২৩ জুলাই ২০১৮

ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার উপর হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

-

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগনেতা মজিবুর রহমানের উপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের দু’টি গ্রুপ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে।
জানা যায়, গত ৩০ জুন রাত ৯টার দিকে পৌর এলাকার হামপাতাল রোডে দুর্বৃত্তরা চোখে মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে কুপিয়ে আহত মারাত্মক আহত করে।
আহত মজিবুর রহমান ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে । তিনি ঈশ্বরগঞ্জ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী। ৩০জুন শনিবার রাতে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের খেলা চলার সময় ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতাল রোডের মারফত চেয়ারম্যান কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার ক্লাব ঘর থেকে নিচে নামতেই মজিবুরের ওপর হামলা হয়।
মজিবুর ও তার বন্ধু রায়হানকে নিয়ে সড়কে নামতেই পূর্ব থেকে অপেক্ষায় থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাদের চোখে মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। ওই সময় দৌড়ে রায়হান সরে গেলেও মজিবুরকে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে কোপায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ওইদিন রাতেই রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। বর্তমানে ওখানেই তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। মজিবুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩৯টি কোপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বিষয়টি নিয়ে পর দিন ১জুলাই মজিবুরের উপর হামলার বিচার চেয়ে পৌর এলাকায় বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ। ওই দিন বিকেলে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান কাঞ্চন, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা আবু হানিফা সহ ৯জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত নামা আরো ১৫জন কে আসামী করে মজিবুর রহমানের বড় ভাই আতাউর রহমান বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। বিষয়টি নিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে রাজনৈতিক প্রতি হিংসার অভিযোগ তুলেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতারা ও আসামী পক্ষের লোকজন। এতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরগঞ্জ ডিগি কলেজের শিক্ষার্থী ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগ যৌথ আয়োজনে কলেজ গেইটের সামনে মানববন্ধন করে।
মানবন্ধনে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতা মজিবুর রহমানের উপর হামলাকারীদের শাস্তি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জানাননো হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান কাঞ্চন, ছাত্রলীগ নেতা, রায়হান আহমেদ বাবু, রানা আহমেদ, শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা পর্ণা ও রমজান আলী। এ সময় ছাত্রছাত্রীদের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন, কলেজের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন কামাল, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফা হানিফ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কামরুল হাসান জুয়েল।


আরো সংবাদ