে (চাষ করতে) যান কৃষক হেদায়াতুল ইসলাম ওরফে গেদু মিয়া। মই দিতে দিতে হটাৎ বাবা-ছেলে দু’জনই জড়িয়ে যান মাটিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে। এ সময় ট্রাক্টর চালক মজিবর রহমান টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে থাকেন। তার ডাকে ছুটে আসেন অনেকেই। কিন্তু ওই বিদ্যুতের তারের মুল খুঁটি ছিল অনেক দুরে। প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে গেদু মিয়া ও কাউসার কে শুকনো বাঁশের সাহায্যে তার সরিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে চিকিৎসক কৃষক হেদায়াতুল ইসলাম ওরফে গেদু মিয়াকে মৃত ঘোষনা করেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন কাউসার আহমেদ।
গত কয়েক মাস ধরেই বড়মা-কাকচর ফাজিল মাদরাসার বিদ্যুতের তারের বাশেঁর একটি খুঁটি ভেঙ্গে মাটিতে তার পড়েছিল। স্থানীয়রা বহুবার নতুন খুঁটি স্থাপনের জন্য বলার পরও কোন ব্যবস্থা নেননি মাদরাসার অধ্যক্ষ কিংবা কর্তৃপক্ষ। তবে কৃষক গেদু মিয়া ও তার ছেলেকে হাসপাতালে নেয়ার পর অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেনের নির্দেশে নতুন খুঁটি স্থাপন করেন কর্মচারি নূরুল ইসলাম ও আবদুল বাতেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনার কারনেই ওই দুর্ঘটনার ঘটেছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। এ ব্যাপারে ত্রিশাল থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলে জানান ওসি (তদন্ত) ফায়েজুর রহমান। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত লাশ মমেক মর্গেই ছিল।
বিকেলে গেদু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী হালিমা বেগম, বড় মেয়ে সাবিকুন নাহার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ। বাবার সঙ্গে শেষ কথা বলতে না পারার যন্ত্রনায় বার বার বেহুশ হয়ে পড়ছে সাবিকুন।
স্থানীয় আবদুল হাকিম, আবদুল জব্বার, হৃদয় আহমেদ জানান, গত কয়েক মাস ধরে বড়মা-কাকচর ফাজিল মাদরাসার বিদ্যুতের তারের বাশেঁর একটি খুঁটি ভেঙ্গে তার মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে আমরা বহুবার নতুন খুঁটি স্থাপনের জন্য বললেও কোন ব্যবস্থা নেননি মাদরাসার অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন। ব্যবস্থা নেয়নি ম্যানেজিং কমিটির কেউ।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেনকে মাদরাসায় না পেয়ে মুঠোফোনেও তার সঙ্গে যোগাগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat