২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ধর্মমন্ত্রীকে ‘রাজাকার’ বলায় নিহত যুবলীগ নেতার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

ধর্মমন্ত্রীকে ‘রাজাকার’ বলায় নিহত যুবলীগ নেতার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা - ছবি : সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলায় নিহত যুবলীগ সদস্য সাজ্জাদ আলম আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলুসহ (৩২) ৯ জনের নামে মানহানির মামলা করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জেলা শাখার যুগ্ম-আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন। মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ নং আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা খানম মামলাটি আমলে নিয়ে দিলরুবা আক্তার দিলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

বাদী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আল হোসাইন তাজ জানান, গত ২৮ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুরে শহরের শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্ত্বর থেকে গাঙিনাপাড় মসজিদ এলাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে দিলরুবা আক্তার দিলু জনসম্মুখে বক্তব্য প্রদানকালে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যায়িত করেন। আসামিদের উক্ত মিথ্যা কুরুচিপূর্ণ উক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে দেশে-বিদেশে প্রচার হওয়ায় অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে হেয়-প্রতিপন্ন ও তার মানসম্মান বিনষ্ট করায় একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী মামলাটি দায়ের করেছেন বলে উল্লখ করেন। আসামীগণের ওই উক্তি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলায় আজাদ শেখের তিন বোন তুলি, হাসিনা ও ইতি, আনোয়ারা আনু, ফরিদা, আলমগীর হোসেন আলম শেখ, মানিক ও শেখ ছাব্বিরকে আসামি করা হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মহানগর যুবলীগ সদস্য সাজ্জাদ আলম আজাদ শেখ নিহত হন। এ ব্যাপারে আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু ধর্মমন্ত্রীর ছেলে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তকে প্রধান আসামী করে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮/১০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ মামলাটি গ্রহণ না করায় আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলুর পক্ষে আইনজীবি আফিল উদ্দিন হাইকোর্টে রিট করলে ৩০ আগষ্ট হাইকোর্ট আজাদ শেখ হত্যার অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিলে গত শুক্রবার রাতে কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে।

আরো পড়ুন :

মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় মাকে মারধর
মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদ করায় ওই ছাত্রীর মা নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মধ্য গোবরিয়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

ছাত্রী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার দিকে ছাত্রীর মা খাবার নিয়ে স্থানীয় কাজীর মোড় বাজারে ছাত্রীর পিতার মিষ্টির দোকানে যায়। এ সুযোগে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মেরছু মিয়ার পুত্র আশিকুর রহমান ওরফে স্বজল (১৬) কৌশলে ওই ছাত্রীর বসত ঘরে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছাত্রীর ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসতে দেখে স্বজল পালিয়ে যায়। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে ছাত্রীর মা স্বজলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে প্রতিবাদ করায় স্বজলসহ তার বাড়ির মৃত সৈয়দ আলীর পুত্র মেজবাহুল হক খোকা (৪৫), মৃত মনছুর আলীর পুত্র সুমন (৩০), মৃত নূরুল ইসলামের পুত্র কুদ্দুস (৫০) ও মহরম আলীর পুত্র বাচ্চু মিয়া (৩৫) সহ ৬-৭ জন নারী পুরুষ মিলে ওই ছাত্রীর মাকে এলোপাথারী মারধর করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।


এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কথা হয় ওই ছাত্রীর পিতার সাথে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নান্নু মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল।


আরো সংবাদ