২৪ জানুয়ারি ২০২০

এস কে সিনহার দুর্নীতির মামলা স্পেশাল জজ আদালতে বদলি

-

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলাটি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি নাজমুল হুদার মামলায় সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পায়নি মর্মে তাকে অব্যাহতির প্রার্থনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।
গতকাল প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার প্রতিবেদনটি দেখেন। এরপর পরবর্তী বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।
বাদি তার মামলার অভিযোগে বলেন, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে দুর্নীতির একটি মামলা ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ হাইকোর্ট বাতিল করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ৭ জুন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দুদকের লিভ টু আপিল খারিজ করেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি পত্রিকায় ‘জামিন ছাড়াই বছর পার নাজমুল হুদা ও স্ত্রী’র শিরোনামে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে দুদকের লিভ টু আপিল মঞ্জুর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পরে আপিল বিভাগে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, দুদকের লিভ টু আপিল মঞ্জুর হয়েছে। এরপর তিনি বুঝতে পারেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার জমাদারের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ডেকে নিয়ে যান এবং বলেন, একজন সংসদ সদস্য তাকে নগদ দুই কোটি টাকা দিতে চেয়েছেন। যদি একটি মামলায় নাজমুল হুদার সাজা নিশ্চিত করেন, যাতে করে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হন।
যদি দুই কোটি টাকা এবং আপিল বিভাগে ব্যারিস্টার হুদার প্রদত্ত আড়াই কোটি টাকার একটি ব্যাংক গ্যারান্টির রিলিজ আবেদনের বিপরীতে ব্যাংক গ্যারান্টির এক কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রদান করেন তবে তিনি ও তার স্ত্রীর মামলাগুলোয় মুক্তির ব্যবস্থা নেবেন। যদি না দেন, তবে ব্যাংক গ্যারান্টিতে উল্লিখিত হাইকোর্টের মামলার পুনঃশুনানি করবেন এবং ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজের পথ বন্ধ করে দেবেন। এই প্রস্তাবে তিনি সম্মত না হওয়ায় রায় পাল্টে দিয়েছেন।


আরো সংবাদ