১৯ জুন ২০১৮

কন্ঠশিল্পী আসিফের জামিন আবেদন প্রত্যাহার

কন্ঠশিল্পী আসিফের জামিন আবেদন প্রত্যাহার। -

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের জামিনের আবেদন করে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার সি.এম.এম আদালতে জামিন আবেদন করলে রোববার ঢাকার অতিরিক্ত সি.এম.এম কায়সারুল ইসলাম এর আদালতে শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য হয়। কিন্তু এ দিন ওই বিচারক ছুটিতে থাকায় শুনানীর জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরীর আদালতে শুনানীর জন্য উপস্থাপন করা হয়। সে কারনে আসিফ এর আইনজীবীগন শুনানী না করে আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেয়। কারন হিসাবে তারা উল্লেখ্য করেন যেহেতু অতিরিক্ত সি.এম.এম আদালতে শুনানী করা সম্ভব হয়নি সে কারনে জামিন আবেদনটি প্রত্যাহার করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১ জুন রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪ এর সার্চ লাইট নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে শফিক তুহিন জানতে পারেন, আসিফ আকবর তার অনুমতি ছাড়া তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানা যায়, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল প্রাইভেট লিমিটেড কনটেন্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লিমিটেড গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাদুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এরপর শফিক তুহিন গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন। পরের লাইভ ভিডিওতে আসিফ অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দেন। এ ছাড়া শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। এতে শফিক তুহিনের মানহানি হয়েছে।

 

আরো দেখুন : সমঝোতা নয়, আদালতে বিশ্বাসী আসিফ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর এখন কারাগারে। বিষয়টি নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে শোবিজ অঙ্গনে। যেহেতু মামলার বাদী-বিবাদী উভয়ই একই অঙ্গনের মানুষ। তাই সমাঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিস্পত্তির পক্ষে মতামত দিয়েছেন অনেকে। তাছাড়া আসিফ শারীরীকভাবেও সুস্থ নন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এই অবস্থায় আসিফ কি সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করতে চান কিনা জানতে চাওয়া হলে আসিফের স্ত্রী কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার পরিবারের একজন জানিয়েছন, আসিফের সাথে ৭ জুন দেখা হয়েছিল তাদের। আপোস-মীমাংসা কথা বললে আসিফ বলেছেন, ‘কোনো ধরনের মাথানত করব না। কারণ আমি কোনো অপরাধ করিনি।’ আর এ কথা আদালতে বিচারকের সামনেও বলেছেন বলে জানা যায়।

এর আগে আসিফকে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক প্রলয় রায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের এবং আসামির জামিনের জন্য চাওয়া উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে আসামির আইনজীবী ওমর ফারুক জানান।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার এফডিসি এলাকায় আসিফ আকবরের স্টুডিও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


আরো সংবাদ