২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এই অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিন মাষ্টারকে

এই অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিন মাষ্টারকে - নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাষ্টারের চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল ও দা।

গত ৩ জুলাই মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাষ্টার (৬৫) কে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন হত্যাকান্ডের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারছিল না থানা এবং ডিবি পুলিশ। তখন ওই মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৩ আগস্ট মামলা হাতে পাওয়ার পর ১৮ দিনের মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচজনকে আটক করেছে পিবিআই।

পিবিআই জানায়, জমির প্রকৃত মালিকদের পক্ষে ও স্থানীয় জমির দালালদের বিপক্ষে কাজ করতেন আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাষ্টার। তার হস্তক্ষেপের কারনে ন্যায্য মূল্য ছাড়া সাধারন মানুষের জমি জোর জবরদস্তি করে দখলে নিতে পারত না দালালরা। সাধারন মানুষের পক্ষ নেয়াটাই কাল হয় মতিন মাষ্টারের। স্থানীয় রাজনীতি ও আকিজ গ্রæপের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের জন্য আগে থেকেই ওত পেতে বসে ছিল খুনিরা। ওইসময় তাদের মধ্যে একজন মতিন মাসটারের গলায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ দেয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত কয়েকজন মিলে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখে তাকে। পিবিআই আরো জানায়, মুক্তিযোদ্ধা হত্যার পরিকল্পনাকারী বা মূলহোতা ছিল সাবেক ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন আকন্দ ও উপজেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রুবেল। রুবেল আটক হলেও মোবারক মেম্বার এখনো পলাতক রয়েছে। আটককৃতদের জবানবন্দিতে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের মূল রহস্য। সেলিম ডাকাতের দেয়া তথ্য মতে তার নিজ বাড়ী থেকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি দা। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মতিন মাস্টারকে হত্যাকান্ডের সময় উপস্থিত ৭ জনের মধ্যে পাঁচজনকে আটক করেছে পিবিআই।

আটককৃতরা হলো, উপজেলার রায়মনি গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে উপজেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রুবেল, নারায়নপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে ইদ্রিস আলী, একই গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে সেলিম ডাকাত, তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সোহাগ ও খাগাটি গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে জমির দালাল দুলাল উদ্দিন।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক (পিবিআই) বলেন, আটককৃতদের জবানবন্দি অনুযায়ী সাধারন মানুষের পক্ষ নেয়া, স্থানীয় রাজনীতি ও আকিজ গ্রুপের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

 


আরো সংবাদ